রঙধনুর ঘোর

কবিতার লাইন কেটে গেছে সেই থেকে,

যখন জেনেছি অবশেষে আমার ভেতর এক নিষ্ঠুর প্রস্তরখন্ড বসতি গেঁড়েছে।

গদ্য,পদ্য ও ছন্দ নিয়মিত বদলায় দৃশ্যপট,

বাহুমূলে কতোবার ফিরে আসে যায় সেই একই রঙধনু,

আমি ফিরে দেখি আবিরের স্মৃতিঘেরা প্রণয়!

খুব একটা সুখকর নয় তা, জলের ঝিকঝিক প্রতারণা বালিয়াড়িময়।

সকালগুলো আসে অমোচনীয় কালোদাগ হাতে,

মৃত্যুর মত দেখতে সূর্যটাকে; ইচ্ছে করে মুখের উপর ছুঁড়ে মারি, যদি সত্যি থাকেন কেউ মহাশক্তিধর!

প্রজ্জ্বলিত হয়ে বেঁচে থাকে লাভা আপন স্বভাবে,

কিন্তু আমি যে হিমালয়া!

বদলে গেছে সব ধারা-উপধারা, বোধের গভীরে গুপ্তচরের ইশারা!

কালবৈশাখী আসে যায় নিত্য হিমের দেশে,

বড় অনিয়মের কবলে আমার শান্তশিষ্ট পৃথিবী।

এখন শুধু দেখে যাই,

একফোঁটা ঘুমের হাহাকারে রাত কত বিভীষিকাময়?

দুপুরগুলো নিঃস্ব প্রায়,অন্তঃস্থিত অস্তিত্বে অগোচরেই নিড়ানি খোঁচায়,

বিকেলগুলো খুব লাস্যময়ী ; যার মুখে হাসি বুকে বল,নিউরনে ঘুমায় ক্ষুধার্ত শিশু!

এমন নিদারুণ হাওয়াহীন পাল বয়ে যাওয়া প্রহসন বৈ কিছু নয়!

তবুও দিনশেষে আকুতি ঝর্নার মত ঝরে,

যদি কৃষ্ণচূড়া ফোটে ঘনঘোর অমানিশার ঠোঁটে!

সবশেষে ঝরা বকুল রোজ শুকায় বুকের ভেতর,

জীবনের রুঢ় সত্য ক্ষনে ক্ষনে মনে করিয়ে দেয়, সে এক ক্ষনিক রঙধনুর ঘোর!

মোট পড়েছেনঃ ৭৭৪জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১০টি মন্তব্য

  1. শব্দ চয়ণ ও উপমার সমাহার অতিশয় হৃদয়ষ্পর্শী!
    ’তবুও দিনশেষে আকুতি ঝর্ণার মতো ঝরে
    যদি কৃষ্ণচুড়া ফোটে ঘনঘোর অমানিশার ঠোঁটে!’
    যেন আমারি অন্তরের কথা বলে গেলেন অনায়াসে!
    আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা রেখে গেলাম অন্তহীণ। খুব ভালো থাকুন।

  2. তবুও দিনশেষে আকুতি ঝর্নার মত ঝরে,
    যদি কৃষ্ণচূড়া ফোটে ঘনঘোর অমানিশার ঠোঁটে!

    চমৎকার এক অনুভূতি ছোঁয়া কবি আপু

মন্তব্য করুন