অচেনা মুখ

 

অচেনা...
অচেনা…

আজ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখি
নিজেকে কেমন জানি স্যাঁতস্যাঁতে এবং অচেনা লাগে।
কিন্তু আয়না ঠোঁট নেড়ে বলার চেষ্টা করে
ওদিকের ওই মুখটা নাকি আমারই!
ভালো করে তাকিয়ে দেখি, কেমন কুৎসিত একটা চোখ!
গালের ঝুলে যাওয়া মাংসপিন্ড
ওটা আমি! অসম্ভব!! এ কি করে সম্ভব!!!

অনেক ভেবেছি, কি করে আয়নার ওই মুখ আমি হই?
তারপর আয়না থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে
হাত দিয়ে ছুঁয়েছি চোখ, নাক, ঠোঁট, চিবুক, কপোল—
জাপটে ধরে নিজেকে,
আঁচড়ে-খামচে রক্তাক্ত করে দেখেছি,
অনেক ব্যথা;
এ তো আমি-ই।

কৃষ্ণপক্ষে আকাশ জুড়ে মেলা থাকে তারা-নক্ষত্রের সামিয়ানা;
মায়াবী সৌন্দর্য মেখে রা্ত্রি আদর করে অন্ধকারকে–
আর আমার এই মুখশ্রী ভরা বিষাক্ত ব্রণ
ঢেকে রেখেছে সেই সুন্দরীতমার চিবুকের ভাঁজ, কপোলের টোল।
যে চিবুকে তুমি চুমু খেয়েছিলে,
যে কপোল তোমার স্পর্শে হাল্কা গোলাপী রাঙা হয়ে যেতো
আমায় লজ্জ্বাবতী করে তুলতো তোমার দৃষ্টি,
এই তো সেই গভীর কালো চোখ;
যে কখনো তোমার চোখে চোখ রাখেনি।

নাহ এ আমি নই!
কিছুতেই না!!
এ কে? চিনিনা এই মুখ।
পলক কেঁপে উঠছে কেন?
আমার ভয় করছে খুউব—

 

হ্যামিল্টন, কানাডা
৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং।

**মাঝে-মধ্যে এমন সময় আসে নিজেকে চেনা যায়না। এমনই এক সময়ের লেখা, আজ ঠিক তেমনই এক সময়ে মুক্তি দিলাম নিজেকেই।**

মোট পড়েছেনঃ ২,৯১৭জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৭৪টি মন্তব্য

  1. মাঝে মাঝে নিজেকে কেমন অচেনা লাগে
    মুখাবয়বে এর প্রভাব কিছুটা পরে।
    অনেক সময় নিজেকে নিয়ে গভীর কিছু ভাবলেও নিজেকে অচেনা লাগে
    আমি কে? এই প্রশ্ন নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখেছি নিজেকে…… ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন লাগে।

    গভীর বোধ থেকে লেখায় অনেক ভালোলাগা জানালাম।
    প্রবাসে ভালো থেকো সারাক্ষণ -{@ -{@

    1. নানা অনেক আগের লেখা। কয়েক মাস খসড়ায় পড়ে ছিলো।
      মানুষের জীবনে একেক সময়ে একেক রূপ। মন ভালো থাকলে আয়নার সামনে দাঁড়ালে এক রকম, কষ্ট নিয়ে দাঁড়ালে আরেক। তুমি ঠিক ঠিক ঠিক। ক্যামনে বুঝলা গো নানা? ;?

      আমি সবসময়ই \|/
      মাঝে-মধ্যে মেঘলা তো হবেই। ইয়েই তো জিন্দেগী হ্যায় নানা। 😀
      পারলে নাচো কোমড় না ভেঙ্গে, জোরে হাসো কারো কান না ফাঁটিয়ে। :D)

  2. আসলে নিজের মুখোমুখি হওয়ার মত কঠিন সাহস আপনি দেখিয়েছে আপনার
    সুন্দর লেখায়, নিজেকে চেনা খুব কঠিন, আপনি লেখায় এ চেষ্টা এনেছেন দেখে
    অবশ্যই ধন্যবাদ দিচ্ছি।

    1. আপনার ধন্যবাদের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

      আজ অব্দি কখনো নেগেটিভ কিছু বলেননি লেখা নিয়ে।
      আজ পর্যন্ত যা কিছু আউলা-ঝাউলা লিখেছি এটি সবচেয়ে বাজে এবং জঘণ্যতম আমার কাছে।
      সেটিকে সুন্দর বলে দিলেন, অবাকও হতে পারছিনা।

      ভালো থাকুন কবি ভাই। 🙂

  3. নিজের সাথে নিজের সম্পর্ক না থাকলে অনেক অনেক দিন পর আমার আমি কে অচেনা লাগে | চমৎকার লেখা টায় বিষন্নতার ছোঁয়া | আপু তুমি ভাল আছো তো ? 🙁 (3

    1. অরুনি আপু ভালো না থেকে উপায় আছে? অতো গভীরতা যদি থাকতো মন খারাপে, তাহলে তো হয়েছিলো। সব না-পাওয়ায় গিয়ে ঠেকতো।

