সাড়ে পাচ বছর প্রায় আমি এই কন্ডেম সেলে। মৃত্যুর অপেক্ষায়। সাড়ে পাচ বছর ঠায় কারো বা কিছুর জন্য অপেক্ষা করা তোমার কাছে কেমন মনে হয়? মরছিলাম আমি প্রতি পলে পলে। মুহুর্তে। ঘন্টায়.. প্রতিটি সুর্যোদয় এবং সুর্যাস্তে! দুর্ভাগ্য আমার। একজন মুক্ত মানুষ হিসেবে আমি আয়েশ করে, একটা সুর্যোদয় কিংবা সুর্যাস্ত দেখতে পারিনি.. বিগত বছরগুলিতে। নিজের সেলে [বিস্তারিত ★কয়েদী নাম্বার ৪৪০৮৮৭★]
ট্যাগ মামুনের অণুগল্প
” এক কোটি বছর হয় তোমাকে দেখি না একবার তোমাকে দেখতে পাবো এই নিশ্চয়তাটুকু পেলে- বিদ্যাসাগরের মতো আমিও সাঁতরে পার হবো ভরা দামোদর… কয়েক হাজার বার পাড়ি দেবো ইংলিশ চ্যানেল; তোমাকে একটিবার দেখতে পাবো এটুকু ভরসা পেলে অনায়াসে ডিঙাবো এই কারার প্রাচীর, ছুটে যবো নাগরাজ্যে পাতালপুরীতে কিংবা বোমারু বিমান ওড়া শঙ্কিত শহরে। যদি জানি একবার [বিস্তারিত ★★কোনো এক বৃহস্পতিবার★★]
নিশ্চুপ বিকেল। রমজানের শেষ ভাগ। ঝুম বৃষ্টি। নিজের চেম্বারে শিহাব। বড় মেয়ে ফোন করেছিল। কথা হল। ঈদের কেনাকাটা সংক্রান্ত। আর তিনদিন পরেই ঈদের ছুটি। এবার আর বাড়ি যাওয়া হল না শিহাবদের। নাড়ির টান। এর অনুকূলে ভাসা হল না। টিকেট পেতে পেতে ও.. কনফার্ম হল না। ‘তুমি কি আসলেই যেতে চেয়েছিলে? যদি চাইতে তবে টিকেট কোনো [বিস্তারিত ★★বংশ★★]
বাইরে বৃষ্টি। বেশ আগেই সন্ধ্যা নেমেছে, বৃষ্টিস্নাত ঝাপসা কাচের ওপারের দ্রুত সরে যাওয়া দোকানগুলির আলো, বাসের জানালার পাশে বসে থাকা কণার কাছে, ছবির মত মনে হয়। আজকাল কত কিছু-ই তো মনে হয়! জানালা দিয়ে দমকা বাতাসের এক আউলা ঘূর্ণি, বুকে করে সুগন্ধি বয়ে নিয়ে আসে। এক পলকে বিবশ মন ধীরে ধীরে আরো প্রগলভ হয়ে উঠে। [বিস্তারিত ★★পলাতক চাঁদ★★]
অফিসার্স ক্লাবটির পশ্চিম পাশে লন টেনিস খেলার গ্রাউন্ডটি পুরোটা নেট দিয়ে ঘেরা। নেটের ওপাশে গাছপালা কেমন জঙ্গলের মত হয়ে আছে। বেশীরভাগই কাঁঠাল গাছ। লন টেনিস মাঠ আর জঙ্গলটির মাঝ দিয়ে পায়ে চলা পথটি কিছুদূর গিয়ে ডানে বেঁকে গেছে। এরপর সোজা হয়ে বিরাট দীঘিটার পাশ দিয়ে পুরনো কলা ভবনের দিকে গিয়ে অন্য পথগুলোর সাথে মিশেছে। আমাদেরকে [বিস্তারিত ★★তার ফিরে যাওয়া★★]
তিনটি অণুগল্প পোষ্ট করছি… একঃ সময়সীমা মধ্যরাত >>>>>>>>>>>>>>>>> সময় তখন মধ্যরাত। দুই বাচ্চাকে পাশে নিয়ে জেসমিন শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে। কি মায়া নিয়ে ওরা তিনজন ঘুমের ভিতরেও শিহাবকে আকর্ষণ করে চলে। সে চোখ আর ফিরাতে পারে না। কিছুক্ষণ আগে নারী-পুরুষের স্বাভাবিক লেনদেন এর সময় ও এই মায়াটা দেখতে পায় নি শিহাব। তখন আসলে দেখার কিছু থাকে [বিস্তারিত তিনটি অণুগল্প]
প্রচন্ড ঘুমে চোখ বুজে আসছে! বসন্তের মাতাল হাওয়া চালতে গাছের সবুজ ছুঁয়ে ছুঁয়ে জানালা দিয়ে আমাকে স্পর্শ করছে। কোন আমাকে? আমি ক’জন? ভিতরের আমাকে এখন আর কিছুই স্পর্শ করতে পারে না। আমি অষ্পৃশ্য নারীর মত এক হৃদয়হীন পুরুষ। হৃদয় টা আমার মাদারের কাছে সেই অনেক আগেই রেখে এসেছিলাম আমি। এখন বেঁচে আছি এক রক্ত পাম্প [বিস্তারিত Mother! কোথায় তুমি?]
জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন। কালো মেঘে ঢেকে আছে পুরোটা আকাশ। মেঘ জমেছে মনের কোণেও। আকাশের মেঘ কিছু পরেই সরে যাবে, মনের বিষন্নতার কালো মেঘ এতো সহজেই কি তাঁকে নিষ্কৃতি দিবে? সবাই চলে গেছে। ছুটি হয়ে গেছে। সেকশনের সবাই যাবার পরেও কিছু কাজ পেন্ডিং থেকে যায়। সেগুলো আগামীকাল করলেও চলে। কিন্তু মোবারক সাহেব কোনো কাজ আগামীকালের [বিস্তারিত অবসর]
একদিন কথা হচ্ছিলো মেকুরাণীর সাথে। পাশে মেকুর কন্যারাও রয়েছে। টুকটাক কথাবার্তা। নির্দোষ গীবত ও হচ্ছিলো কিছু। গীবত ও কি কখনো নির্দোষ হয়? মনে হয় না। তবে আমাদের নাগরিক জীবনে এই জিনিসটা খুবই স্বাভাবিক লাগে আমাদের কাছে। সপ্তাহের একটি দিন কাছের মানুষদের সাথে একজন আদর্শ মানুষ হিসাবে থাকবার চেষ্টা করি। এজন্য বেশীরভাগ সময়ই কথা শুনে কাটে [বিস্তারিত ভালোবাসা এমনই]