ভালোবাসি তোমায় ১ম (চ্যাপ্টার২)

ইঞ্জা ১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, শুক্রবার, ০৭:৪৪:৩০অপরাহ্ন গল্প ১৪ মন্তব্য

 

 

 

গত গল্পের শেষে
———————
অবণী রেডি হয়ে বেরুচ্ছে, ডাক দিলো মা, মা কই আপনি, আমি বেরুচ্ছি।
আসছি, পাক ঘর থেকে জবাব দিলেন অভির মা, দৌড়ে এলেন ড্রয়িং রুমে, বলেন তুমি এমন কষ্ট করলে চলবে, এমন দিন নেই তুমি অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকোনা, বন্ধের দিনও বাদ যায়না।
মা আপনি তো জানেন সব কিছু, এরপরেও, কি করবো বলুন?
তাও ঠিক।
অবণী ঝুকে অভির মার পা ছুঁয়ে সালাম করলো আর বললো, আসি মা।
আল্লাহ্‌ হাফেজ।
অবণী বেড়িয়ে গিয়ে গাড়ীতে উঠলো আর নিজে ড্রাইভ করে বেড়িয়ে গেলো।
অভির মা ভিতরে এসে থমকে গেলেন এরপর জিজ্ঞেস করলেন, তুই কখন নেমে এসেছিস?
অভি ওয়াকার দিয়ে হাটতে হাটতে সোফার ধারে গিয়ে সোফা ধরে বসে পড়লো আর বললো, তুমি যখন ওই মেয়েটাকে বিদায় দিচ্ছিলে তখন এসেছি, মা মেয়েটা কে?
তুই মনে করতে পারছিসনা?
না।
অভির মা বড় করে এক নিশ্বাস ফেললেন কারণ অভি যে তার গত দুই বছরে যা হয়েছে তা সব ভুলে গেছে।

গল্পের শুরু
—————

আমি তোর ব্রেকফাস্ট দিচ্ছি, বলেই অভির মা দ্রুত কিচেনের দিকে এগুলেন, ইচ্ছে করেই অভিকে এড়িয়ে গেলেন উনি, ডাক্তাররা নির্দেশ দিয়েছেন যেন অভির সাথে এমন কথা বা ব্যবহার করা যাবেনা, যাতে ওর ব্রেনে চাপ পড়ে, বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
অভি এসেছে বেশি দেড়ি হয়নি, তখন থেকেই অবণী ওর থেকে লুকিয়েই থাকে, ভয় পায় যদি অভির কোনো ক্ষতি হয়ে যায়?
আজ অভি ওকে দেখেই ফেললো, যদিও পিছন থেকে দেখেছে, শাড়ীর আঁচল দিয়ে অভির মা মাথার ঘাম মুছলো, মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন, আজ অবণীর সাথে কথা বলতে হবে।
মা, আমাকেও ব্রেকফাস্ট দাও, ভাইয়ার সাথে খাবো, প্রিয়ন্তী ডাক দিয়ে বললো।
কিরে আজ কলেজে যাবিনা, অভি বোনকে জিজ্ঞেস করলো।
প্রিয়ন্তী চমকে উঠলো প্রথমে, এরপর ধাতস্থ হয়ে বললো, ভাইয়া তুমি তো ছিলেনা তাই জানোনা, আমার পরীক্ষা শেষ তাই কলেজ বন্ধ দিয়েছে।
আচ্ছা আমার কি হয়েছে, আমি হাটতে পারছিনা কেন, অভি সন্দেহ নিয়ে নিজের পায়ের দিকে তাকালো।
ওমা তুই ভুলে গেছিস, তোর এক্সিডেন্ট হয়েছিলো, অভির মা ব্রেকফাস্ট টি টেবিলে রাখতে রাখতে বললেন।
কই, কখন, মনে পড়ছেনা তো, অবাক চোখে তাকালো অভি।
তুই খাওয়া শুরু কর, আজেবাজে কথা বাদ দে, অভির মা ধমক দিলেন।

