এটি আমার হাত এবং হাতে দেয়া ঘড়ি । একটি সাধারণ ছবি । ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ সাইটে বা ব্লগে আপলোড করলে কেমন প্রতিক্রিয়া আসতে পারে ? আসুন কিছুটা ধারনা করি ।
সাধারণ প্রতিক্রিয়া :
১ / বাহ ! খুব সুন্দর
২ / জিসান ভাইয়া গোল্ডেন কালারের ঘড়ি আপনার হাতে খুব মানিয়েছে
৩ / কি ঘড়ি এটি ? দাম কেমন ? নতুন কিনলেন বুঝি ?
৪ / বাব্বা আপনার হাতে তো বেশ পশম ভাইয়া , গোল্ডেন কালার আমারো খুব পছন্দের
৫ / ভাবী গিফট করলো বুঝি ?
কিছুটা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া :
আপনি আসলে একটু ভিন্ন , অসাধারন আপনার দেখার দৃষ্টি
ctrl চেপে ধরে + চাপতে থাকুন , +++++ এবার ঘড়িটি বড় দেখা যাচ্ছে ? দেখুন ঘড়িটির নাম , পড়া যাচ্ছে তো ? না পড়া গেলে ছবিটি ডাউন লোড করুণ । এবার বড় করে দেখুন । এবার পড়া যাচ্ছে Westar । মনে মনে ভাবুন বা মন্তব্য দিতেও পারেন।
১ / Westar ঘড়ির তো দাম খুব একটা বেশী না । জিসান ভাই আপনি এত সাধারণ মানের ঘড়ি হাত দেন ? ( মনে মনে : হালায় খুব ভাব মারায় , ঘড়ি হাতে দেয় কম দমি )
২ / এটি আপনার হাতের ঘড়ি ! ভাবছিলাম Rado বা Tissot হবে ( এটি একটি সুশিল খোঁচা )
৩ / হালার হাতে দেখি বনমানুষের মত পশম ( এ লোক কোন মন্তব্য করবে না , কাউকে ইনবক্সে জানাতেই পারে )
৪ / জিসান ভাই ঘড়িতে পাঁচটা বাজতে দুই মিনিট বাকি আছে । এটি কি কোন ইঙ্গিত বা সিগনাল ? ( এই লোক আসলে ভীষণ চিন্তিত , সব কিছুর পিছনে একটি কারণ অবশ্যই আছে এমন ভাবনা তাঁর । কেন এই ছবিটি আপলোড করেছে জিসান ? )
মোটামুটি কিছু লোকের সম্ভাব্য চিন্তা ভাবনা দেখলাম আমরা ।
এখন আমার বলার পালা । মানুষের চোখ একই পদার্থ দিয়ে তৈরি । শুধু কেউ চশমা দিয়ে দেখে , কেউ চশমা ছাড়াই দেখে । কেউ দূরে ভালো দেখে , কেউ কাছে ভালো দেখে । ছবিটি আমরা সবাই একই চোখে দেখি । কিন্তু ভাবায় আমাদের মস্তিস্ক , আমাদের মন । আমাদের মন ছোট বেলা থেকে একটি দৃশ্য মনের মত করে দেখার অভ্যাস করিয়েছে , মন মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে দেখতে শিখিয়েছে । আর পরিবেশ মনকে পরিচালিত করে।
ঘড়িটি আসলে বন্ধ , ব্যাটারি নষ্ট। গত ছয়মাস এই অচল ঘড়িটিই ব্যবহার করে আসছি । কেউ ধারণাই করতে পারবে না , আমি একটি অচল বন্ধ হওয়া ঘড়ি হাতে দিয়ে চলাফেরা করি। আর ঘড়িটি আমাকে এমন একজনে গিফট করেছেন যাকে বিদেশে যাবার সময়ে ব্যংক গ্যারান্টি আমি দিয়েছিলাম , টাকা নয় । এই গ্যারান্টি কোন টাকা করে করতে হয়নি আমার । আমি আসলে ব্যাটারি পাল্টাতেও চাচ্ছি না । ঘড়িটির সব কিছুর সাথেই মিশে আছে শ্রদ্ধা , সন্মান দিয়ে জড়ানো কৃতজ্ঞতা । ব্যাটারী পাল্টালে কিছুটা তাঁর দেয়া গিফটের মাঝে আমার অংশ গ্রহন হয়ে যাবে । এভাবেই থাকুক না এটি । সময় দেখার তো সমস্যা হচ্ছে না আমার ।
কিছু কি বলতে চেয়েছি আমি এই পোস্টে ? 🙂
![IMG_20140507_190840 [320x200]](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/05/IMG_20140507_190840-320x200.jpg)
তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। বুঝলাম সে আপনার বড় স্নেহাস্পদ। ভাল থাকুক তিনি তবেই ভাল থাকবেন জিসান।
হ্যা খুব স্নেহাস্পদ , অনাত্মীয় হয়েও আত্মীয়ের চেয়ে বড় এখন ।
আপনি যেমন মনে রেখেছেন সে ও তা করেছে কী ?
