রং কল !

মোবাইল ফোন পার্স্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অশেষ আশীর্বাদের অন্যতম একটি। বর্তমানে মোবাইল স্মার্টফোনে ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন এপসের সংযুক্তির কারণে তা দেশে বিদেশে ভিডিও কল সহ নানাবিধ ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের যোগাযোগ এবং তথ্য প্রবাহের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক যুগের সূচনা করেছে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।  আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের মানুষেরা মধ্য-প্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মরত এবং বসবাস করছেন। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন দেখতাম প্রবাসীরা অডিও ক্যাসেটে কথা রেকর্ড করে বিদেশ থেকে পাঠাতো।  মোবাইল ফোনের ভিডিও রেকর্ডিং এর কারণে সমাজের অনেক অনাচার, অবিচার ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে জন-সমক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে। উন্মোচিত হচ্ছে অনেক অন্যায় দুর্নীতি স্বজনপ্রীতিও। ফলশ্রুতিতে তাৎক্ষণিকভাবে বা বিচার বিশ্লেষণ ও তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার পরে অনেক ঘটনার প্রতিকারও হচ্ছে। সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে। এসব অবশ্যই মোবাইল ফোনের সুফল।

সবকিছুরই ভালো মন্দ দুইটি দিক আছে। তাই এখানেও মোবাইল ফোনের সদ-ব্যবহার আর অপ-ব্যবহারের সুযোগ থাকে। মোবাইল তথা স্মার্ট ফোনের অপব্যহারের কারণে সমাজে নানান রকম অপরাধ, ব্ল্যাক মেইলিং, চাঁদাবাজি, অশ্লীলতাও ছড়িয়ে পড়ছে । মোবাইল ফোন এখন আমাদের কাছে অতি আবশ্যকীয় জীবনের একটা অনুষঙ্গ । মোবাইল ছাড়া আমরা বা আমাদের জীবন অচলই বলা চলে।  কিন্তু তাই বলে একজন সত্যিকারের মুসলমান মসজিদে বসে ফ্রি স্টাইলে কথোপকথন করতে পারেন না। ধর্ম আমাদেরকে সেই শিক্ষা দেয়নি। মসজিদে প্রবেশ পথে দেয়ালে দেয়ালে লেখা আছে জনাব আপনার মোবাইল ফোন বন্ধ রাখুন। না, জনাবেরা তা বন্ধ রাখতে পারেন না ! আমার মতো একজন সাদাসিধে মানুষের বুঝে আসেনা ফজরের নামাজের সময়ও কি মোবাইল ছাড়া আমরা অচল ? প্রায় প্রতিটি ওয়াক্তের নামাজের সময় শুনবেন নানান ধরণের বিচিত্র সুরের বা আওয়াজের রিং টোনের মোবাইল রং কল দিচ্ছে । আমাদের মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।  মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে মসজিদের পবিত্রতা, মর্যাদা, শান্তি এবং নীরবতা মেনে চলার ক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার তৌফীক এনায়েত করুণ।  আমীন ।

ছবিঃ সংগৃহীত।

মোট পড়েছেনঃ ৮৯৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৪টি মন্তব্য

  1. একান্ত জরুরি কথা হলে মসজিদ থেকে বেরিয়ে নিরিবিলি স্থানে গিয়ে কথা বলে আসা উচিত। আল্লাহপাক সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন।

  2. এটা বাঙ্গালীআনা। আমরা চরম ব্যস্ত আর তাইতো কোন স্থানের মর্যাদা কি হওয়া উচিত তাও ভুলে যাই। ড্রাইভার গাড়ি চালাতে কথা বলে, বাইক চালাতে চালাতে কথা বলা, কেউ কেউ কানের কাছেও অতি উচ্চস্বরে কথা বলে থাকে।
    আল্লাহ আমাদের বোঝার তাওফিক দিন!!!

    1. আপু আপনি চমৎকারভাবে আমাদের চারিত্রিক অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেছেন। সুস্থ আর ভালো থাকবনে। ধন্যবাদ।

  3. মোবাইল ফোন ছাড়া যেমন চলা যায় না। তেমনি সব জায়গায় এটি ব্যবহার করা ঠিক না। মসজিদে প্রবেশ এর সময় সাউন্ড সিস্টেম অফ করে রাখলেই হয়। সব কিছুরই সঠিক ব্যবহার জানা উচিত। খুব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট।
    শুভ কামনা রইলো।

  4. নামাজের সময় বা প্রার্থনার সময় কেন মোবাইল সুইচ অফ বা সাইলেন্স মুডে থাকবেনা বুঝিনা আমি। সবকিছুরই ভালো মন্দ উভয় দিক রয়েছে। আমরা সবসময় খারাপটাই গ্রহণ করি। চমৎকার পোস্ট। অফুরন্ত শুভকামনা রইলো

    1. সঠিক বলেছেন দিদি — “সবকিছুরই ভালো মন্দ উভয় দিক রয়েছে। আমরা সবসময় খারাপটাই গ্রহণ করি”।
      সুস্থ আর ভালো থাকবেন।

  5. নামাজ শেষে ইমাম সাহেবের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কোন খান থেকে কতটুকু পাঠ করা হয়েছে,
    তিনি দ্রুত পকেট থেকে ফোন বের করে আমাকে বিস্তারিত বুঝিয়ে দিলেন, আমি উপকৃত হয়েছি,
    উল্টো দিক আসলে আমি আলোচনায় আনতে চাচ্ছি না। কত কিছুই তো দেখি, দেখেছি।

    1. ভাইয় আপনার কথা — “তিনি দ্রুত পকেট থেকে ফোন বের করে আমাকে বিস্তারিত বুঝিয়ে দিলেন, আমি উপকৃত হয়েছি,
      উল্টো দিক আসলে আমি আলোচনায় আনতে চাচ্ছি না। কত কিছুই তো দেখি, দেখেছি”।
      আসলে ভাইয়া আমরা কীভাবে ব্যবহার করছি মনে হয় সেটাই বড়। সদ ব্যবহার না করে আমরা শধুই অপ ব্যবহারেই লিপ্ত আছি। ভালো আর সুস্থ থাকবেন ভাইয়া।

  6. ডাক্তারের চেম্বারে ঢোকার আগে রোগী কিন্তু ঠিকই মোবাইলটা বন্ধ/সাইলেন্ট করে নেয়! বিচিত্র মানুষ আর অদ্ভুত স্বভাব আমাদেরকে বুঝতে দেয়না কখন,কোথায় কোন জিনিস প্রযোজ্য।

    1. আসলেই আপু আমরা জানিনা কোথায় কোন জিনিষ প্রযোজ্য। চমৎকার মতামতের জন্য অশেষ ধন্যবাদ। শুভ কামনা অফুরান।

মন্তব্য করুন