বৃক্ষরোপণ

অনুশঙ্কর গঙ্গোম্যাক্সিম ২২ জুন ২০১৪, রবিবার, ০৭:২৪:২৯অপরাহ্ন অন্যান্য ৯ মন্তব্য

আকমল সাহেব সরকারের বন ওপরিবেশ মন্ত্রী। বর্তমানে নামের আগে পিছে দুটি বাক্য যোগ হয়েছে। সামনে তিন তিনবার হজ্জ করার কারণে আলহাজ্ব আর টাকা পয়সা যখন আছে তখন চৌধুরী না থাকলে কেমন যেন লাগে তাই “আলহাজ্ব আকমল হোসেন চৌধুরী “। আজ রমনা পার্কে গাছ লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন। চারিদিকে পুলিশি নিরাপত্তার কড়াকড়ি, সাইরেনের শব্দ. পুরো রাস্তা জ্যাম।
জরি আর তুহিন একই রিক্সায় অনেক দিন পর যাচ্ছে ঝুম বৃষ্টিতে কফির কাপে চুমু দিতে। জরি বারবার হাত ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে, ঘন্টার কাঁটা এখন তিনটায়, বাবা অফিস হতে ফিরবেন পাঁচটায়, বৃষ্টির দিনে ও জরির কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের রেখা। তুহিন জ্যামের মধ্যে হাসফাঁস করছে। মাইকে শোনা যাচ্ছে পরিবেশ মন্ত্রীর সুমধুর কন্ঠে গাছ সম্পর্কিত মূল্যবান বক্তব্য, আর ভবিষ্যৎ নানা কর্ম পরিকল্পনা।
জরির বাবা আলী সাহেব জ্যামের মধ্যদিয়ে অফিস হতে হেঁটে বাসার দিকে যাচ্ছেন। ছাতা মাথায় ,চেহারায় বয়সের ছাপ ,সামনে এগুতেই রিক্সার হুডে ছাতা লেগে রাস্তায় পড়ে যায়। আলী সাহেব নিচু হয়ে ছাতা নিতে গিয়ে একটা রিক্সায় জরির সাথে অপরিচিত ছেলে দেখে থমকে দাঁড়িয়ে আবার হাঁটা শুরু করলেন।
আপাতত মাইক বন্ধ নামাজের বিরতি, কচ্ছপ গতিতে গাড়ি গুলো সামনে এগুচ্ছে, সাথে জরিদের রিক্সা ও।
সন্ধ্যা সাতটায় বাসায় ফিরল জরি,বাবা কিছুই বলেনি।তিন মাস পর জরিকে আলী সাহেবের এক বন্ধুর ছেলে বিয়ে করে ফ্রান্স নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তুহিন জরির চোখে দুফোঁটা অশ্রু সান্ত্বনা হিসেবে মেনে নেয়।
বছর বিশেক পরের কথা। গ্রীষ্মের পরন্তু বিকেলে ডায়াবেটিস ওব্লাডপ্রেসারের রোগী আলহাজ্ব আকমল হোসেন চৌধুরী রমনা পার্কে জগিং করছেন, একটু ছায়ায় দাঁড়াতে গিয়ে তিনি দেখলেন গাছের ছায়া খুব একটা নেই চারিদিকে ফাঁকা মাঠ।তার স্মৃতিতে এখন নাড়া দিচ্ছে বছর বিশেক আগের সেই বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ,যার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে তার একান্ত সহকারী রমেশ বাবু এককোটি টাকার একটি চেক গুঁজে দিয়েছিল মন্ত্রী মহোদয়ের সাদা পাঞ্জাবির পকেটে।আলহাজ্ব আকমল আলী চৌধুরী এখন বুঝতে পারলেন কেন এখানে গাছ নেয়। আকমল আলীর দুচোখ চেয়ে আছে অসীম অনন্ত আকাশ প্রান্তে, গ্রীষ্মের আদ্রতায় তার দুচোখে নেমে এলো একরাশ হতাশার বৃষ্টি।

৫১১জন ৫১১জন
0 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