অভিমান

বন্ধু ভাগ্য আমার বরাবরই ভালো। এখন পর্যন্ত যে কয়জন বন্ধু পেয়েছি সবাই আমার ভালো চেয়েছে। সবাই চেয়েছে  উড়নচণ্ডী আমিকে সুস্থির শান্ত সর্বোপরি ভালো থাকি। হোক তা ভার্চুয়াল জগতে।

 

জানেন, আমার একজন আপনজন ছিলো। ছিলো বলছি কেনো এখনো আছে! এখন অবশ্য যোগাযোগটা নেই। নাহ্ তার সাথে আমার রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই তবুও সে আমার আপন, আমার কাছের খুব কাছের মানুষ।  তার সাথে দেখা না হলে হয়তো জানতেই পারতাম না কেউ অজানা অচেনা কাউকে কীভাবে আপন করতে পারে? কীভাবে একজন অপরিচিতাকে আত্মার আত্মীয় ভাবা যায়?

 

তিনি আমার এমনই একজন ছিলেন যাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায়। তার সাথে প্রত্যেকটি মুহূর্ত অনায়াসে শেয়ার করা যায়। ইভেন তার সাথে আমার প্রতিটি মুহূর্ত শেয়ার না করলে যেনো পেটের ভাতই হজম হতো না। কিছুদিন তাকে না দেখতে পেলে যেনো হাঁফিয়ে উঠতাম। কোনো না কোনো অজুহাতে ছুটে যেতাম তার কাছে। আমার সুখ দুঃখ হাসি কান্নার কারণ না বলার আগেই তিনি বুঝে যেতেন। আর তাই নিয়ে বেশ ক্ষ্যাপাতেন।

 

আমাদের বয়সের অনেক ডিসটেন্স  হলেও মনের দিক থেকে আমরা দুজনেই সমান। আমরা দুজন দুজনার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে উঠি। আমাদের সম্পর্কটা অন্যরকম অদ্ভুত ছিলো। কখনো সে বেস্ট ফ্রেন্ড, কখনো ভাবী  আবার কখনো অভিভাবক। তার কাছে দ্বিধাহীন চিত্তে আমার সবকিছু শেয়ার করতাম। জানেন তো! সম্পর্ক মানেই মান-অভিমান,রাগ-অনুরাগ থাকবেই। আমাদের সম্পর্কেও ছিল তবে তা স্থায়ী নয়।

 

একদিন অনাকাঙ্ক্ষিত এক সাইক্লোন এসে তছনছ করে দিলো আমাদের একটু একটু করে গড়া সুন্দর সম্পর্ক। হতে পারে তা নেহাতই ভুল বোঝাবুঝি। শেষ বার সে শুধু এ কথায় বলেছিল তুমি সবসময় আমাকে ভুল বোঝ আর কষ্ট দাও! সে বলেছিল একবার দেখা করো সবটা শোন কি হয়েছে? ঐ যে প্রচণ্ড বদমেজাজী জেদি আমি আর কখনোই তার সাথে দেখা তো দূর যোগাযোগ অব্দি করিনি।

 

হয়তো সেদিন তার কোনো দোষ ছিলো না। হয়তো কেনো বলছি ছিলো না, হ্যাঁ আমি বিশ্বাস করি সে এমন কিছু করতে পারে না যাতে আমার বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়। তবুও আমি তার থেকে অনেক দূরে সরে গেছি। সে ভালো মানুষ তার জীবন থেকে বেয়ারা উড়নচণ্ডী আমি চলে গেলেও কিছু আসবে যাবে না। হয়তো কিছু দিন কষ্ট পাবে পরে আবার সব ঠিক হয়ে যাবে। গেছেও তাই

সর্বোপরি আমি চাই সে ভালো থাকুক, খুব ভালো কাটুক তার দিনকাল। খুব ভালো বন্ধু জুটুক তার। আমার মত অকৃতজ্ঞ নয় প্রকৃত বন্ধু পেয়ে যাক। তিনি ঠিকই বলেন ‘বন্ধুত্ব সবাই গড়তে পারে কিন্তু রক্ষা করতে সবাই পারে না’

একদমই তাই আমিও পারিনি বন্ধুত্ব রক্ষা করতে। এ আমার চরম অপারগতা

মোট পড়েছেনঃ ১,১৫১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২১টি মন্তব্য

  1. বন্ধুত্বে ও এখন টাইম পাস আর স্বার্থপরতা এসে গেছে। বন্ধুত্ব সবাই ধরে রাখতে পারে না আর মূল্য ও দিতে জানেনা। একান্ত অনুভূতির মোড়কে লেখার বিষয়বস্তু দারুন লাগলো। শুভ কামনা রইলো অহর্নিশি

  2. “বন্ধুত্ব সবাই গড়তে পারে কিন্তু রক্ষা করতে সবাই পারে না’ একদমই তাই আমিও পারিনি বন্ধুত্ব রক্ষা করতে। এ আমার চরম অপারগতা।
    মনও মতের মিল হলেই বন্ধুত্ব হয়।
    বন্ধুত্বের যত্ন ও নিতে হয়। নাহলে টিকে না।
    ভাল লাগলো। শুভ কামনা।

    1. আমি পারি না নিজের জেদকে দলিয়ে
      ফিরে গিয়ে সবকিছু ঠিক করে নিতে
      আর পারি না বলেই কষ্টে পুড়তে হয়

      কৃতজ্ঞতা অশেষ ভাইয়া
      ভালো থাকুন সবসময়

  3. বন্ধুত্ব থাকে বিশ্বাস শ্রদ্ধা সম্মান এর উপর বেচে থাকে আবেগদিয়ে কোন বন্ধু হয় না সুন্দর লেখেছেন অনেক শুভেচ্ছা রইল আপু

  4. বন্ধুত্ব সবার জীবনে গড়ে উঠে না। কেউ আবার বন্ধুত্বের গুরুত্বও বুঝে না। আবার সামান্য মন কষাকষিতে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়। পরিশেষে বলতে চাই, সাবাই যেন বন্ধুসুলভ মন নয়ে চলে।
    ভালো লাগলো আপনার লেখা।
    শুভকামনা থাকলো শ্রদ্ধেয় দিদ।

মন্তব্য করুন