জ্যোতিষী আর আমি

জৌতিষী এবং আমি আমার জীবনে জৌতিষী বিষয়ক বেশ কিছু ঘটনা আছে যা অবাক করার মতো হলেও অবিশ্বাসী আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছিলাম এমনই কিছু ঘটনা আজ তুলে ধরছি। ‘

৮৫ সালের শেষের দিকে আমরা এসএসসি পরিক্ষার্থী বন্ধুরা সবাই ব্যস্ত বিভিন্ন কোচিং নিয়ে, আমার কিছু বন্ধু পড়তো আমাদের সেন্ট প্ল্যাসিড’স হাই স্কুলের টিচার মেঘনাথ স্যারের কাছে, শুনেছি উনি হাত দেখে ভবিষ্যত দেখেন। একদিন আমি বন্ধুদের কাছে গেলাম নোট সংগ্রহে মেঘনাথ স্যারের বাসায়, তখন উনি কোচিং শেষে বন্ধুদের হাত দেখে ভবিষ্যতবাণী করছিলেন, উনি আমাকে দেখে বললেন “এই তুই আয় হাত দেখে দিই”, আমিও দেখালাম। উনি হাত দেখে বললেন, ” তুই ম্যাট্রিকে ভালোই পাশ করবি, তোর এক রাত হাজত বাস আছে”। আমি তো অবাক, বললাম “কি বলেন স্যার, আমি হাজতে যাবো কেন, আমি চোর নাকি ডাকাত”? শুনেই উনি মিটিমিটি হাসলেন মাত্র। আমি ম্যাট্রিকে ভালোভাবেই পাশ করলাম এবং ১৯৯৯ সালে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে এক রাত হাজত বাস করার পর পরদিন বিনা শর্তে ছাড়াও পেয়েছিলাম।

জানুয়ারির শেষের দিকে জন্ম আমার, ফলে কুম্ভ রাশির জাতক আমি এসবে বিশ্বাস করতাম না, ১৯৯০ সালের ঘটনা, আব্বা ইন্তেকাল করেছেন ছয় সাত মাস হয়। একদিন বড় আপার হাসবেন্ড যে আবার আমার কাজিন এবং বন্ধুর মতো, সে আমাকে বললো “চল আজকে এক জায়গাতে যাবো তোকে নিয়ে, সে আমাকে নিয়ে গেলো চট্টগ্রামের জৌতিষবিদ হাওলাদার সাহেবের কাছে। হাওলাদার সাহেব বোন জামাইকে দেখার পর দুলাভাইয়ের জোরাজোরিতে হা দেখালাম। হাওলাদার সাহেব খুব করে দেখে বললেন, ” আগামী ছয় মাসের মধ্যে আপনার বিবাহ ঠিক হবে। আমি কটাক্ষ করে বললাম, “প্রশ্নই উঠেনা, বয়স মাত্র সাড়ে একুশ, এই বয়সে বিয়ের প্রশ্নই উঠেনা, এই হাস্যকর কথা বলেন কি ভাবে”? উনি হেসে বললেন, কথাটি সত্যই, বিয়ে আপনার হাতের রেখাতেই আছে। আমরা ফিরে চললাম বাসার উদ্দেশ্যে।

বাসায় ফিরে এসে আম্মাকে সহ সবাইকে জানালাম হাওলাদারের ভবিষ্যৎ বাণীর কথা, আম্মা তো ক্ষেপেই গেলেন, বললেন এই অল্প বয়সে কিসের বিয়ে, সব ফালতু কথা, আমাকেও বেশ কিছু কটু কথা শুনিয়ে দিলেন। ছয় মাস পরে আব্বার মৃত্যু বার্ষিকীর মেজবানে দাওয়াত খেতে আসা আমার দূর সম্পর্কিয় কাজিনকে দেখে এতোই মুগ্ধ হলেই যে, সেই স্থানেই কাজিনের ফুফুকে (আমারও ফুফু) চেপে ধরলেন ” মেয়েটিকে আমায় দিয়ে দিন, আমি আমার ছেলে ইঞ্জিনিয়ারের বউ করে আনবো, বুঝেন অবস্থা। কয়েকদিনের মধ্যেই প্রস্তাব পাঠানো হলো, এক্সেপ্টও হলো, এক মাসের মধ্যে এনগেজমেন্ট হলো, পাঁচ মাস পর বিয়ে। 🤣🤣

