11304518_471810666318017_434541031_n
বিশ্বের সবচেয়ে বড় খুচরো পন্য বিক্রেতা আমেরিকার ওয়ালমার্ট । যারা দেশের বাইরে থাকেন এবং দেশে অবস্থান করে একটু খোঁজ খবর রাখেন তারা সবাই জানেন এই ওয়ালমার্টের বিশালত্বের কথা। সারা বিশ্বে এই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর সংখ্যা হচ্ছে পাঁচ লাখ। খ্যাতনামা এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম ক্রেতা। বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশের উন্নয়নে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাসে ওয়ালমার্ট দেশের গার্মেন্টস মালিকদের পাচশত কোটি টাকা স্বল্প সুদের ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

এই ওয়ালমার্টের লন্ডন বিক্রয় কেন্দ্রে পাওয়া এখন হতে পাওয়া বাংলাদেশের আম। আপাতত সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আম পাওয়া যাবে। ক্রমান্বয়ে দেশের অন্যান্য এলাকা যেমন মেহেরপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎপাদিত অন্যান্য জাতের আমও পাওয়া যাবে।এ বছরের আমার  মওসুমে শুধু ল্যাংড়া ও আম্রপালি পাওয়া যাবে। এরই মধ্যে ওয়ালমার্টের কাছে দেশের ৭ জেলার নয়টি উপজেলার ১৮০ জন আমচাষী নাম লিখিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ থেকে আম ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও যাবে। ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ৩ দশমিক ৭ পাউন্ড (বাংলাদেশী মুদ্রায় সাড়ে ৪শ’ টাকা)।

হঠাৎ কেন বাংলাদেশের আমের প্রতি ওয়ালমার্টের এত আগ্রহ?  এক বাক্যে বলতে হবে আমের কোয়ালিটি। ওয়ালমার্ট তো নিশ্চয়ই কোন টক আম কিনবে না, খেতে সুস্বাদু এবং ঘ্রাণে তীক্ষ্ণ আমের প্রতিই তাদের আগ্রহ। লন্ডনের পরে সারা বিশ্বে যদি ওয়ালমার্ট এই আম নিতে থাকে তবে দেশের রফতানী পন্য হিসেবে আম এক নতুন এবং বিশেষ পন্য হিসেবে গন্য হবে। গুণগত মানসম্পন্ন আম উৎপাদনের প্রতি মানষেুর আগ্রহ বাড়বে।

জানা যায়, গত বছর ওয়ালমার্টের প্রতিনিধিসহ একটি বিদেশী দল রাজশাহী সাতক্ষীরাসহ কয়েকটি জেলায় উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে দেখার জন্য সরেজমিন পরিদর্র্শন করে। এ সময় আমে কোন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহৃত হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত করা হয। তারপর ওই আম জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে এ সব আম নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার পর ওয়ালমার্টে রফতানির অনুমতি পায়।

জাতিসংঘের কৃষি বিষয়ক সংস্থা এফএও-এর এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশ বিশ্বের সপ্তম আম উৎপাদনকারী দেশ। দেশে এখন প্রায় দেড় কোটি আমগাছ রয়েছে। বর্তমানে আম উৎপাদনকারী শীর্ষ দেশ ভারত। এরপরেই রয়েছে চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান। আর আম রফতানিকারক দেশের শীর্ষে আছে মেক্সিকো। এর পরেই রয়েছে ফিলিপিন্স, পাকিস্তান, ব্রাজিল ও ভারত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাব মতে, বাংলাদেশে গত বছর ৯ লাখ ৪৫ হাজার টন আম উৎপাদন হয়েছে। এ বছর ১০ লাখ টন ছাড়াবে। বিশ্বের আম উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি হারে আমের ফলন বাড়ছে। ২০১২ সালে দেশে ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। এ বছর আম চাষ হয়েছে ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ ৮ লাখ ৯০ হাজার টন আম উৎপাদন করে বিশ্বের অষ্টম আম উৎপাদনকারী দেশ হয়েছিল। গত দু’বছরের মধ্যে দেশে আমের উৎপাদন বেড়ে তা ১০ লাখ টন হয়েছে। আগামী বছর সেটা ১২ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। আগামী এক দশকে সেটা ৫০ লাখ টন উৎপাদন করার টার্গেট রয়েছে।

সুত্রঃ-১

সুত্র-২ 

সুত্র-৩ 

 

৫৭০জন ৫৭০জন
0 Shares

২২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