অ-সময় ও কথার কথা

কথার কথা
————
আমিও একদিন মারা যাব।
নাহ্‍! এজন্যে মৃত্যুভয়ে কাতর নই,
বাঁধ ভেঙ্গে কথা বলি
করি মনে যা খুশী তাই।

আমিও বেঁচে আছি।
তাই বলে বাঁচার দম্ভ করিনি
কথার মায়াজালে ভন্ডামি আনিনি,
ছলা; কৌশলে সম্পর্কে বাঁধিনি।

আমিও ভালবাসি।
মনের মানুষ পেলে বন্ধুত্বে ডাকি
বেঁচে থাকার আনন্দে,
মন খুলেই কথা বলি।

আমিও মারা গিয়েছি।
বাকি সবার মতই
স্বপ্ন দেখার অনুভূতিতে,
আছি এখনো স্বপ্নের সোনেলা রঙে।

অ-সময়
————

সময়টা বড্ড অদ্ভুত!

আজকাল আর ভোর হয় না, বিকেল নেই; নেই গোধুলিও…
আর রাত!
সে এক বড্ড সেকেলে সময়, গোনাগুনতি নেই
ডুবিয়ে’ই রেখেছে আদি’র মত।

দুপুরের কড়া রোদে চামড়া পোড়ে না এখন আর,
পথ বেছে নিতে না নিতেই হারিয়ে যায় দীর্ঘ শ্বাসের মত।

কিছুই তো নেই তবে!

আছে; আছে শুধু এই সময় পেরুনোর তৃষ্ণার্ত জ্বালা।

অ-সময় এভাবেই পার পেয়ে যায় কথার কথায়…
(দু’চোখে ঘুম নেই তাই
লিখে রাখা পুরনো কথার কথায়
অ-সময় পার করে যাই।)

মোট পড়েছেনঃ ৯৫০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৪টি মন্তব্য

  1. কথার কথা না
    ——————————-
    একদিন মরে গিয়ে বেঁচে যাব
    নাহ্‍! এজন্যে মৃত্যুভয়ে ভীত নই,
    বাঁধ ভেঙ্গে কথা বলি
    বাঁধ ভেঙ্গেই হুল্লোড় তুলি
    করি মনে যা খুশী তাই।

    বেঁচে তো আছি।
    তাই বলে বাঁচার দম্ভ করিনি
    কথার মায়াজালে ভন্ডামি আনিনি,
    ছলার কৌশলে সম্পর্ককে বাঁধিনি।
    আমিও ভালোবাস ভালবাসি।

    মনের মত মানুষ পেলে বন্ধুত্বের ডাক পারি;
    বেঁচে থাকি মনের মহানন্দে,
    আনন্দের মন খুলেই কথা বলি।
    আমিও বেঁচে গিয়েছি
    বাকি সবার মতই;
    স্বপ্ন দেখার অনুভূতিতে,
    আছি এখনো স্বপ্নের সোনেলা রঙে;
    থাকব ও।

    নকল ছেড়ে কবে যে আসল লিখতে পারব কে জানে!!

    1. ভাল লাগে ভাবতে যখন কোন লেখাকে অন্যভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়। আর দেখি নিজের লেখাকেই দারুণ করে অন্যরূপ দিয়েছেন হেলাল ভাইয়া তখন তো কথাই নেই।

      হ্যাঁ, আমার এই লেখাটা আপনার মতো করেই লেখা উচিত। আমার লেখাতে অবসাদের ছায়া আর আপনার এই লেখায় একটা দৃঢ়তা আর উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।

      এমন নকল আমার একেবারে মনে জায়গা পেয়েছে। (3
      বারেবারে পেলে আরো ভালই লাগবে। :p

  2. অসময়েও সময় হয় কথার কথা র ছলে নিজের কথা বলার।
    বলেছি না, পুরনো লেখা এইটা বলবি না। মানুষ বদলায়, কিন্তু কতটা? মৃত্যুর কথা ভেবে বেঁচে থাকায় মৃত্যু আনার কি দরকার? আমিও মারা গিয়েছি!! ভাবতেই কেমন এক দারুন দারুন অনুভূতি হচ্ছে। 😀 না তোর না, আমার মৃত্যুর কথা বলছি। আমি তখন যেথায় খুশি সেথায় যেতে পারবো।
    পথ বেছে নিতে না নিতেই হারিয়ে যায় দীর্ঘ শ্বাসের মত—- সময় বড় অল্প। অস্থির এলোমেলোতার মধ্যেও কথার কথারা ভালোই দাগ কেটেছে। এভাবেই থাকিস।
    খুব সুন্দর দাদাভাই।

    1. কোন এক অবসাদগ্রস্থ বিষণ্ণতার রাত্তিরে লিখেছিলাম…

      পুরনো লেখা বলবো.. বলবো… বলবো…. কি করাবা, হুম??? ;?

