পশ্চিমা সূর্য ডুবে গেলে ঐ দূর হতে ভেসে আসে ধরণীর লালিত সুগন্ধি। ধূলি উড়িয়ে এক ঝাঁক মহিষের দল ঘরে ফেরে। সুজলা, সুফলা, শস্যশ্যামলার গায়ে পশ্চিমা সূর্য ডুবে। অর্জুন গাছে চাঁদ এসে লুকোচুরি খেলে। পাড়ার দ্বার দিয়ে বয়ে গেছে ছোটখাটো গেরুয়া নদী। সে নদীতে কত মাছ খেলা করে। জোনাকি পোকার আলোতে রাতের সন্ধ্যা মাখে উড়ে বেড়ানো [বিস্তারিত ছেলেবেলার সকাল]
শরৎ কবে চলে গিয়েছে। এখন আর কাশফুল নেই বললে চলে। দু একটা শিউলি ফুল ব্যতীত। একটানা বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর সবেমাত্র শীত চেপে বসেছে। চারদিক জুড়ে ঘন কুয়াশা আর শীতের তীব্র শনশন বাতাস। অবশ্য এখনো পুরোপুরি শীত চেপে বসেনি। কেননা সবেমাত্র হেমন্তকাল। সদ্যজাত হেমন্তের সাজে বাড়ির আঙিনা জুড়ে ফুটে উঠেছে গাঁদাফুল, জবাফুল আর কত সুগন্ধিজাত ফুল। শরতের [বিস্তারিত শোকের কাতরে আত্মহত্যা]
বেলা অনেকটা পড়েছে। শরৎ শেষে হেমন্তের মাঠ জুড়ে কেবল ধানের সুধাময় গন্ধ বহির্ভূত হচ্ছে। আরক্তভায় সেজে আছে বিকেলের রক্তিম গোধূলি। পড়ন্ত বিকেলের সে রক্তিম সূর্যের পাশ ছোঁয়ে যায় মেঘছায়া। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। চারদিক জুড়ে কেবল মাতাল করা হাসনাহেনার গন্ধ। দিব্যভাবে স্নাত হচ্ছে মোহনীয় অনুরাগ। আকাশের এককোণে প্রস্ফুটিত পূর্ণচন্দ্র ধীরে ধীরে রক্তিম থেকে গৌরবর্ণ ধারণ করছে। [বিস্তারিত রক্তরাগে সাজাব তোমায়]
শহরের চটপটি বিক্রেতার ভ্যান থেকে ধনিয়া পাতা আর অলিগলি চায়ের দোকান থেকে চা পাতার গন্ধ মোহনীয় করে তুলছে পড়ন্ত বিকেল। ইরিধানের লাজুক পাতার অগ্রে গোধূলি ছুঁই ছুঁই। বেলা শেষে সজনের পাতা গুলো ঝরে পড়েছে। স্থিরমান নদীতে ভাসমান দু একটা পানসি ব্যতীত আর কিছু নেই। নদীতে পলি জমতে বসেছে। সময় অনেকটা পেরিয়ে গোধূলির সূর্য যখন ডুবতে [বিস্তারিত ওঠে দাঁড়াবার গল্প]
আকাশে মেঘ জমলে অন্ধকার ঝুপ করে এসে বসে। বেড়ে যায় তীব্র শীতের হিমেল হাওয়া। বেলা অনেকটা। পশ্চিমা সূর্য ধীরে ধীরে দক্ষিণায়নে হেলে পড়ছে। নতুন বইয়ে শিল্পীর তুলির আঁচ। কিন্তু এখনো আমাদের কবিতা লেখা হয়নি। তৈরি করা হয়নি পাণ্ডুলিপি। জানালার ফাঁক দিয়ে ফুরফুরে করে বাতাস ঢুকছে। মৃদুমন্দ ঠাণ্ডা হাওয়ায় শরীর জুড়ে শীতার্ততা জানান দেয় হেমন্তের বুকে [বিস্তারিত ব্যাকরণের নিয়ম ভেঙে]
অগ্রহায়ণ আসলে গ্রাম জুড়ে ইরিধানের দাম্ভিকতা বেড়ে যায়। সে সুযোগে রাখালিয়া মেয়েটির কাজল চোখে হেমন্তের বাহার বাড়ে। ইচ্ছামতিও স্রোতহারা হয়ে আপন লাজুকতায় ছুটে চলে। ইরিধানের মাঠ জুড়ে আছে কেবল সুগন্ধিময়। বিকেল হলে কবির কাব্যপাঠে ডাহুক পাখিরা আসে। জানালার ফাঁক দিয়ে আলতো রোদে হিমেল বাতাস ঢোকে। ধূপ ধুনার গন্ধে গোধূলিসন্ধ্যা নামে। আকাশের ধবল মেঘের মতো একঝাঁক [বিস্তারিত শব্দের বিচ্ছেদ]
