অসম্পূর্ণ রাত্রি

তামিম রুহুল ৯ আগস্ট ২০১৫, রবিবার, ১২:০২:২৪অপরাহ্ন বিবিধ ২ মন্তব্য

সিয়াম বললো বাজি লাগ তারপর দেখ আমি কি পারি আর কি পারি না।সিয়ামের আকস্মিক এই কথা শুনে আরিফ কে বললাম বাদ দে ছেলে আমনিতেই নাছর বান্দা পরে বিপদে পরবে বাদ দে।সিয়াম ছিল আমাদের মধ্য সাহসী শুধু সাহসী তা না অতিরিক্ত সাহসী।

আরিফ জাকে ভালবাসে তার নাম রত্না এবং সে সিয়াম এর কাজিন।এক কথায় সিয়ামের মাধ্যমেই তাদের মধ্য রিলেসন গড়ে উঠে।কিছু দিন যাবত আরিফের সাথে রত্না এর যোগাযোগ এ সমস্যা হচ্ছিল,সম্ভবত রত্না এর মোবাইল টা বাসা থেকে নিয়ে নিয়েছে।

সেদিন আরিফ খুব আপসেট।সিয়ামের বন্ধুদের মধ্য অন্যতম বন্ধু হল আরিফ বলা যায় বেস্ট ফ্রেন্ড।তাই স্বভাবতই সিয়ামের ও ভাল লাগছিল না।
সময় বিকাল ৫টা, সিয়াম প্রস্তুত যাবার জন্য,আরিফ তার সদ্য ক্রয় কিত মোবাইল টি তাকে দিল আর বেশ কিছু টাকা দিয়ে দিল। সিয়াম কে বেশ কয়েক বার বারন করলাম কারন একা এত রাতে এবংতাদের বাসা ছাতিরপারা নামক এর অজপারা গ্রামে যেখানে যেতে যেতে গভীর রাত হয়ে জাবে। কিন্তু সে যাবেই! আরিফ যেন কি ভাবছিল,মনে হয় বারণ করবে।কিন্তু না! সে বলে উঠল শুভ্র তুই ও যা,সিয়ামের একা যাওয়া ঠিক হবে না তুই সাথে গেলে দুজন মিলে চলে যেতে পারবি,ভাড়া আমি দিচ্ছি।আমি কোনভাবেই রাজি না কারণ আমি একবার সেখানে গিয়েছি, সেখানে এখন যাওয়া ঠিক হবে না বরং তুই যা। আরিফের এক্সাম আছে তাই তার যাওয়া সম্ভব না ঠিক হল আমি আর সিয়াম ই জাব।

রাস্তায় হাটছিলাম,সিয়াম কে বললাম এত রাতে এমন জায়গায় যাওয়া টা মনে হয় ঠিক হবে না,সে অভয় দেখিয়ে বললো চল,ভয় করিস কেন,সাহস নাই!ওকে আর কিছু না বলে বাসে উঠলাম,বাস চলা শুরু করল।আমাদের কুষ্টিয়া পৌছাতে পৌছাতে প্রায় রাত বার টা পার। পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক লাগছিল না কারন মনে হচ্ছিল এলাকা জনমানব হীন।আমার যথেষ্ট ভয় করছিল পারলে আমি এখন আবার ফেরত যাই এমন অবস্থা।

আমরা হাটা শুরু করলাম। আশে পাশে তেমন কিছু চোখে পরল না, সিয়াম সিগারেট টা ধরাতে ধরাতে বললো আজ হেটেই পার করতে হবে,আমিও বললাম হ্যা দেখা যাবে। লক্ষ্য করলাম একটা ভ্যান দেখা যাচ্ছে,এবং সেটা এদিক এই আসছে,অনেক্ষন পর ভ্যান এর দেখা পেয়ে আমার বেশ আনন্দ লাগছিল, তাই ভাড়া এর ব্যাপার এ তেমন কিছু না বলে,জায়গার নাম বলেই উঠে পড়লাম। ভ্যান চলতে শুরু করল।

অন্ধকার অধীক হবার কারনে ভ্যান চালক কে দেখা যাচ্ছিল না,তবে তিনি যথেষ্ট বয়স্ক এবং ভাল ভ্যান চালায় বলে মনে হচ্ছিল,কারণ এখানকার রাস্তা মোটেই পাকা নয় শুধু ঈট দেওয়া রাস্তা। সিয়াম একের পর এক সিগারেট খাচ্ছিল যেটা আমার ই ভাল লাগছিল না,আমি বলতাম কিন্তু আমার বলার আগেই ভ্যান চালক বলে উঠলেন ‘বাবা,সিগারেট টা পরে খাও’ তার কথা শুনে আমি নিজেই বিস্মিত হয়ে গেছিলাম তার ভয়েস টা এত সুন্দর যা বলার মত না,এ কথা শুনার পর সিয়াম রেগে যাচ্ছিল তাকে শান্ত করিয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম প্রচন্ড ঘুম চেপে ধরেছিল আমায়,সিয়াম ও শুয়ে রইল।

মনে হয় দুই মিনিট ও ঘুমাই নি,সিয়াম ডেকে তুলে দিল,চল বারি এসে গেছি।সিয়াম তার একক বন্ধুকে আগে থেকেই ফোন করে বলে দিয়েছিল যে আমরা আসছি,ভ্যান থেকে নেমে বাড়ির দিকে যাচ্ছি,সিয়াম কে বললাম ভ্যান চালক আমাদের বাড়ি চিনল কিভাবে?
সিয়াম বলল তুই বলিস নি!
-না!
আমি ও তো বলি নি!
এ কথা শুনে দুজন পুরো থ হয়ে রইলাম,এটা কি করে সম্ভব, আমরা আবার রাস্তায় দৌর দিলাম কিন্তু কোন ভ্যান এর চিহ্ন ও দেখলাম না।বিষয়টা এখানেই শেষ হয়ে যেত,কিন্তু রাব্বির কাছ থেকে যখন শুনলাম তাদের কালভার্ট টা এক সপ্তাহ আগে ভেংগে গেছে,ভ্যান আসার প্রশ্নই আসে না। তখন সিয়ামের দিকে তাকিয়ে রইলাম আর ভাবলাম আমরা কি দেখলাম, সেটা তাহলে কি ছিল!

৪৫৬জন ৪৫৬জন
0 Shares

২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