করোনা ছুটির দিনগুলি- ২

এমন একটা সময় পার করছি সাধারণ জ্বর-সর্দিতেও ভীত হতে হচ্ছে। গত ক’দিন থেকে চরম এক অস্থিরতা ভর করেছে মনে। গরম পানি খাচ্ছি, গারগল করছি। ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাচ্ছি কিন্তু অজানা এক ভয়ে বিপি হাই হয়ে আছে। তবে আলহামদুলিল্লাহ! আপনাদের দোয়ায় আজ একটু ভালো আছি। জ্বর কমেছে, গলা ব্যথাও খুব একটা নেই। আশাকরি দু’একদিনের মধ্যেই সেরে যাবে।

যারা খোঁজখবর নিয়েছেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা। যারা খোঁজ নিতে পারেননি তাদেরকে জন্যেও অনেক ভালোবাসা। আমি জানি আমাকে সবাই ভালোবাসেন আপনারা।

তীব্র মাথা ব্যাথা, সর্দি নিয়েই রোজা পালন করছি। কিছুই ভালো লাগছেনা। শহরে লকডাউন চলছে। আজ বিকেলে ঘর থেকে বেড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে গেটের বাইরে উঁকি দিতেই দেখি পুলিশের ভয়ে মাস্ক পড়া একজনকে মাস্ক হাতে নিয়েই দৌড়াচ্ছে।বেচারা সেটা মুখে পড়ার সময়ও পায়নি।

শহরে নিয়ম মেনে ইফতারি বেচাকেনার জন্য প্রশাসন অনুমতি দিয়েছে। একদিকে রাস্তায় বের হলে পুলিশ দাবড়ানি দিচ্ছে আবার জনগন ইফতারি কেনার জন্য মেইনরোড দিয়ে না গিয়ে অলিগলি দিয়ে জটলা করে ইফতারি কিনতেও যাচ্ছে।

মজার বিষয় হলো এত দৌড়ের উপর থেকেও ইফতারির দোকানে গিয়ে কি সুন্দর তিনফুট দূরত্বে ভদ্রবাবুর মত সবাই লাইন ধরে কিউ মেইনটেইন করছে। হাউ সুইট!

আজ ফেসবুকে কিছু ছবি দেখে মনে খটকা লাগলো। অনেক নেতা নেত্রীর ধান কাটার ছবিতে ফেসবুক ছয়লাব। যারা জানেওনা এ বছর ধানের মণ কত করে তাদেরকেও দেখছি ধানক্ষেতে ধান কাটতে। এর পক্ষে বিপক্ষে অনেক মন্তব্য পড়লাম। তবে এত বিরুপ মনোভাব প্রকাশ না করে ব্যাপারটাকে আসলে দুইভাবে নেয়া যায়-

এক – গ্রামের ছেলে, এখন নেতা হয়েছে। শেষ কবে তার ধানক্ষেতে যাবার সময় হয়েছিল মনে নেই। ধানকাটা শ্রমিকের অভাব পূরণ করতে এই সুযোগে সেও কাস্তে হাতে নিয়ে ধানকাটতে ক্ষেতে নেমে পড়েছে।

দুই – শহরের মানুষ যে জীবনেও ধানক্ষেতে পা মাড়ায়নি সেও এই সুযোগে ধানক্ষেতে হেঁটে আসলো। যারা ধান কাটছে (সে কাঁচা ধানই হোক কিংবা পাঁকা) তাদের সাথে দু’একটা সেলফি নিলো। তারা সে ছবি ফেসবুকে দিলেও তাতে কিইবা এসে যায়!

চলুন আমরা নিজেরাও অন্তত একজন ধানচাষীকে সাহায্য করি। কি, করোনাভয় উপেক্ষা করে ধানক্ষেতে যাবেন?

বি পজিটিভ!!