ভাইফোঁটা হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি চিরন্তন সম্প্রীতির উৎসব। এই উৎসবের পোষাকি নাম ‘ভ্রাতৃদ্বিতীয়া’। ভাই-বোনের ভালবাসার বন্ধন অনন্তকাল অটুট রাখার জন্য বংশপরম্পরায় এই বিশেষ উৎসব পালিত হয়। ভাই-বোনের নিঃস্বার্থ ও স্বর্গীয় ভালবাসার প্রতীক এই ভাইফোঁটা আমাদের মনে শান্তি, সৌভাতৃত্ববোধ এবং ঐক্যের এক চমকপ্রদ আবেশ সৃষ্টি করে। ভাইফোঁটার দিন-ক্ষন :- বাঙ্গালী হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, এই উৎসব কার্তিক মাসের [বিস্তারিত ভাইফোঁটা ও তার সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত :-]
দীপাবলি হিন্দু-সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক বিশেষ উৎসব। এই উৎসব বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন ভাবে পালিত হয় যেমন, দ্বীপাবলী, দেওয়ালি, দীপান্বিতা, দীপালিকা, সুখরাত্রি, সুখসুপ্তিকা ,যক্ষরাত্রী ও ভাইফোঁটা প্রভৃতি। ভারতবর্ষে দীপাবলি- শুধু হিন্দুদের নয়, শিখ, জৈন ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদেরও অনুষ্ঠান। অর্থাৎ এই উৎসব সার্বজনীন। পাঁচদিন ব্যাপী উৎসব এই দীপাবলীর আগের দিনকে দীপাবলি উৎসবের প্রথম দিনে শ্রীকৃষ্ণ নরকাসুরকে বধ করেছিলেন। এই [বিস্তারিত দীপাবলি ইতিকথা]
মহারণ্য জুড়ে কেবল শুকনো পাতার মরসুম। পাড়া মহল্লা জুড়ে নবান্নের আমেজ। শরতের শিউলি ফুলের গন্ধ মাখতে গিয়ে,ইরিধানের বাহার বেড়েছে হেমন্তকে ছুঁয়ে। একে একে নুয়ে পড়ছে ধানের শীষ। শুধু কাঁধে করে ঘরে নিয়ে ফেরার পালা। এ সাদাকালো জীবনে আসে এক ফুটফুটে সুগন্ধির আমেজ। ভাটা পড়ে যায় অতীতের ঝলসানো স্মৃতি। তুমি আবার বলে উঠবে, স্মৃতি কি সহজে [বিস্তারিত শুকনো পাতার মরসুম]
আমি স্বর্গোদ্যানের পারিজাতের সুগন্ধি মাখতে চেয়েছিলাম। হতে চেয়েছিলাম সে স্বর্গোদ্যানের মালিনী। তা আর হয়নি। মাল্যবরণহীন হয়ে ফেরা ছাড়া আমার আর কিছুই হয়নি। হেমন্তের মাঠ জুড়ে ইরিধানের সুধাময় গন্ধ,যে গন্ধ আমায় উন্মাদ করে তোলে। সে গন্ধে জমেছে ধুলো। আর এ ধুলোময় গন্ধ জুড়ে তোমার অবাধ কারফিউ। প্রতিরূপে তোমাকে যতবার সাজাই তখন নিজেকে হিম শীতল মনে হয়। [বিস্তারিত মাল্যবরণহীন।]
চিরাচরিত অসুখের নিয়ম ভেঙে আমরা নিয়ন আলোয় শব্দ সাজাই। প্রতিটা নির্ঘুম রাত যখন নাম না জানা পড়ন্ত বিকেলের আলো খোঁজে,আমরা তখন পৃথিবীর কক্ষপথে চলে যাই। সে সুবাদে আমাদের আর শিউলি ফুলের সুগন্ধি নেওয়া হয়না। পড়া হয়না সুনীলের কবিতা। একে একে ফুল ঝরে পড়ে। অন্তরালে মেঘ লুকিয়ে থাকে বৃষ্টি ঝরার অপেক্ষায়। কেউ কবিতা লিখে নগর নির্মাণ [বিস্তারিত নির্ঘুমে শূন্যতা]