      ভালো আছি, ভালো থেকো
      আমার কথাটি মনে রেখো। 😀 -{@ (3

        1. অরুনি আপু,

          প্রথমে আমার ভালোবাসা নিও।
          তুমি কেমন আছো? কতোদিন তুমি আমাকে চিঠি লেখোনা।
          তাই রাগ করেছি।
          আজকের মতো শেষ করলাম।
          উত্তর চাই-ই চাই।

          ইতি
          তোমার নীলা

        2. নীলু ডার্লিং আমি চিঠি লিখতে পারিনি কারণ আমার কলমের কালি শেষ হয়ে গিয়েছিল | কি যে দারুণ কষ্ট তোমাকে ছেড়ে থাকা তা যদি তুমি বুঝতে! আমি পৃথিবীতে এসেছি শুধু তোমার জন্য |
          ইতি ,
          তোমারি আমি
          :p

        3. কি লজ্জ্বা! এভাবে লিখে আমাকে কেন এতো লজ্জ্বা দিচ্ছো গো তুমি?
          তুমি পারো আমায় ছাড়া থাকতে, তাইতো এতো এতো লিখেও উত্তর পাইনা।
          তাই অভিমান করে আর কিছু লিখিনা। কিন্তু আজ না লিখে পারলাম না।
          তোমার হাতের মুঠোয় যা থাকে মিষ্টি মিষ্টি সুরে গান করে, ওটাকে চোখ দিয়ে চেয়ে দেখো, ওখানে আমিও আছি।
          ইতি
          তোমার নীলু ডার্লিং :p

    2. তুমি আছ বলে মৌন কথোপকথন :p
      তুমি আছ বলে পৃথিবী টা লাগে আপন
      তুমি আছ বলে পাশে হীমেল স্নিগ্ধতা হাওয়ায় :p
      তুমি আছ বলে পাশে সবই ভাল লাগে অবেলায়
      তুমি আছ বলে জোনাকির গানে গানে চোখ মেলে চাঁদ উঠেছে
      তুমি আছ বলে চুপি চুপি আজ সব বাগানে ফুল ফুটেছে,,,,,, :p (3

    1. ভাভু বাইয়া আমি খারাপ থাকবো কোন দুষখে? 😀
      হায়রে মন খারাপ করা লেখা দেখি লেখাই যাবেনা। ;(

      আমাকে কান্দিথে ধেয়া হুক। :D)

    1. ও দাদা নিজেকে দেখার কি দরকার? চুল দেখবেন আঁচড়ানো হলো কিনা। আপনি তো আর আমার মতো কাজল-আইলাইনার দেন না, যে চোখও দেখতে হবে 😀 :D)

        1. আহা এমন গেষ্ট আমার এখানে নেই। ;( ;(
          নীতেশদা আক্ষরিক অর্থে আমি বড়ো আনন্দবতী মেয়ে। যদিও এখনকার আমার যারা বন্ধু, তারা আমায় বোঝেনা। মাঝে-মধ্যে কলেজের বন্ধুদের বলি, বকি এমন করেছি তখন তোরা বলিসনি কেন এটা করা ঠিক না? বলে আরে এটা তো এমন সিরিয়াস কিছু না!

          অনেক রাত মাথা খারাপ হচ্ছে। কি থেকে কি বলছি ঠিক নেই। ^:^
          পাগল তো ছিলামই, এখন কি আরো কয়েক গ্রেড উপরে উঠলাম? ;?
          :D) :D) :D) :D)

  4. ভয়ের কিছু নেই নীলাপু।আমরা আছিনা?নিজকে এমন করে দেখেন কিভাবে আপু?আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখার চেষ্টা করবো নিজকে।আপনি অন্য সবার থেকে আলাদা,শ্রদ্ধা জানাই আপনাকে -{@

    1. লীলাবতীদিদি অবশ্যই ভয় নেই।
      “নাই নাই ভয়, হবেই হবে জয়।”

      দিদি আয়নায় দাঁড়িয়ে নিজেকে ভ্যাঁংচি কেটে দেখবেন, এত্তো মজা পাবেন।
      পাগলামীতে পরিপূর্ণ আমার আমিটা। বুঝেছেন?

      কিন্তু আমাকে কাঁদতে দেয়া হউক। কান্দতেও কি ট্যাক্স দিতে হবে? তাও দেবো। ;( ;(

  5. লীলাবতীদিদি অবশ্যই ভয় নেই।
    “নাই নাই ভয়, হবেই হবে জয়।”

    দিদি আয়নায় দাঁড়িয়ে নিজেকে ভ্যাঁংচি কেটে দেখবেন, এত্তো মজা পাবেন।
    পাগলামীতে পরিপূর্ণ আমার আমিটা। বুঝেছেন?