      আমি কি করে যেন এখনো টিকে আছি :p ভালই আছি 😀

      আজকে মনে হয় তোমার সময়ের সাথে মেলাতে পারলাম না 🙁

  3. নীতেশদা সে যে নামই রাখুন ভোরের শিশির ডাকতে পারবোনা।
    আচ্ছা বলুন তো এভাবে লেখা লিখলে আরোও বেশী ভক্ত হয়ে যাবো। তখন কি হবে, আমি জানিনা। 😀

    মাঝে-মধ্যে বিষাদও ভালো লাগে। -{@

      1. ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাঃ অনলাইনের ভক্তি আর ভক্ত দুই সময়ের সাথে পাল্টায়।

        গত ছ’মাসে বান্ধবহীন হয়ে অভিজ্ঞতা নিয়ে অনলাইনের কোন কিছুকেই আর নিজের স্বত্বার সাথে জড়িয়ে নেই না দিদি।

        শুভেচ্ছা। -{@

      2. দাদা অনলাইন আর অফলাইন জানিনা। আমার এই নার্সিং-এর প্লাটফর্ম তৈরীর পেছনে যা্দের অবদান, ফেসবুক থেকে পরিচিত দুই বন্ধুর সৌজন্যে। একজন ৬০০ ইউরো দিয়েছিলো, যা এখন পর্যন্ত শোধ করতে পারিনি। আমায় যদি কেউ বোঝে, এমনকি আমার শ্বাসের শব্দেও বুঝে ফেলে কেমন আছি, ওরা দুজনই সেটা বোঝে।
        আরেকটা কথা বলি। গতকাল একজন এ দেশীয় মহিলার বাসায় গিয়েছিলাম, যে আমার এক সময়কার ক্লায়েন্ট ছিলো। মাত্র ১২ দিন ভিজিট করেছিলাম। তার অনুরোধের মাত্রাটা এতো বেশী স্নেহময়ী ছিলো, যা ফিরিয়ে দেয়া আমার পক্ষে খুবই কঠিন ছিলো। অনেক রিস্ক নিয়ে যেতে হয়েছে, কারণ আমাদের নিয়ম নেই। যাবার পর দেখি শুধু আমার জন্য স্যামন মাছের প্যাটিস বানিয়ে রেখেছে বিশাল এক বক্স। কারণ কথায় কথায় একদিন বলেছিলাম স্যামন ভালো লাগে। আসলে অতোটা ভালো লাগে না। ক্রীষ্টমাসে আমায় নেমন্তন্ন দিয়েছে আমি সালাদ-স্যুপ পছন্দ করি, সেসব করবে। অবশ্যই যেতে। আমরা বলিনা আমাদের দেশের মানুষ অনেক আন্তরিক, এই দেশের না? আসলে আন্তরিকতা দেশ-বিদেশের উপরে নির্ভর করেনা। মানসিকতার উপর নির্ভর করে।
        এতো কিছু বললাম অনলাইন/অফলাইন, দেশ-বিদেশ নিয়ে। দাদা কাছের মানুষ তারাই, যারা বোঝে আপনাকে।

        অনেক ভালো থাকুন। -{@

      3. আমার বাবা মা’ই আমাকে এখনো ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেনি দিদি, আমি বা অন্য কেউ তো দূর।

        আমি নিজেও অনলাইনের অনেক মানুষ পেয়েছি যারা ব্যক্তিজীবনে আমাকে অনেক সময় পাশে থেকেছে সুখে-বিপদে। তাই আমি শুধু অনলাইনের কিছুতেই আস্থা রাখি না আর যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি অফলাইনে এসে দাঁড়াচ্ছে।

        গত ৭ বছরে অনলাইনের প্রায় সবার কাছেই আস্থা রেখে আস্থাভঙ্গের স্বীকার হয়েছি, আবার পেয়েছি শুধুই তাঁদের যারা ব্যক্তি হিসেবে এসেছে। তাই শুধু অনলাইনের কিছুতেই আমার কিছু নেই।

        আমার একান্ত বিশ্বাস চক্ষু-চর্ম-কর্ণে না হলে সেই মানুষ সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না।

        অনলাইন মানে দেশ-বিদেশ নয়, অনলাইন মানে পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের বাইরের অস্তিত্বকে বুঝিয়েছি দিদি।

        শুভেচ্ছা এবং ভাল থাকুন সব সময়। -{@

  4. //আজকাল আর ভোর হয় না, বিকেল নেই; নেই গোধুলিও…
    আর রাত!
    সে এক বড্ড সেকেলে সময়, গোনাগুনতি নেই
    ডুবিয়ে’ই রেখেছে আদি’র মত।//

    অসম্ভব ভালো!!

    শুভকামনা এবং শুভকামনা অনিঃশেষ।

    ভালো থাকবেন। অনেক ভালো। সবসময়।

  5. আমিও একদিন মারা যাব।
    নাহ্‍! এজন্যে মৃত্যুভয়ে কাতর নই,
    বাঁধ ভেঙ্গে কথা বলি
    করি মনে যা খুশী তাই।

    কথার কথা!!!

    শুভেচ্ছা নিবেন, আসব আবার মন্তব্য বারে জর্জরিত করতে। একটু দম নিয়ে নেই। ভালো লাগছে, মৃত্যু ভয়ে ভীতু আমিও নয়।

মন্তব্য করুন