‘ মীরার বিয়ের অনুষ্ঠানেই কীর্তনের সাথে দেখা হয়ে গেল। মীরার বরের দুঃসম্পর্কের ভাই কীর্তন। দুজনই দুজনকে দেখে চমকে উঠেছিল। মীরার মেকআপ বেশি হয়ে যাওয়ায় হাসতে পারছিল না, কীর্তনের সাথে আকস্মিক সাক্ষাতে অসুবিধাটি দূর হল। মীরার বরটি বোকাসোকা গোছের, কীর্তনের আচরণ দেখে তাই কিছু বুঝতেও পারে নি। মীরার অন্যতম কাছের বন্ধু হওয়ায় সবই বুঝতে পারছিলাম। মীরার [বিস্তারিত মনসূত্র]
ক্যাটাগরি গল্প
আগেই বলেছি ইমন যেখানে, ঝামেলা সেখানে। প্রতি মাসের চার-পাঁচ তারিখে ইমনকে টাকা পাঠান মজিদ সাহেব। তার বোকা সোকা পিয়ন মনজু এপ্রিলের এক বিকেলে ইমনকে টাকা দিয়ে এসে মজিদ সাহেবকে যে তথ্য দিল তাতে রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন ব্যাপার। মজিদ সাহেব খুটিয়ে খুটিয়ে ভাতিজার খবর নিচ্ছিলেন। কথাবার্তার মাঝে তিনি জানতে পারলেন ইমন মনজুকে দামী হোটেলে [বিস্তারিত নিছক গল্প-৪]
মজিদ সাহেব লং জার্নির কারণে অবসন্ন বোধ করছেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আজ শুধু শুয়ে শুয়ে বিশ্রাম নেবেন। তিনি সাবান মেখে কঠিন একটা গোসল করলেন। সাধারণত বিয়ে করার দিন এ রকম সব জায়গায় সাবান পৌঁছে দেয়া হয়। গা মুছে মাথার বাম পাশে একটা সিঁথি কেটে টিভির সামনে বসলেন তিনি। বোতামে চাপ দেয়ামাত্র শহীদ কাপুরের নিষ্পাপ মুখটা [বিস্তারিত নিছক গল্প-৩]
“… … … আ ডার্টি বিচ” – অহেতুক উত্তেজনায় পাবলিক বাসের সংরক্ষিত আসনে বসে ফোনালাপরত তরুণীকে উৎসর্গকৃত স্বগোক্তির লেজের অংশটুকু প্রকাশ হয়ে পড়ে। সামনের আসনে বসা অফিসগামী ভদ্রলোক বিরক্তি মেশানো অনুসন্ধিৎসু চোখে আমার দিকে তাকান, পাশে কাউকে খুঁজে না পাওয়ার ব্যার্থতাকে সফলতায় রূপান্তর করতে সে ড্রাইভারকে ‘লাট সাহেব’ ও ট্র্যাফিক পুলিসের মাকে ‘কুত্তি’ সম্বোধন করেন। [বিস্তারিত আ ডে অফ আ সাইকোটিক]
রোনিতার শোবার ভঙ্গীটা এমনই, যেন কুন্ডলি পাকানো সাপ। আমার বুকের একদম মাঝখানে কেমন জমে থেকে শোয় মেয়েটা। মুঠো পাকানো হাতের ভেতর কে জানে কতগুলো দীর্ঘশ্বাস সে পুরে রাখে! আমি বরং ওর এই সর্পিল ভঙ্গি নিয়েই বেশ আয়েশী চিন্তায় ডুবে যেতে পারি যে কোন সময়। ঠিক ‘দ’ নয় বরং বলা যায় আস্ত একটা ডিমের মতই ইষৎ [বিস্তারিত জনপ্রিয় কথাশিল্পী শাকিলা তুবা’র একটি গল্প —– “শিশমহল”]
‘ “হ্যালো, মা, বলো।” “তোর কী মাথা ঠিক আছে, কিন্তু?” “মা, আজ পর্যন্ত কখনো কি তোমার মনে হয়েছে যে আমার মাথা ঠিক আছে?আমি একটু ব্যস্ত ,পরে কথা বলব। আচ্ছা? বাই।” কেটে দিল কৃন্তনিকা। দশ মিনিটেই আবার এলিনার ফোন এল। “হ্যালো, এলি।” “হ্যালো,কি হয়েছে, বলতো? আন্টি আমাকে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করছে। কিন্তু ,দ্যাখ-” “তুই আমাকে বুঝাতে [বিস্তারিত DarlinG]
মজিদ সাহেবের মনোরাজ্যের একটা অংশ বিদ্যাপিপাসু অতীশ দীপংকর এবং অপর অংশটা জীবনানন্দ দাশ শাসন করেন। অতীশ দীপংকরের আছর থাকায় তিনি সারাটাজীবন কঠোর পড়াশুনা করেছেন, সুমনের কলেজের কাছাকাছি উপজেলা সদরে এই বাড়িটা তৈরী করেছেন, সুমনের বড় ভাই ইমন’কে ড-এর সাথে ডট ছিনিয়ে আনার জন্য অষ্ট্রেলিয়া পাঠিয়েছেন। দাশ বাবু অবশ্য মজিদ সাহেবকে দিয়ে এতোটা দৌঁড়-ঝাঁপ করান না। [বিস্তারিত নিছক গল্প-২]
সুমনের ঘরে বাসর রাতে বাত্তি নেভানোর গান বাজছে। বাসর রাতে বাত্তি নিভে যাওয়া মানে মামলার শেষ স্বাক্ষীটারও পটল তোলা-একটি কি করি না করি টাইপের ইন্টু মিন্টু অবস্থা। বাঙলা গান একটা শরীরী ঠিকানার দিকে ছুটছে। এখন সে বাসর ঘরে হাজিরা দিচ্ছে, মধ্যরাতে ঘরের মধ্যে খুট্ খুট্ শব্দ হচ্ছে। সুমনা নামের এক কোটিপতি কন্যার একটু মনযোগ পাবার [বিস্তারিত নিছক গল্প-১]
