অবাধ্য

চোখ দুটোকে বললাম ,
অতো স্বপ্ন দেখিস কেন ?
এবার একটু বাস্তবটাকে দেখ ।

আমার ঠোঁট দুটোকে বললাম ,
নিশ্চুপ থাক ।
চাওয়া-পাওয়ার দরজাটাকে বন্ধ করে দে ।

কন্ঠটাকে বললাম ,
আর কোনো চিৎকার নয় ,
ক্রোধ নয় ।
নীরবতা দিয়ে ঢেকে রাখ মুখ ।

হাত দুটোকে বললাম ,
ব্যথা দিসনা ,
আর নিজেও ব্যথা নিসনা ।

পা দুটোকে বললাম ,
সাবধানে পা ফেলিস ।
খুব দ্রুততার সাথে , কিন্তু হোঁচট না খেয়ে পথ চলিস ।

ছোট্ট এই হৃদয়টাকে বললাম ,
নীরবে সয়ে যেতে…
যতো যন্ত্রণা-কষ্ট-অভিমান-রাগ-ক্ষোভ ।

নিজের আদলে গড়া এই মনটাকে বললাম ,
নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখে নে ।
কে শোনে কার কথা !

এই আমার আমিটা বড়ো অবাধ্য ।
কিছুতেই বোঝাতে পারিনা ও যে একদিন মারাত্মক একাকী হবে ।

হ্যামিল্টন , কানাডা
১-লা নভেম্বর , ২০১২ ইং ।

.

মোট পড়েছেনঃ ৯১৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৯টি মন্তব্য

  1. এটা অবাধ্যতা কোথায় ? এটাই তো স্বাভাবিক ।
    বাধা দেয়াটা স্বাভাবিকতা কে রুদ্ধ করা ।

    ভিন্ন চিন্তার কবিতায় ভালো লাগা অনেক।

  2. কখনও কখনও অবাধ্যতা মন্দ নয় কিন্তু ।
    তবে এ অবাধ্যতা মারাত্মক একাকীত্বে রূপ নিক তা কিন্তু চাই না ।

    আপনি সব সময়ই ভাল লেখেন ।

  3. দিদি, তুই একটুও সাবধানে পা ফেলবিনা। তুই সাবধান হয়ে গেলে আমরা পাঠকেরা সুন্দর সুন্দর সব কবিতা থেকে বঞ্চিত হবো… 🙂 বরাবরের মতোই দারুণ হয়েছে দিদি। ভালো থাকিস অনেক।

    1. মনটা কিন্তু বাধ্য এবং আদব । কথা শোনে । কিন্তু সময়টা বেয়াদব এবং অবাধ্য । এতোদিন পর মন্তব্যের জবাব দিতে সময়ের কাছে আবদার করে তবেই এলাম । 🙁

  4. কি সুন্দর লিখেছ আপু, অবাধ্যতার শাস্তি তো তাকে পেতেই হবে, তাই বলে এতো?? মারাত্মক একাকী, ভয় লাগছে শব্দটাকে দেখে। 🙁

মন্তব্য করুন