ধানকাটা এবং ছবিতোলা নিয়ে একটা গল্প মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। দেখি সময় করে লিখে ফেলবো।

মোট পড়েছেনঃ ৭৮৪জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৮টি মন্তব্য

  1. প্রকৃতি মানুষের প্রতি সত্যিই দয়ালু। কিন্ত আমরা নির্দয় । তাই সুদেআসলে ফিরিয়ে দিচ্ছে তার উপর করা অত্যাচার । ধান কাটার কথা আর শুনতে ভালো লাগে না । অনেকে কাঁচা ধান কেটে কষৃকদের সর্বনাশ করেছে। শাকসবজি কাটার কথা বললে আরো সর্বনাশ হবে। আল্লাহ সহায় হোন ।

  2. চিন্তা ভাবনা গুলো এমনি পজিটিভ হওয়া দরকার। যাক সুস্থ হওয়ার জন্য ধন্যবাদ। শুনে ভালো লাগলো। নিজের দিকে, সবার দিকে এভাবেই খেয়াল রাখবেন এই কামনা করি। শুভ কামনা রইলো

  3. সুস্থ হওয়ার জন্য ভালো লাগছে।
    ধান কাটা উৎসব টাকে বেরষিক
    মানুষ বিরূপ মন্তব্য করছে। এই রকম
    উৎসবে এই ছবিগুলো আমার ছেলেবেলা মনের ছবি গুলো
    উকিঁ মারছে।
    ভাগ্যিস তখন ফেইসবুক ছিল না।

  4. আপনি ক্রমান্বয়ে সুস্থ হচ্ছেন জেনে ভালই লাগছে, যা দিনকাল।
    ধান কাটার নাটক না করে কৃষক যেন ধানের ন্যায্য মূল্য পায় সেটা নিশ্চিত করা দরকার।

  5. আলহামদুলিল্লাহ। দ্রুত সেরে উঠছেন জেনে ভালো লাগলো। কী দরকার বলুন ধান, চাষীদের নিয়ে মজা করা, নাটক করা? এ নেতা মন্ত্রী দের এমন আচরণ কেবল আমাদের দেশে ই সম্ভব। মানুষ আর মানুষ হবে কবে?

  6. আপনি সুস্থ্য হয়ে উঠছেন জেনে ভালো লাগলো। এই সময় কারো অসুস্থতার খবর শুনলেই যেখানে বিপি বেড়ে যায় যায় অবস্থা, সেখানে নিজেই অসুস্থ হয়ে গেলে মনের চাপ কতটা বেড়ে যায় বুঝতে পারছি। দোয়া করি শিগগির সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে উঠুন।

    ধানকাটা প্রজেক্টের ব্যাপারে আমিও সহমত পোষণ করছি, বি পজিটিভ 🙂

    শুভ কামনা 🌹🌹

    1. হ্যা আপু এমন একটা সময় এখন সামান্য জ্বর কাশিতেও ভয় লাগে। এখন ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। ধানকাটা নাটকের অবসান হোক। কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাক এটাই কাম্য।

      ভালো থাকবেন আপু।

  7. গত দুই দিন যাবত কিছুটা কাশি হয়েছে আমারো। কিছুক্ষন পরপর গরম পানি খাচ্ছি, গরম পানি দিয়ে কুলি করছি। করোনা কালে দুশ্চিন্তা একটু বেশিই করছি।

    সুস্থ হচ্ছেন, আলহামদুলিল্লাহ।

    ধান কাটাটা বিতর্কিত করে ফেলছে কিছু নেতা নেত্রী। অথচ কত ভালো একটি প্রগ্রাম ছিলো এটি। এই সব নেগেটিভ ছবিরই প্রচার হয় বেশি।

    ভালো থাকুন করোনাকালে।
    শুভ কামনা।

    1. ভাই খুবই সতর্ক থাকুন। বাকি আল্লাহ ভরসা।

      ধানাকাটা নাটকের অবসান হোক। কিছু মানুষের অযাচিত কান্ডের জন্য এই মহতি উদ্যোগ বিতর্কিত হচ্ছে।

      ভালো থাকবেন ভাই।

মন্তব্য করুন