অসভ্যতা

আবছায়া ঝিলিক...
আবছায়া ঝিলিক…

===অসম্পূর্ণা ====

যখন এখানে ভোর নামে
সূর্যের আলোয় নদীর জল চিকচিক করে।
সেখানে ছায়ার মতো নারী-শরীর এসে দাঁড়ায়।
যে সহিষ্ণু আলোয় মিলিয়ে যায় মানুষ,
তাকে রোদ-মেঘ-বৃষ্টি আদর করে নতজানু হয়ে।
দু’-চারটে আলিঙ্গনের পর বিচ্ছেদ,
কে মনে রাখে প্রতিটি ভোরে এখানে নদীর জল চিকচিক করে,
ভেতরে ভেতরে কাঁদে!

 

হাতছানি...
হাতছানি…

===বেতন===

দূর থেকে নক্ষত্র এসে দাঁড়ায়,
জুজু বুড়ীর গল্প শোনার জন্যে।
শৈশবের উঠোন চোখ-ভাঙ্গা ঘুমের শয্যা হয়ে যাবার পর,
জোড়াতালি দিয়ে সেলাই করা জীবন ছোটে
মাস-শেষের ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের বিলে।

 

 

 

 

===কাপুরুষ===

অশরীরি...
অশরীরি…

নেপথ্যের অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসে ভূত
শোঁ শোঁ শব্দে হাওয়াদের দৌরাত্ম্যে
ছুট লাগানো “পরাজিত-বীর” হোঁচট খেয়ে পড়ে।
মানুষের পূর্ণাঙ্গ শরীরে অশরিরী আত্মার বিরাজ।

 

 

 

 

 

 

===অসভ্যতা===

বহু বহু জন্ম-মৃত্যুর আদলে গড়ে ওঠে হৃদয়
চিহ্ন রেখে যাবার অপপ্রয়াসে হেরে যেতে থাকে
মনুষ্যত্ত্ববোধ,
আর সততার নামে তৈরী হওয়া ভন্ড সামাজিকতায়
ভালোবাসা বলে শব্দটি সেক্স হিসেবে পরিগণিত হয়।
কি সব্বাই চুপ!
নিঃস্তব্ধতা কথা জানেনা।

নিঃস্তব্ধতা...
নিঃস্তব্ধতা…

হ্যামিল্টন, কানাডা
১৮ মার্চ, ২০১৬ ইং।

মোট পড়েছেনঃ ৯০৭জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৪টি মন্তব্য

  1. নিঃস্তব্ধতার ছবিটি দেখে পুরাই নিঃস্তব্ধ হয়ে গেছি, ওয়াও টাইপের ছবি।
    বহুদিন পর নীলাঞ্জনা আপুকে দেখলাম, কবিতা ছাড়া তুমি একদম খোঁড়া 🙂
    ১। অসম্পূর্ণাঃ আপু, একাকীত্বেও সম্পূর্নতা আছে। আমার পিচ্চি ভূতের লাইন, কাউকে এতোটা প্রায়োরিটি দিওনা, যার থাকা না থাকায় তোমার কিছু যায় আসে। ভোরে নদীর জল কাঁদবে কেন? আমি আছিনা!! 🙂
    ২। বেতনঃ কাজ, মাস শেষ, বেতন, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের বিল–আহ্‌ নীলাপু দেখোতো ভালো করে সারেগামাপা এর মতো লাগছেনা? বেতনের মধ্যেও শান্তি আছে বুঝলে? 🙂
    ৩। কাপুরুষঃ জয়ী বীরও হোঁচট খেতে পারে, আনন্দে উষ্ঠা খাবার মতো 🙂 অশরীরি আত্মা আমাদের শরীরের মধ্যেই থাকে। (y)
    ৪। অসভ্যতাঃ বড্ড কঠিন হিসাব নিকেশ, জানিনা ভালোবাসা মানে কি!! সত্যিই জানিনা।
    সব কয়েকটি চমৎকার অনু, তবে নিঃস্তব্ধতা ছবিটার জন্য, সোজা এক ক্লিক। -{@

    1. আপু তোমার মতো ফটোগ্রাফার যখন বললো নিঃস্তব্ধতা দেখে নিঃস্তব্ধ হয়ে গেছো, গর্বে তো মাটিতে পা-ই ফেলতে ইচ্ছে করছে না। খুশীতে দাঁত 😀 কেলিয়েই রেখেছি। মাটিতে পা না ফেললেও ঠিকই নেচে চলছি। এই দেখো \|/

      হায়রে ভুলেই গিয়েছিলাম তুমি থাকতে ভোরের জল তো কাঁদতেই পারবেনা। আপু গো এক্সিডেন্ট কি শিখিয়েছে জানো? আমি-ই আগে-পিছে-সামনে-ঊর্ধ্বে, কে থাকলো আর কে গেলো এসব ভাবার জন্যে টাইম নাইক্কা। 😀

      সারেগামা-মাসারেগা গানটা শোনো। https://www.youtube.com/watch?v=OlwsYhKjjKU
      কাপুরুষেরা অসভ্যতা জানেনা, পালায়। আর অসভ্যেরা ভালোবাসা শব্দটাকে নিয়ে খেলা করে।
      আপু ভালোবাসা কারে কয়! ;?
      যদি জানতেম 🙁

  2. অসম্পূর্ণা সুন্দর হয়েছে,
    কেউ মনে রাখুক বা না রাখুক ভোরনদী চিকচিকেই থাকে।
    অনেলদিন পর সুন্দর কিছু পড়লাম আপনার থেকে।

    1. অসম্পূর্ণা পূর্ণতা পেয়েছে, জানেন?
      আর ধানসিঁড়ি কেমন থাকে ভোরের বেলায়?

