আয় খুকু আয়

রিমি রুম্মান ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫, বৃহস্পতিবার, ১১:৫৯:১২পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩১ মন্তব্য

এক দুপুরে আমি দ্রুত পায়ে হেঁটে যাচ্ছি ছেলের স্কুলের দিকে। ছুটি হয়ে গেলে, আমায় না দেখলে ছোট্ট মানুষটির মন খারাপ হবে। আমার যে আগেভাগে স্কুল গেটে অধির আগ্রহে দাঁড়িয়ে থাকবার কথা। স্কুল গেটে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। একে একে অন্য শিশুদের সাথে রিয়াসাত বেরিয়ে আসে। জড়িয়ে ধরে। আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটছিলাম। ঠিক সেই সময়ে ফোন আসে। পৃথিবীর সবচাইতে ভারী এবং দুঃখের সংবাদ ! দেশে আমার সুস্থ সবল মা বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সে-ই যাওয়া ! আর ফিরেননি। মানচিত্রের এই প্রান্তে আমি যখন আমার সন্তানের হাতখানা শক্ত করে ধরে পথ চলা শেখাই, ঠিক সেই সময়ে অন্যপ্রান্তে আমার মা আমায় একলা চলতে শিখিয়ে, হাতখানি ছেড়ে দিয়ে পাড়ি জমালেন অনন্তের পথে…

 

আমার বাবাকে চিকিৎসার জন্যে যেদিন ঢাকায় আনা হলো, তাঁর ভাল হয়ে উঠবার আশায় তুমুল আনন্দ আর স্বস্তি নিয়ে সেদিন ঘুমোতে গেলাম। পৃথিবীর এক প্রান্তে আমি যখন বাবা’কে জড়িয়ে ধরার, হাত দু’টো ধরে বসে বসে আবারো আগের মতন গল্প করবার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক সেই সময়ে অন্য প্রান্তে আমার সরল সংগ্রামী বাবা হাসপাতালের যন্ত্রগুলোর সাথে যুদ্ধ করে করে হেরে গিয়ে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়লেন। জেগে উঠে আমি পাই শতাব্দীর নিষ্ঠুরতম সংবাদ। এক্‌লা হয়ে যাবার সংবাদ…

 

সন্তানদের এক্‌লা পথ চলতে শেখানো শেষে সব বাবা-মায়েদেরই কি পৃথিবীর পথ চলা ফুরিয়ে যায় !

যাঁদের বাবা-মা বেঁচে আছেন, তাঁরা অনেক ভাগ্যবান।

জানিনা ক’জনে আমার মতন
মিষ্টি সে পিছু ডাক শুনতে যে পায়
আয় খুকু আয়……  🙁

১০৩০জন ১০৩০জন
0 Shares

৩১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