নবমী শেষে আজ দশমী। ‘দশমী’ কথাটির প্রাসঙ্গিক তাৎপর্য সহজবোধ্য। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিতে দেবী কৈলাস পাড়ি দেন। সেই কারণেই ‘বিজয়া দশমী’ নাম। বিদ্রঃ এইবছরের তিথি অনুসারে কার্তিক মাসে পূজা হয়েছে। আশ্বিনমাস মলমাস থাকায়। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই দিনটিকে ‘বিজয়া দশমী’ বলা হয় কেন? কোন ‘বিজয়’-কেই বা চিহ্নিত করে দিনটি? দশমীকে ‘বিজয়া’ বলা হয় [বিস্তারিত বিজয়াদশমী কী এবং তার তাৎপর্য]
শ্রী শ্রী দুর্গা দেবীর পূজা বছরে দুবার আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। একবার বসন্তকালে, আরেকবার শরৎকালে। বসন্তকালের দুর্গাপূজাকে সংক্ষেপে বাসন্তী পূজা বলা হয়। আর শরৎকালের দুর্গাপূজাকে বলা হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। তবে শারদীয় দুর্গাপূজাই বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান এবং অধিক সংখ্যায় অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গাপূজার শুরু হয় আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে। কোথাও প্রতিপদ তিথি থেকে, কোথাও ষষ্ঠী তিথি [বিস্তারিত দুর্গাপূজার তাৎপর্য এবং কুমারী পূজার তত্ত্ব।]
‘দুর্গা’ শব্দটিকে যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখব এটি দ+উ+র+গ+আ – এই ভাবে সৃষ্ট। প্রতিটি বর্ণ নিজস্ব অর্থ বহন করছে। ১.দ অক্ষর – দকারং দুর্গতিহারং দুরন্তব্যাধিনাশনং দুর্গমেদুঃখদারিদ্রনাশায় দকারায় নমো নমঃ। ( অর্থাৎ যিনি দুর্গের নাশকারিনী, দুর্গতিহরণকারিনী , দুরন্তব্যাধিনাশকারিনী , দুঃখদারিদ্রনাশকারিনী, ভবরোগ বিনাশকারিনী সেই ‘দ’ কারকে নমস্কার) ২.উ অক্ষর – উকারং উগ্রতারেষং উগ্রশক্তিসমন্বিতং উচ্চৈঃপদপ্রদাতারং উকারায় নমো নমঃ। [বিস্তারিত দুর্গা শব্দের বিশ্লেষণ কী? এবং দেবীর গমনাগমন ও প্রণমী বন্দনায় আগমনী মা।]
বাঙালি সনাতন হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ট থেকে দশম দিন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এই পূজা। একে বলা হয় দেবীপক্ষ। আর এ দেবীপক্ষের সূচনা হয় মহালয়া দিয়ে। দুর্গাষষ্টী, মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়াদশমী মোট এই পাঁচ দিন চলে পূজার আয়োজন। তবে আশ্বিন মাস মলমাস থাকায় এইবার কার্তিক মাসে পূজা হচ্ছে। কেননা [বিস্তারিত কে এই দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা ও কোন দেবতার তেজ বা শক্তিতে মহাদেবী দুর্গার দেহের কোন অঙ্গ গঠিত হয়েছিল তার ইতি কথাঃ]