      যাক আপনার ভালো লাগলো আমার লেখা, জেনে তৃপ্ত হলাম।

  3. অসম্পূর্ণার ”কে মনে রাখে প্রতিটি ভোরে এখানে নদীর জল চিকচিক করে,
    ভেতরে ভেতরে কাঁদে!” ……… মনে গেঁথে গেলো এটুকু।
    বিষণ্নতার কথা গানগুলো মনে গেঁথে যায়।

    1. নানা লেখাটা এ সমাজের নারীর যন্ত্রণাকে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের অতৃপ্তি। তনু ধর্ষিত হয়েছে, এমন অনেক তনুর খবরই অপ্রকাশিত থেকে যায়। এখানে নারীকে নদী রূপে আঁকার চেষ্টা করেছি।

    1. আমি শেখাবো আপনাকে কবিতা লেখা! 😮
      হায়রে আজও আমি পারলাম না কবিতা লিখতে। কেউ শেখানোরও নেই 🙁

      জুজুবুড়ী রূপকথার একটি চরিত্র। জুজুবুড়ী ভয় দেখায়। আভিধানিক অর্থে ভয় দেখাবার জন্য কল্পিত অশরীরী।

  4. বহু বহু জন্ম-মৃত্যুর আদলে গড়ে ওঠে হৃদয়
    চিহ্ন রেখে যাবার অপপ্রয়াসে হেরে যেতে থাকে
    মনুষ্যত্ত্ববোধ,

    আহ্! অসাধারণ। (y)

  5. আপু আমি কবিতা বুঝিনা গো…..! ;(
    তবে অশুরীরি ছবি টা কিন্তু বেশ আর শুন্য আপু তো বলেই দিলো নিস্তব্ধতা ছবির জন্য সোজা একটা ক্লিক -{@

    কবে যে আমি কবিতা বুঝবো ^:^

  6. ঘটমান সবকিছুরই নিরব সাক্ষি এই প্রকৃতি। মানুষ ভুলে যায় ক্ষাণিক পরেই।কিন্তু একদিন সাক্ষি দিবে এই পৃথিবী।
    জুজুর গল্প শুনতে চায় নক্ষত্র, তার ভয় করেনা বুঝি ;? ।
    একদিন একটি নাটকে দেখেছিলাম ইবলিশ খুঁজতে নরকে যাবার প্রয়োজন হয়না,মানুষের মাঝেই তার বসবাস। তোমার কাপুরুষ পড়ে তা মনে পড়ে গেল।তোমার ছায়া এত লম্বা হয়ে গেল কি করে আপু? 🙂
    ভালবাসা কেমন হয় তা আজও অস্পষ্ট।
    নি:স্তব্ধতা ছবিটি জাস্ট অসাধারণ।

    তোমার কবিতার কথা নতুন করে আর কি বলব আপু। একটি আলাদা স্টাইল আছে, যা অন্য কারো নেই -{@

    1. আপু ছবিটা তোলার পর আমি কি যে খুশী, আমার থেকে আমার ছায়া যে লম্বা। 😀

      এই, এই এত্তো প্রশংসা করোনা। তাহলে মাথা ঘুরে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যাবো যে! 😀

  7. শুন্য শুন্যালয় যেভাবে মন্তব্য করেন, এরপরে আর মন্তব্য করা যায় নাকি?
    সবই তো বলে দেন এক মন্তব্যে 🙂
    অসম্পূর্ণা সবচেয়ে ভালো মনে হয়………
    শুভকামনা -{@

    1. নানা প্রত্যেকেই তাঁর নিজের মতো করে মন্তব্য করেন। সকলেরই নিজস্ব একটা স্টাইল আছে।
      তুমি তোমার মতো করে এই যে মন্তব্যটা করেছো, ভালো লেগেছে।

      ও নানা সম্পূর্ণা আমি কি খারাপ? ;( ঠিক করে বলো, নইলে :@

      1. আমার মন্তব্য গুলো ছোট হয়, এতে অনেকে আবার রাগ করে।
        দৌড়ের উপরে থাকি, ব্লগেই কত কাজ যে করতে হয়
        মন মত মন্তব্য করতে পারিনা।

        তুমি আমার দেখা মানুষদের মাঝে সেরার সেরা একজন মানুষ 🙂

মন্তব্য করুন