“সে ” ও তার গল্প (শেষ পর্বের শুরু).

আগুন রঙের শিমুল ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪, মঙ্গলবার, ০৩:০৬:৫৭অপরাহ্ন গল্প ৩০ মন্তব্য

কত্থকের সাথে দেখা হয়ে যায়, এলোমেলো ঘোরাঘুরির ফাকে।

কত্থকের বয়স বেড়েছে চোখেও তেমন ভালো দেখেনা, তবু স্মৃতির অদ্ভূত ঘ্রাণ তাকে মনে করায় সব কিছু।
“সে “ও তুমুল যৌবনের মধ্যভাগে প্রায়। তবুও সর্বাঙ্গে তার নিটোল শৈশব, কত্থক শুধায় বৃদ্ধ হবেনা হে? থিতু হবেনা?
“সে ” ধোঁয়া উড়িয়ে বলে –
বার্ধক্য আমারে নাগালে পাবেনা। তার আগেই …..
কত্থক মুচকি হেসে আনমনা উচ্চারে বলে, গড়ানে পাথর।
পাশাপাশি হেটে চলে দুইজনে, গল্পের কত্থক এবং গল্প নিজেই। হাটতে হাটতে, হাটতে হাটতে হঠাৎ একটা এলোকেশী নদী। কত্থক চমকায়, “সে ” নির্বিকার, যেন তার জানা ছিলো এইখানে থাকবে একটা নদী। মৃত জোছনার মতো আবছায়া যার দুই পার, যার জল আকাশের ছায়ার মতো নিরুত্তাপ। জল হেসে ওঠে ….. বলে এই জল নিয়ে কবিতা লিখোনা। এখানে তোমার একার নিমন্ত্রণ নেই। এইকবিতাটি লিখা হয়েছিল কালের আচড়ে, যাও ফিরে এ জল তোমার নয়।

“সে ” পেরিয়ে আসে নদীটি, আর কত্থক স্তব্ধতা ঢাকতে আনমনা হাত বুলায় উদাসী একতারায়।

সুর্যাস্তের দিকে লক্ষ্যস্থির হেটে যেতে যেতে, যেতে যেতে হঠাৎই এক নরবড়ে কাঠের সাকো। ঐ পারের নাম ….. বহুদুর।
বহুদূর থেকে ভেসে আসা গুনগুন শুনে যেই পা বাড়ায়, অমনি কোত্থেকে আসে এক অদৃশ্য শেকল। ছুয়োনা ছুয়োনা, বহুদূরে একলা প্রবেশ নিষিদ্ধ। জল কই, জল?

কত্থক নির্বাক দর্শক।
গল্পের চরিত্র নিজেই গল্প বলে।

সুর্য ডুববার কালে আড়াল সরে যায়, সামনে আসে পুরনো ভুবনচিল। ক্রুদ্ধ চঞ্চুতে ততোধিক শ্লেষ মিশিয়ে বলে “কিহে, ভেবেছিলে এই পথে আর ফিরতে হবেনা? ভেবেছিলে এড়াতে পেরেছ আমাকে? দেখো, পিছু ফিরে দেখ ”

“সে ” পিছু ফিরে দেখে যাকে নতুন পথ ভেবে হেটে এসেছে কত্থকের সাথে, সেই পথ তার যাযাবর জীবনের। কত্থকের মুখপানে চেয়ে অবাক, অবাক ….. গলে যাওয়া মুখোশের পিছনে তার বহুদিনের পুরনো একাকীত্ব, নিজেই নিজেকে শোনালে জীবনের গল্প।

………. আর ভুবনচিলের ডানার বিস্তারে আকাশ আড়াল, পৃথিবী আড়াল
(ক্রমশঃ)

৪৩৬জন ৪৩৬জন
0 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