ভয়কে জয়

‘কবিতা পাঠ আসরে’ স্বরচিত কবিতা পাঠে নিমন্ত্রণ পেয়েছি। রাত্রি ৯ থেকে শুরু হবে অনুষ্ঠান। প্রথমে যেতে না চাইলেও এক বড় আপার অনুরোধে রাজী হতে বাধ্য হলাম। আপা বললেন আমি কল দিলে বের হয়ে মেইন রোডে এসো একসাথে যাবো। ঠিক আছে বলে ফোন রেখে দিলাম। তারপর পরলাম চিন্তায়। আমার বাসা থেকে মেইন রোড কিছুটা দূরে। রাত আটটার পরে একা যাওয়া খানিকটা রিক্স হবে। বাসা থেকে বের হয়ে ফাঁকা অন্ধকার রাস্তা। নিয়ন বাতির আলো আর অন্ধকার মিলে মিশে আবছায়া পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যাতে কোনো মেয়ের একার চলার জন্য ভয়েরই বটে।

 

আপা কল দিলে বেড়িয়ে পড়লাম। এমনিই আবছায়া পরিবেশ তারউপর মাস্ক পরার কারণে চশমা ঘোলা হয়ে গেছে। উঁচু নিচু স্থানে পড়ে বার বার মসকে যাচ্ছে পা। বেশ বিরক্তিকর অবস্থা। এভাবে কিছুটা পথ আসার পরে দেখছি সামনের দিকে এগিয়ে আসা একটা মানুষ দাঁড়িয়ে পড়লো। বুকের মধ্যে ছ্যাঁৎ করে উঠলো। মনে হলো ভয় পাচ্ছি। কিন্তু ভয় পেলে চলবে না। ভালো করে আশপাশটা দেখে নিলাম আর কেউ আছে কিনা। নাহ্ আর কেউ নেই দেখে মনে প্রচণ্ড সাহস নিয়ে গিয়ে যাচ্ছি আর একা একাই বিড়বিড় করছি। যদি সামনে আসে সাথে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ দিয়েই আঘাত করবো। ব্যাগের মধ্যে ক্যামেরা আছে তাই ওটা খুব ভারী আর একবার আঘাত করলে সেই আঘাত সামলাতে সামলাতেই আমি চলে যেতে পারবো ইনশাআল্লাহ। তাই কনুয়ের সাথে ঝুলে থাকা ব্যাগটা হাতে নিয়ে  দ্রুত গতিতে পা চালালাম। মানুষটাকে ওভারকাম করে সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম আর কান সজাগ রাখলাম পিছুন পিছুন আসছে কিনা! কোনো রকম পায়ের আওয়াজ না পেয়ে নিশ্চিত হলাম পিছুনে কেউ নেই। ভয়কে জয় করে রিলাক্সে চলে গেলাম বাকী পথ।

মোট পড়েছেনঃ ১,১৯৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২২টি মন্তব্য

    1. আপনার এই কথাটা মানতে পারলাম না। কবিতা পাঠের আসরে কি সৈন্য সামন্ত নিয়ে যাবে? পথ কারও বাবার না। নৈতিক স্বাধীনতা সবার কাম্য। মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি।

    2. যেখানে বাবা মায়ের সামনে সন্তান সেইভ নয়, স্বামীর সাথে স্ত্রী সেইভ নয় সেখানে রিক্স না হয়ে ঘরে বসে থাকা সঙ্গত বলে মনে করছি না। ধন্যবাদ ভাইয়া

    1. এই কলম থামিয়ে দিতেই উদ্যত কেউ কেউ। তা হোক এসবে পাত্তা দিচ্ছি না দেবও না
      আন্তরিক ধন্যবাদ ভাইয়া
      ভালো থাকুন সবসময়

  1. হুম দারুন সাহসী আপনি তা আমরা সবাই কম বেশি জানি। 🌹🌹 শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য। এভাবেই ভয়কে জয় করে সামনে এগিয়ে যান

    1. বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সাহসটায় একমাত্র সম্বল। মনে জয় জেঁকে বসলে নিজেকে নিরাপত্তা দেবো কী করে?
      ধন্যবাদ দিদিভাই
      ভালো থাকুন সবসময়

    1. একদম ঠিক বলেছেন আপু। আগে ওটাকেই জয় করতে হবে তবেই না নিজেকে নিরাপদ রাখা যাবে।
      ধন্যবাদ অশেষ আপু
      ভালো থাকুন সবসময়

    1. ঐ মুহূর্তে ওটুকুই ছিল সম্বল। সাহসটা জরুরি ছিল নয়তো ভয়ের কারণেই খারাপ কিছু একটা হতো।
      ধন্যবাদ ভাইয়া
      ভালো থাকুন সবসময়

  2. প্রস্তুত সবসময় থাকতে হবে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে।
    সাহস রাখতে হবে ।
    তবে আমার মানতে কষ্ট হয় কুকুর ও নাকি বিনাকারনে কামড়ে দেয় না। আমি কোথায় যাব কি করব আমার ব্যাপার। মানুষরুপী কুকুর রা কেন ওত পেতে থাকে বুঝি না।
    শুভ কামনা।

    1. আসলে আপু ভয় ঢুকে গেছে মনে মননে। একা তো ছাড়ুন দোকাতেও কী আমরা নিরাপদ? তাই নিজেকে নিজের সেইভ করতে জানতে হবে। আর তারজন্য সাহস অবশ্যই থাকতে হবে।
      আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপু
      ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময়

  3. সুরাইয়া আপু আমিও শতভাগ একমত। যেখানে নিজ ঘরে স্বামীর সামনে নিরাপত্তা নেই, সেখানে ঘরে বাইরে এখন পার্থক্য নেই। এখন প্রতিঘাত করে এগিয়ে যেতে হবে।
    অন্ধের দিনরাত একসমান।
    আত্মপ্রত্যয় নিয়ে এগুতে হবে যতো ভয় পেছনে।
    অনেক শুভেচ্ছা রইল।

    1. এখন আত্মপ্রত্যয়ই একমাত্র অস্ত্র হায়নাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। আগে ভয়কে করতে হবে জয় তারপরই করতে হয়ে লড়াই। চমৎকার মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু।
      ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময়

মন্তব্য করুন