    কিন্তু আমাকে কাঁদতে দেয়া হউক। কান্দতেও কি ট্যাক্স দিতে হবে? তাও দেবো। ;( ;(

  6. এই একটা গোপন কথা শুনবে? অপূর্ব মুখশ্রীর একটা মেয়ের গালে একটা ব্রণ, আমার বেশ লাগে 🙂
    একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়েই এমন ভয় খেয়েছ? আমিতো আয়নাই দেখিনা 😀
    অদৃশ্য এক কবিতার লাইনকাটা যেন তোমাকে ঘিরে, তুমি অচেনা হতে পারো, তোমার কবিতা? উহু না।
    আমরা সবাই নিজের কাছে অচেনা। যত্নে রেখো নিজেকে, তুমি তোমার নও, তুমি অন্যের।

    1. আমি অন্যের? কার গো? ;?
      আপু তুমি আমার ঘরে এলেই এতো আলো পাই, উফ তুম মুঝে কাব মার ডালোগি, তুমহে পাতা নেহি
      তুমি আমার কি!

      রঙ? নাহ! অনেক কিছু। জানো আপু আমার একটা নিজস্ব ইমো আছে, যা সবাইকে দেইনা। তোমাকে মনে মনে সেই আবেগী ইমোটা দিলাম আমার। -{@ (3

      1. একজনের তো অবশ্যই নীলকন্যা। সেইযে তোমার ঘুম, ঢেউ, তোমার নীল, তোমার ফোস্কা।
        ইমোটা না পেলেও তোমার আবেগ টা নিলাম আপু। লাভু ২।
        তুমি আগায়ে হো নূর আগায়ে 🙂
        তুমহে পাতা নেহি তুমি আমার কি! বাঃ দারুন ফিউশান 🙂 সেদিন মিলন হবে কতো দিনের সাথে অনুপমের হিন্দি ফিউশান শুনলাম দারুন লাগলো। শুনবে?
        https://www.youtube.com/watch?v=o5iNbmDbViA

        1. ইস। আবারও মিস। মরার ঘুম আমার বারোটা বাজায়। অনেক বছর আগে মরার ঘুমের জন্য আড্ডা মিস করেছিলাম। আজও তাই হলো। ধুত্তোর। 🙁

          ও আপু আসো না গো। 🙁

    1. “জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান
      বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।”

      তাইতো আমরা অজানাকেই বেশী ভালোবাসি মজিবর ভাই। -{@

        1. মজিবর ভাই বেশ বলেছেন কথাটা।
          তবে আমার একটা স্বপ্ন আছে হারিয়ে যাবার।
          এও জানি একদিন এই স্বপ্নটা পূর্ণ হবে।
          অপেক্ষায় আছি এখন সেই দিনের জন্যে।

          ভালো থাকবেন। -{@

  7. আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে চিনতে খুব কষ্ট হয়, ভেতরের মানুষটা আমি নয়।

    কখনো যদি এভাবে কেউ লিখতে বলে তাহলে হয়ত আমার কলম ভেঙে যাবে কিন্তু দুয়েক লাইন আর লেখা হবে না এমন করে।

    মনে হচ্ছে বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছি, খুব অল্প বয়সেই।

    1. আনিছ ভাই মন কখনো বৃদ্ধ হয়না। চাইলেও হতে পারেনা।
      আরেকটি কথা আপনি যা লেখেন অমন তো আমাকে পেটালেও পারবো না লিখতে। 😀

      1. কি যে বলেন আপু, আমার আবার লেখা।

        আপনি, অরুনি আপু, হেলাল ভাই, নীতেশ দাদা, শূণ্য আপু কত সুন্দর কবিতা লিখেন। মন খারাপ থাকলেও ভালো হতে বাধ্য হয় আপনাদের লেখা পড়লে। সেই সাথে জিসান ভাই, সজীব ভাই এরা কত ভালো লিখে। আপনাদের সামনে ঠুনকো বাতাসে উড়ে যাওয়া শিমুল তুলো আমি।

  8. কি বলেন?? আমরা কিন্তু আপনাকে ঠিক চিনি। আমি তো চিনিই। আপনাকে চিনবো না এমন হতেই পারে না। সব সময় সব ভাবে আপনাকে চিনে নেবো আপনার বিখ্যাত সেই হাসি দেখে। (3 (3

    1. পিচ্চি আপু হাসি দিয়ে চেহারা চেনা যায়। 🙂 😀 :D)
      চরিত্র চেনা যায় মিশিয়া, কথা কহিয়া। বুঝেছো?
      যাহারা মিশিয়াছে তাহারা বলিয়া গিয়াছে আমাকে কেউ ভালোবাসিয়া শান্ত করিতে পারিবে না। তাহা হইলেই বুঝো কেমন চরিত্র আমার! 😀 \|/

      মাথার স্ক্রু ঢিলা হইতাছে, ঘুম আসিতেছে না। ;(
      পুরো সপ্তাহ ছুটিতে থাকায় কি যে সমস্যা গো আপু। উফ!

      অনেক আদর উম্মম্মম্মম্মাআআআআআ -{@ (3

    1. অচেনা হয়ে থাকার একটা সুবিধা আছে, কোনো অনুভূতি তখন আর কাজ করেনা।

      কোথায় ছিলেন এতোদিন মিথুন? এভাবে আড়াল হতে নেই। লেখা দিন।

মন্তব্য করুন