দ্বীপ – আবদুল্লাহ আল তারেক

 দ্বীপ নিভে গিয়েছে । নিভিয়ে দেয়া হয়েছে জোড় করে । সে আর আলো দিবে না । দ্বীপের উপরে এই লেখাটি আবদুল্লাহ আল তারেক এর । অত্যন্ত ভালো লিখেছেন তারেক। আবদুল্লাহ আল তারেক এর অনুমতি নিয়ে শেয়ার দিলাম সবার জন্য ——- 

দ্বীপ আমাদের এলাকার ছেলে। আমার প্রতিবেশী; একই পাড়ায় বাসা ছিল আমাদের। আমার স্কুলেরই ছাত্র ছিল ও। গভট্ স্কুলের প্রথম সারির মেধাবী। ফাইভে-এইটে বৃত্তি, এস এস সি, এইচ এইচ সি দুটোতেই গোল্ডেন। চান্স পেয়েছিল বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগে। দুরন্ত প্রকৃতির ছেলে ছিল ও। প্রেম করে বিয়ে করে ছিল আমাদের প্রতিবেশী ইকবাল কাকার ছোটো মেয়ে ইতিকে। ইতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের তুখোড় ছাত্রী। কতো চমৎকার একটি মেধাবী জুটি ছিল ওরা। আজ দ্বীপ চলে গেলো না ফেরার দেশে।

‘ইসলামে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই’ বলে প্রতিদিন কতোই না মডারেট মুসলিমদের চিৎকার করতে শুনি। তারা বলে জিহাদ আর জঙ্গিবাদ নাকি এক বস্তু নয়। দুটোকে এক করে দেখা যাবে না।

দ্বীপকে যে খুন করেছে সেও বুয়েটেরই আর এক ‘মেধাবী’ ছাত্র। হেফাজত ইসলামের কর্মী। জিহাদি দ্বীনের ভাই। বুয়েটের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া একজন মেধাবী ছাত্র নিশ্চয়ই বোঝে কোনটা জিহাদ আর কোনটা জঙ্গিবাদ।

তো সমস্যা কি? একজন জিহাদির পবিত্র চাপাতির কোপে প্রাণ হারালো এক বেদ্বীন ছেলে। এটা তো খুব ভালো কথা, রহমতের কথা। এজন্য চারদিকে এতো কান্না কেন? এতো প্রতিবাদ কেন?

বুয়েটে এমন অনেক ‘মেধাবী’ আছে যারা চিন্তাভাবনা হাফেজিয়া মাদ্রাসার তালবেআলিমের মতো। ঐ সব ‘মেধাবীরা’ একাডেমিক বিদ্যার বাইরে যা জানে তা একজন সুস্থ রুচির মানুষের কাছে বলা হলে বমি এসে যায়। পশ্চিম-এশিয়ার একটা বর্বর যুগের সংস্কৃতি তাঁদের কাছে দুনিয়ার সেরা সভ্যতা। তাঁরা সেই যুগকেই সারা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাঁদের কাছে ডক্টর জাকের নায়েক হল গ্রহের সেরা যুক্তিবাদী দার্শনিক।

সভ্যতার ইতিহাস সম্পর্কে ঐসব অপদার্থগুলো আজগুবি ধারণা নিয়ে বড় হয়। যুক্তিশীল-রুচিশীল মেধাবী, আর মুখস্থশক্তির জোরে স্মৃতিধর মেধাবী যে একজিনিস নয়, তা ওদের মতো চিড়িয়াদের দেখলেই বোঝা যায়। অবশ্য ওদেরও পুরোপুরি দোষ দেয়া যায় না। শিশু কাল থেকেই মারাত্মক মগজধোলাই এর শিকার ওরা।

সুশিক্ষিত বুয়েটিয়ানদেরকে বলি, প্লিজ ভাই, ঐ চিড়িয়াগুলোকে মানুষ করো। ওদের হাতে দর্শন-শিল্প-সাহিত্য-ইতিহাস বইও তুলে দাও। প্রকৌশল বিদ্যার পাশাপাশি ওরা বাইরের পৃথিবীকেও জানুক। হিংস্র মধ্যযুগীয় কুশিক্ষার ছোবল থেকে ওদেরকে বাঁচাও।

মোট পড়েছেনঃ ৯৩২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৫টি মন্তব্য

  1. আমি ভাষাহীন কী বলবো কিংবা লিখবো বোধে আসছে না । তবে ইসলামের দোহাই তুলে যারা ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা করছে কিংবা জঙ্গিবাদকে ইসলামের পবিত্র চাদরে ঢেকে রাখতে চাইছে এবং যারা করে যাচ্ছে এইসব অপকর্ম তীব্র ধিক্কারই রইল অইসব পিশাচদের জন্য । সাথে সাথে অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া, এরকম একটা ব্যাপারকে আমাদের দৃষ্টি সীমানায় নিয়ে আসার জন্য ।

    1. এই জঙ্গিবাদ ইসলামকে এক ভয়ংকর ধর্ম হিসেবে জগতে প্রতিষ্ঠিত করছে । মৌলবাদী ইসলামী গোষ্ঠি গুলো ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু । সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হচ্ছে – শিক্ষিত মানুষ এদের আবার সমর্থন দিচ্ছে ।

  2. শুধু বুয়েট নয়, এসব কুশিক্ষিত শিক্ষার্থীতে ভরে গেছে দেশের ভালো ভালো সব ক্যাম্পাস। আমার আশেপাশে আছে, এমনকি আপনার পাশের ফ্ল্যাটের লোকও হয়তো … আর কত দ্বীপ এভাবে হারাবে- জানি না। প্রার্থনা এই, যেন এভাবে মা-বাবার যেন বুক খালি না হয়…

মন্তব্য করুন