সে গল্পকার। কয়েকদিন ধরে একটি গল্প মাথায় ঘুরছে, কিন্তু গুছিয়ে লিখতে পারছে না। খুবই অস্থির লাগছে। গল্প লেখা তার নেশা। চায়ের নেশার মতো না বরং আফিমের নেশার মতো। সে গল্প লেখে নিজের জন্যই। নিজের লেখা দেখে নিজেই মুগ্ধ হয়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে মাথায় থাকা গল্পটি আঙ্গুল পর্যন্ত আসছে না। পাতার পর পাতা লিখে ছিড়ে ফেলে [বিস্তারিত গল্পকার]
———————————————————————————- উৎসর্গঃ সেই সব স্বপ্নবাজ মানুষদেরকে, অদম্য ইচ্ছার বলে যারা নিজেদের “ইচ্ছা পূরনের গল্প” রচনা করে যাচ্ছে…। ———————————————————————————– মাঝরাতে হঠাৎ করে ঘুম ভেঙ্গে গেল নিশাতের।বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে।কষ্ট করে বিছানা থেকে উঠে ডিম লাইটটা জ্বালালো ও।বিছানায় অঘোরে ঘুমুচ্ছে জাহিদ। আবছা আলোয় ওর মুখের দিকে তাকাল নিশাত।মুখ হা করে ঘুমানোর অভ্যাসটা আর গেল না জাহিদের। এটা [বিস্তারিত “ইচ্ছা পূরনের গল্প”]
শুক্রবারে নিজের চেম্বারে বসি। রোগীর ভিড় লেগেই থাকে। সেদিনও দেখছিলাম। ‘আলপনা’ নামের ছাব্বিশ-সাতাশের একটি মেয়েকে নিয়ে এসেছিলো তার হাজব্যান্ড মৃদুল। আলপনাকে চেকআপের পর বললাম- “দেখুন, পেশেন্টের যা অবস্থা দেখলাম, উনাকে হসপিটালে অ্যাডমিট করা উচিত। আমার চেম্বারে না এনে-” “ওকে হসপিটালে ভর্তি করতে চাই না”, মৃদুল বলল। “পেশেন্ট কিন্তু ডেঞ্জারাস, বাসায় সামলাতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে [বিস্তারিত মনময়=মন্ময়]
তালগাছের মতোই লম্বা ছেলেটা। সবসময় কুঁজো হয়ে হাঁটে। মাটির সাথে মিশে যেতে পারলেই যেন ভাল হতো। এই রেলস্টেশনটা শাওনের প্রিয় একটা জায়গা। প্রায়ই আসে শাওন, রেললাইনের উপর দিয়ে হাঁটে। কখনো বা বেঞ্চে বসে, চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে। অন্যদিনের মতোই এক বিকেলে বেঞ্চে বসেছিল। খেয়াল করল, বিয়ের সাজে সজ্জিত এক মেয়ে আসছে বেঞ্চের দিকে। বৌ সাজলে সব [বিস্তারিত অন্যপূর্বা]
ট্রেনে ঢাকা ফিরছিলাম। নতুন গল্পের প্লট নিয়ে ভাবছিলাম। আমার কামরার সঙ্গীটি পঁচিশ-ছাব্বিশের এক তরুণী। শুনেছি, দুটি স্ত্রীলোক একজায়গায় থাকলে বেশিক্ষণ চুপ থাকতে পারে না। আমি চুপচাপ ছিলাম। আমার সাথের মেয়েটি চুপ থাকতে পারল না। ওর নাম ‘অহনা’। ‘জেরিন মির্জা’ পরিচয় দিতেই বলে উঠল,”আপনার হাজব্যান্ডই কি ঐ ফ্রেঞ্চ ফটোগ্রাফার? নাম টা যেন কি?” “আঁদ্রে পার্কিনস। এক্স-হাজব্যান্ড।” [বিস্তারিত খণ্ডিতা]
বুধবার রাত ১১টা। দরজার বেল বাজলো। অহনা দরজা খুলল। লম্বামতন একজন, খোঁচাখোঁচা দাড়ি। অহনা সবিস্ময়ে বলল, “অপু” “কিরে, অহো ” “এই অসময়ে কেউ ভদ্রলোকের বাসায় আসে?” “I guess,এটা ভদ্রলোকের বাসা নয়। ভদ্রলোকের বাসার দারোয়ান ঢুকতে দিল যে। ফ্রেন্ডের বাসায় আসার কোন নির্দিষ্ট টাইম আছে নাকি? ভেতরে ঢুকতে দিবি না?” “আয় ,কিছু খেয়ে এসেছিস নাকি?” “আমার [বিস্তারিত অহো-কথা]
সাইকিয়াট্রির ওয়ার্ড চলে তখন। বদলি হয়ে আসা মধ্যবয়সী এক স্যার সাইকিয়াট্রির থিওরি ক্লাসগুলো নিতেন। আমরা তাকে Psycho sir বলে ডাকতাম। একমাত্র এই স্যারটিই আমাদের জোর করে ধরে ক্লাস করাতেন না। অন্য ওয়ার্ডের স্যার জোর করে ধরে রাখতেন, উনারা উনাদের স্পীচ ডেলিভারি করবেনই, আমরা নিতে পারলাম কিনা -সেটা তাদের ব্যাপার না। Psycho sir চল্লিশোর্ধ হলেও বেশ [বিস্তারিত PsYcho স্যার]