আমাদের স্মৃতি শক্তি দুর্বল বলেই জানতাম ।
সেও মনে রেখেছে ।
ইংল্যান্ড যাবার দাওয়াত পাচ্ছি প্রতি মাসে
আমার ছেলেদের মার জন্য পাঠিয়েছে একটি সুন্দর মোবাইল 🙂
মন্তব্য নিস্প্রয়োজন…রেজাল্ট শুণ্য।
:I-m-Bored: :Cool: :Yes-Sir: :Congratulations–Baby-Girl:
কিছু মানুষ এখনো আছে ।
কতো রকম ভাবনা বলে দিলেন ভাইয়া, আমি কি ভাবতাম তাই কনফিউজড. যারা অন্যের জন্য কিছু করে তারা কিছু পাবার আশা করে করেনা, আপনাকে ধন্যবাদ, মন আছে একটা বড় বোঝা যায়.
ঘড়িটা সচল রাখুন, স্মৃতিটাও সচল থাকবে.
একই ঘটনায় কৃতঘ্ন মানুষও কিন্তু আছে আমার চেনা জানায়
সহযোগিতাকে ভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করার মানুষের সংখ্যাই বেশী আজকাল।
আপনার মনটা খুব সুন্দর,ঘড়িটার মধ্যমে প্রিয় মানুষটিকে মনে রেখেছেন,এমনটা সবাই পারেনা -{@
চেষ্টা করে যাচ্ছি মনে রাখার । যতদিন পারা যায় ।
মনে-টনে রাখার ব্যাপার গুলো উঠে গেছে সেই কবে ।
অহেতুক বোঝা বহনের দরকারই পরে না এখন ।
ঝাড়া হাত-পা ।
হা হা হা হা
চেষ্টা করি তো , পারিনা যে
শ্রদ্ধা আপনাদের এই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক কে। মানুষের আন্তরিকতাই তাকে মনে রাখতে বাধ্য করে আজীবন। কখনো কখনো অনেক পর মানুষ হয়ে উঠে আপনার চেয়েও আপন। যাক না এভাবেই জীবনটা। ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় জিশান ভাইয়া আমাদের সামনে একটি সুসম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরার জন্য। আমরা অনেকে এখন এমন সুসম্পর্ক থেকে দূরে রয়েছি। -{@
আবার উল্টোটারও অভিজ্ঞতা আছে মশাই । একই ঘটনা এক একজন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে দেখে ।
শুভেচ্ছা আপনাকে ।
এমন সম্পর্ক আজকাল আর দেখা যায় না। স্বার্থপর এই যুগে এমন সম্পর্ক দেখে আস্বস্ত হই। ঘড়ি দাতা এবং গ্রহীতার জন্য শুভকামনা।
যুগটা পাল্টে গিয়েছে এখন ।
ঘড়ি দাতার কাজ যুগোপযোগী হয়নি ,
এসব উঠে গেছে ।
ঠিক বলেছেন ।