এছাড়া অনেকের ভবিষ্যৎ বাণী আমার জীবনে শতভাগ ফলেছে যা এখনো আমি অবাক হয়ে ভাবি কিভাবে এইসব হলো, নাকি ঝড়ে বক মরেছে? 😜😜

সমাপ্ত।

মোট পড়েছেনঃ ১,২২৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৬টি মন্তব্য

  1. আর এই জীবনে আপনার মহা মূল্যবান হাতের রেখা আর কাউরে পড়তে দিয়ন না ভাইজান। বিশ্বাস থাকুক বা না থাকুক। যা ঘটার তা বিধাতাই নির্ধারিত করে রাখেন।

  2. বাহ্ বাহ্ কি চমৎকার দেখা গেল, হাতের রেখায় জীবনের কাল। এমন জ্যোতিষি ভাগ্য যেন সবার হয় 🤣🤣। নিয়মিত লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকুন নিরাপদে থাকুন শুভকামনা অবিরাম

  3. কি জানি আমার বিশ্বাস হয় না। তবুও যদি মিলে গিয়ে থাকে তাহলে তো ভালোই।
    তবে যারা ভাগ্য বলে দিতে পারে বলে দাবী করে সেটা আসলেই বিশেষ ক্ষমতা। কিছু মানুষ বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়।
    ভালো থাকুন।।

  4. এমন অনেক ঘটনায় থাকে যার কোনো মানে থাকে না। তবুও তা ফলে যায় আর আমরা বিশ্বাস করতে বাধ্য হই।
    যেহেতু বিশ্বাস অবিশ্বাস নিয়েই মানুষ
    আর পর পর ঘটনা গুলো মিলে গেছে
    তাই না অবাক হয়ে কোনো উপায় থাকে না

  5. জ্যোতিষ শাস্র প্রচলিত আছে প্রাচীন কাল থেকেই। কিছু একটা তো আছে ভাই, নইলে এই শাস্র টিকতে পারতো না।
    হাজত বাস, বিয়ে কাকতালীয় হয় কিভাবে?

    সুন্দর পোস্ট,
    শুভ কামনা।

    1. ভাইজান এছাড়া ঢাকার কাওসার চৌধুরী যিনি প্রথম আলোয় রাশি নিয়ে লেখেন, সাথে গীতিকারও, উনি বলেছিলেন আমার সহায় সম্পদে পথন আসবে এবং এক সময় সব ফিরেও পাবো, যার প্রথমাংশ ফলে গেছে। 😭

  6. জীবনে অনেক ঘটনাই ঘটে যার কোন কার্যকারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন। ভবিষ্যতবাণীও সেরকই কিছু। তবে সব কথাই যে ফলে তাও নয়। কিছু কথা মিলে যায়। কিছু মানুষের মধ্যে সুপারন্যাচারাল পাওয়ার থাকে বলেইই হয়তো তাদের কথা ফলে যায়।

    শুভকামনা ভাই।

      1. হ্যা, তবে আমাকে যদি কোন জ্যোতিষী বলতো ক্যারাব্যারা হবে তারপরেও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতাম। প্রতিবাদ করে হাজতবাস উত্তম। ☺

  7. কারো কারো আসলেই হয়তো ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা থাকে। তারা যা বলে তার বেশিরভাগই নির্ভুল হয়।
    বিশ্বাস/অবিশ্বাস করা নিজস্ব ব্যাপার।

    ভালো থাকুন ভাইজান। শুভ কামনা 🌹🌹

মন্তব্য করুন