লিফটের দরজা খুলে গেলে অবণী বেরিয়ে অফিসের ভিতরে প্রবেশ করলে সবাই দাঁড়িয়ে সম্ভাষণ করতে লাগলো, অবণী সম্ভাষণের জবাব দিয়ে সোজা অভির কেবিনে গেল, ভিতরে প্রবেশ করে অভির চেয়ারের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
আজ ও যে অবস্থায় পড়েছে, সেইখান থেকে উদ্ধারের আশা অনেক কম, অভি আজ ওকে চিনেনা, সে ভুলে গেছে সব কিছুই, তাদের ভালোবাসাটা কতো কষ্টের পরে পাওয়া আর আজ, আজ অবণীর অস্তিত্ব বলে কিছুই নেই অভির কাছে।
অবণীর চোখ দিয়ে ঝরঝর করে জল বেড়িয়ে এলো, ভাবতেই পারছেনা এখন ও কি করবে, কই যাবে?
চোখটা মুছে নিলো অবণী, হাত ভুলালো অভির চেয়ারে, এরপর বেরিয়ে এলো আর পাশের রুমের দিকে এগুলো।
অবণীকে দেখে পিয়ন দরজা খুলে সালাম দিলো, অবণী রুমে প্রবেশ করলে দরজা বন্ধ করে দিলো, অবণী এগিয়ে গিয়ে চেয়ারপার্সনের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে গিয়ে বসলো, অভির রুমে বসতে না চাওয়ায়, অভির মা জোর করে উনার কেবিনে বসান অবণীকে, এইখান থেকেই অবণী সকল কর্মকাণ্ড সামলা।
ইন্টারকম তুলে নিয়ে ম্যানেজার সাহেবের নাম্বারে চাপ দিয়ে বললো, স্যার রুমে আসবেন।
আসছি মা, অপর প্রান্ত থেকে জবাব দিলেন ম্যানেজার সাহেব।
একটু পরেই চলে এলেন উনি, মা বলো?
বসুন স্যার।

অভির ব্যাপারে তো জানেন, এই অবস্থায় ও যেদিন অফিসে এসে আমাকে দেখবে, তখন তো বিপদ হয়ে যাবে, উদ্বিগ্ন অবণী বললো।
আসলেই তো বিপদের কথা, এখন কি হবে?
দরজায় নক শুনে চোখ তুলে তাকালো অবণী, দেখলো অভির মা প্রবেশ করছেন, অবণী আর ম্যানেজার দুজনেই দাঁড়িয়ে গেলো, মা আপনি, অবণী জিজ্ঞাসার স্বরে জিজ্ঞেস করলো।
বসো বসো, তোমাদের সাথেই কথা বলতে এসেছি।
মা আপনি এইখানে বসেন, অবণী নিজের চেয়ার ছেড়ে দিলো।
না মা, তুমিই বসো, আমি এইখানেই বসছি, বলেই উনি সামনের চেয়ারে বসে পড়েন।
অবণী ইতস্তত করে বললো, মা তাহলে চলুন সোফায় বসি, ইন্টারকমে কল দিয়ে বললো, তিনটা কফি আর বিস্কিট দিয়ে যাও।
তিনজনই সোফায় গিয়ে বসার পর অভির মা বললেন, আজ তুমি বেড়িয়ে যেতে দেখেছে, প্রশ্ন করছে তুমি কে, আমি এড়িয়ে গেছি।
ওহ আল্লাহ্‌ এখন উপায়, উদ্বিগ্ন হলো অবণী।
আমি অনেক চিন্তা করেছি এই বিষয়ে, তারপর এসেছি এইখানে।
ওর সাথে প্রিয়ন্তী আছে তো মা?
হাঁ আছে, এখন তুমি কি বলো, অবণীকে জিজ্ঞেস করলেন উনি।
মা আমি ভাবছি ওর কথা।

কী?
আমি চিন্তা করলাম, আমার এখন ওখানে থাকা উচিত না, অবণী বললো।
কি বলিস, উদ্বিগ্ন হলেন অভির মা, নাহ তুই অন্য কিছু চিন্তা কর।
মা বুঝেননা কেন, ওই বাসায় আমিমি থাকবো, ঘোরাফেরা করবো, ও আমাকে দেখবে, প্রশ্ন করবে আমি কে, কি বলবেন তাকে?
চিন্তার রেখা ফুটে উঠলো অভির মার কপালে।
মা এছাড়া আর কোনো উপায় নেই, আপনি জানেন আমিও পারবোনা, এরপরেও এইটা করতে হবে আমাদের, সাথে আরেকটা কাজ আপনাকে করতে হবে।
কী?
আমি রিজাইন করবো, আপনি একসেপ্ট করবেন।
অসম্ভব, বলেই দাঁড়িয়ে গেলেন উনি।
মা, ও তো এইখানেও আমাকে দেখবে?
দেখুক, এ তোমার কোম্পানি, তুমিই মালিক, তোমাকে এইখানে থাকতে হবে, অভির মা জোড় গলায় বললেন।
অভি স্যারকে আমরা বলবো চেয়ারপার্সন ম্যাডাম আপনাকে নিয়োগ দিয়েছেন, দরকার হলে সেই ব্যবস্থায় নেবো অবণী মা, ম্যানেজার সাহেবও যোগ করলেন।
সেইটাই ভালো, ম্যানেজার সাহেব আপনি ব্যবস্থা নিন।
নাহ, না মা, সিইও পদে থাকলে অভির সন্দেহ হবে, এর চেয়ে ভালো হবে আমি যদি ওর সেক্রেটারি পদে ফিরে যাই।
না এ অসম্ভব।
মা, এতে আমার সুবিধা হবে, আমি সারাক্ষণ ওর পাশে থাকতে পারবো, আপনি না করবেনা মা।
ম্যানেজার সাহেব, আপনি ব্যবস্থা নিন, সাথে অবণীর সিইও পদও অক্ষুণ্ণ থাকবে, যা শুধু আমরাই জানবো, অফিসের সবাইকে জানিয়ে দেবেন, নো মিস্টেক।
ওকে ম্যাডাম।

রিস্টওয়াচে সময় দেখে অভির মা বললেন, অবণী আজ তো হাফ ডে, চলো বাসায় যাবে।
মা আমার যাওয়া ঠিক হবে?
হবেনা কেন, অভি তার সেক্রেটারির সাথে পরিচিত হতে হবেনা, মিষ্টি হেসে অভির মা বললেন।
অবণীও হেসে দিয়ে বললো, চলুন।
দুজনে অফিস থেকে বেরিয়ে অভির মার গাড়ীতে উঠলো।
বাসায় যখন পোঁছাল তখন দুইটা বেজে গেছে, পথে প্রিয়ন্তীকে সব বুঝিয়ে বললো আর অভি ছাড়া ঘরের সবাইকে বলে দিতে বললো অবণী।
ঘরে প্রবেশ করেই অভির মা বললেন, তুমি সোফায় বসো, অভিকে ডেকে নিচ্ছি।
ডাকতে হবেনা মা, ভাইয়াকে নিয়ে এসেছি, প্রিয়ন্তী লিফট থেকে অভিকে নিয়ে বেড়িয়ে এলো।
অভির মা অভির দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন, তুই সকালে জিজ্ঞেস করে ছিলিনা, আয় পরিচয় করিয়ে দিই।
অভি ওয়াকারের সাহায্যে এগিয়ে এলো অবণীর সামনে, অবণীর চোখে চোখ রেখে বললো, আমি কি আপনাকে চিনি?
জি স্যার, আমি অবণী আপনার পারসোনাল সেক্রেটারি, অবণী সহজ হওয়ার চেষ্টা করলো, চোখ চিকচিক করে উঠলো, আজ কতোদিন পরে ও অভির সামনে দাঁড়িয়ে।
অভিও অবণীর চোখে চোখ রেখে দেখছে, যেন সে অবণীর চোখ দেখে কিছু বুঝার চেষ্টা করছে।

________ চলবে।
ছবিঃ Google.

ইঞ্জাঃ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা অনিঃশেষ, ঈদ মুবারক।

৭১৯জন ৭২১জন

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

মাসের সেরা ব্লগার

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