কি অদ্ভুত বৈপরীত্য

রিমি রুম্মান ৪ জানুয়ারি ২০১৬, সোমবার, ১২:১০:৫৪অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২১ মন্তব্য

“জন এফ কেনেডি” এয়ারপোর্ট। গিয়েছিলাম বন্ধুর বাবা-মা’কে বিদায় জানাতে। দু’মাস বেড়ানো শেষে তাঁরা ফিরে যাচ্ছেন দেশে। প্রিয়জনদের বিদায় জানিয়ে যাত্রীরা সিকিউরিটি চেকিং এরিয়ার দিকে যাচ্ছে একে একে। সমস্যা বাঁধলো বৃদ্ধা এক যাত্রীকে নিয়ে। ৬/৭ বছরের ছোট্ট মেয়েটিকে কিছুতেই দাদু’র কোল থেকে নামানো যাচ্ছিলো না। গলা জড়িয়ে প্যচিয়ে ধরে আছে। কাঁদছে। ও দা- দু যেওনা … বলে গগনবিদারী কান্না। অনেকটা জোর-জবরদস্তি করে দাদুর কোল থেকে ছাড়িয়ে নেয় মেয়েটিকে তাঁর বাবা, মা। একদিকে শিশুটির বাবা-মা কাঁদছে। অন্যদিকে বৃদ্ধা আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে সিকিউরিটি চেকিং এরিয়ার দিকে যাচ্ছে__ সে এক বেদনা বিধুর থমথমে পরিবেশ। সেদিন সেখানে আমরা যারা দাঁড়িয়ে ছিলাম প্রায় সবার হৃদয়কে নাড়া দিয়েছিলো দাদু- নাতনির বিচ্ছেদ কালীন কান্না। কি অদ্ভুত মায়ার সম্পর্ক !

এদিকে আমরাও বন্ধুর বাবা-মা’কে বিদায় জানিয়ে হাঁটছি পার্কিং লটের দিকে। সঙ্গে বন্ধু, তাঁর স্ত্রী আর ৭/৮ বছরের ছেলে। বললাম, “আপনার ছেলেরও নিশ্চয়ই এমনই খারাপ লাগছে দাদা-দাদু’র জন্যে… হয়তো প্রকাশ করতে পারছে না।” বন্ধু পত্নী মৃদু হেসে জানালেন__ আমার ছেলে খুশি… একটু আগেই সে বলেছে, “ভালোই হলো এবার আমরা আরাম করে থাকতে পারবো” ! দাদা- দাদী থাকাতে তাঁদের “আরাম করে থাকা”য় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে বৈকি ! কি অদ্ভুত বৈপরীত্য !

বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছি। গাড়ি হাইওয়ে ধরে ছুটে চলছে। কানে বাজছে ছোট্ট মেয়েটির কান্না __ ও দা-দু যেও না…

চোখের সামনে ভেসে উঠছিলো __ অনেক বছর আগে এদেশে আসবার সময়টাতে দাদু’র সাথে দেখা করতে গ্রামে যাই। দাদুকে আমরা “বু” ডাকতাম। আমি বিদেশ চলে যাচ্ছি বিধায় পরিবারের সকলের বিষণ্ণ মন। আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে লাঠি ভর করে হেঁটে হেঁটে আমার বু অনেকটা পথ এসে দাঁড়িয়েছিলো। বয়সের ভারে নুইয়ে থাকা মানুষটি ঠায় দাঁড়িয়েছিলো, আমি তাঁর দৃষ্টিসীমায় মিলিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত।

একের জন্যে অপরের ভেতরটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া এক সম্পর্ক…

মায়া-মমতা আর ভালোবাসায় মিশে থাকা পারিবারিক মূল্যবোধের সম্পর্ক…

সম্পর্কগুলো তো এমনই হবার কথা, তাই না ?

৪৩১জন ৪৩১জন
0 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