পুরনো পাতার ভাঁজে…

সাবরিনা ১১ মে ২০১৫, সোমবার, ০১:২৭:১২পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৮ মন্তব্য

প্রায় আট বছর আগের ছেঁড়া ডায়েরীখানি খুলে বসেছি। সবুজ মলাটের পেটমোটা ডায়েরীটায় পাঁচমিশালী ধরনের লেখা। অনেক বায়না করার পর ভাইয়া এটা দিয়েছিল। তখন আমি চতুর্থ শ্রেণীতে। দীর্ঘ পাঁচ বছর লিখেছি একই ডায়েরীতে। লেখাগুলো অত সুস্পষ্ট সাবলীল নয়। শৈশব, কৈশোরের বেশ কিছু অনুভূতি, মুহূর্ত, আত্মকথন, টুকরো কবিতা, বেশ কিছু ছড়া লেখা রয়েছে এতে।

ডায়েরীর পাতার ভাঁজে তিনটে শুকনো গোলাপও রয়েছে। কেউ দিয়ছিল নাকি আমিই রেখেছি মনে পড়ছে না।
প্রত্যেকটি পাতায়, প্রতিটি কথায় কতই না সারল্যমাখা আবেগ আনন্দ, অভিমান ছিল। একদম প্রথম কবিতাটি দাদুকে নিয়ে লেখা। শৈশবটা দাদুর কাছে গ্রামে কেটেছে বলে দাদুর প্রতি টানটা একটু বেশিই ছিল হয়তো। গ্রাম ছেড়ে এসে শহুরে জীবনের সাথে অভ্যস্ত হওয়ার নিদারুন কষ্টের কথাও লেখা রয়েছে।
কাঁচা হাতে একটা শিশু উপন্যাসের মত লেখারও চেষ্টা করেছি। নাম ‘নিতাই টোকাই’। সেটাও শেষ অবধি শেষ করা হয়নি। পুরো ডায়েরী জুড়েই আমার কৈশোরের স্বপ্নপুরুষ ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে নানান কল্পনা জল্পনা।

কাউকে না বলা কিছু কথা, নাম উহ্য রেখে কারো প্রতি লুকিয়ে রাখা গোপন অনুভূতি, একটু একটু করে বেড়ে ওঠার আস্বাদ, ভালো লাগার কিছু মুহূর্ত, প্রথম চুলে বিনুনী করতে শেখার আনন্দ, বন্ধুদের সাথে ঝগড়া, ক’টা প্রিয় গান, কত সংকল্প, কত পণ, পরীক্ষাকে নির্বিচারে গালাগাল; কোনোটিই বাদ নেই।
তবে সবই টুকরো টুকরো, বিচ্ছিন্ন, অগোছালো, অস্পষ্ট আকারের লেখা যেন কোনো প্রসঙ্গ ছাড়াই হঠাৎ শুরু হল, আবার হুট করেই ইতি টেনে দিলাম; যা আমি ছাড়া অন্য যে কারোর পক্ষেই বোঝা অসম্ভব। শুধুমাত্র আমার কাছেই এর প্রতিটি অক্ষরই চেনা, অতি আপন। পড়ামাত্রই সেই একেকটি সময়ের স্পষ্ট সরল দৃশ্যপট চোখের সামনে ঝকঝক করে ভেসে ওঠে।

এখনকার ধ্যান-ধারনা, চিন্তা-ভাবনা, আবেগ-অনুভূতির সাথে তখন ছিল বিস্তর ফারাক। মাঝে মাঝে মিলিয়ে দেখি চারপাশের সংকীর্ণ পরিসর কিভাবে প্রতিনিয়ত প্রসারিত হচ্ছে, সরলতা জটিলতায় পরিণত হচ্ছে। এরই নাম হয়তো বড় হওয়া, ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসা।

৫১৭জন ৫১৭জন
0 Shares

২৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