অপরিচিত

নীলুর মন টা খুব খারাপ, কেন খারাপ তা অনুসন্ধান চালিয়ে তেমন কিছু পেলোনা।আজ বার বার কাজে ভুল হচ্ছে কিছুক্ষন পর পর মন উদাসিনী হয়ে যাচ্ছে ।বিষন্নতায় ভুগছে উদাস মন।

মনকে ভালো রাখার জন্য রবীন্দ্র সংগীত ছেড়ে চুপচাপ শুয়ে আছে।নীলুর গান শুনলে মন ভালো হয়ে যায় আজ খুব একটা পরিবর্তন হচ্ছে না।আসলে বিকালে শুয়ে থাকলে মন ভালো হবার পরিবর্তে আরো খারাপ হবে তাই উঠে পড়ল।হঠাৎ ল্যান্ড ফোন টা বেজে উঠলো বাসায় কেউ না থাকায় অনিচ্ছা স্বত্তেও ফোন টা নীলু কে ধরতে হল।

 

নীলুঃ হ্যালো আসসালামু আলাইকুম।

অপরিচিতঃ হ্যালো ওলাইকুম আসসালাম।

নীলুঃ কে বলছেন?

অপরিচিতঃ ঠিক চিনবে না!

নীলুঃ কাকে চাচ্ছেন?

অপরিচিতঃ তোমাকে

নীলুঃ আমাকে! আরে আমি আপনাকে চিনি না জানিনা অথচ আপনি আমাকে তুমি করে কেন বলছেন?

অপরিচিতঃ দুঃখিত! আপনি আমাকে চিনবেন না। কিন্তু আমি আপনাকে চিনি।একটু কথা বলতে চাচ্ছি।

নীলুঃ অপরিচিত কারো সাথে কথা বলি না।

এই বলে রিসিভার টা রেখে দিলো।

একটু পরে আবার ফোন বেজে উঠলো নীলু ফোন রিসিভ করে একি কন্ঠ শুনে ফোন টা রেখে দিল।তারপর বেশ কয়েকবার ফোন বাজলো নীলু ফোনটা তুললো না।

হঠাৎ করে নীলু খেয়াল করলো মন টা একটু ভালো লাগছে।

পরে দিন কলেজে যাবার পর থেকে নীলুর মাথায় গতকালের ফোনের কথাগুলো মনে পরে গেল,কেউ কি তাহলে সত্যি তাকে অনুসরণ করছে?  নাকি কেউ দুষ্টামি করছে?

না অপরিচিত কেউ কে চোখে পরে নি।তাই মাথা থেকে বিষয় টি বাদ দিয়ে দিলে ভালো হয়!

 

পরদিন ঠিক একি সময় আবার ফোন বেজে উঠলো নীলুর কেন যেন দৌড় দিয়ে ফোনটা তুললো।

নীলুঃ হ্যালো

অপরিচিতঃ কি ফোনের অপেক্ষা করছেন?

নীলুঃ কেন?  কেন অপেক্ষা করব?

অপরিচিতঃ না মানে এমনি।তাহলে রাখি।

নীলুর কিঞ্চিত মন খারাপ হল। এ কেমন ব্যবহার!

নীলু পরদিন স্বাভাবিক ভাবে দিন শুরু করলো তবে মনে মনে ফোনের অপেক্ষা করছিল। আজ ফোন আসলে সে কিছু প্রশ্ন করবে বলে মন স্থীর করলো

ফোনের টা ঠিক আগের সময় বেজে উঠল।

নীলুঃ হ্যালো

অপরিচিতঃ হ্যালো! কেমন আছেন?

নীলুঃ ভালো। আপনি কেমন আছেন?

অপরিচিতঃ ভালো ছিলাম না। তবে এখন ভালো আছি।

নীলুঃ কেন?

অপরিচিতঃ এই যে আপনি কথা বলছেন তাই!

নীলু: আচ্ছা আপনার পরিচয় টা দিন।

অপরিচিত : সেটা না হয় অজানা থাক।

নীলুঃ কেন? পরিচয় গোপন রাখতে চাচ্ছেন তাহলে ফোন কেন দিচ্ছেন? আর প্রতিদিন ঠিক একি সময় কেন দিচ্ছেন?

অপরিচিতঃ পরিচয় দিবো কি দিবো না সেটা একটা প্রশ্নের উত্তরের উপর নির্ভর করবে।

আর  প্রতিদিন একি সময় ফোন দেই কারন হয়তো এ সময় আপনি একা থাকেন!

নীলুঃ আরে আপনি নিশ্চয়ই পরিচিত হবেন তাই না

অপরিচিত : হতে পারি!

নীলু: আচ্ছা পরিচয় যখন দিবেনা তাহলে রাখছি।

অপরিচিতর সাথে এভাবে কিছু দিন কথা হলো।আর বিষয় টা কেন যেন নীলুর ভালো লাগছে কিন্তু আচরণে তার প্রকাশ করছেনা।

হঠাৎ একদিন ফোনটা আর এলোনা নীলু ভাবলো হয়তো কাল আসবে। না এভাবে একদিন দুইদিন করে এক সপ্তাহ হল দুই সপ্তাহ হল ধীরে ধীরে মাস গড়িয়ে গেল ফোন টা আর এল না।

নীলু আরো কিছু দিন অপেক্ষা করল কিন্তু আর ফোনটা কখন এলনা।

মনের কোনে ভালো লাগা অপরিচিত কন্ঠটা অপরিচিত হয়ে রইল সারাজীবন………….…….…………..……..…….……..….

মোট পড়েছেনঃ ২,২৮৪জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৪টি মন্তব্য

  1. আকাঙ্খার রেশ থাকা মানে লেখার কিছুটা হলেও স্বার্থকতা হল।অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
    ভালো থাকবেন।

  2. জীবনের চলতি পথে কত পরিচিত অপরিচিত মানুষ যেমন প্রিয়জনে পরিণত হয় এবং এ সম্পর্কগুলি মনে দাগ কেটে যায়। গল্পটা এমনই এক গল্প। আপনার লেখা পড়ে মনে ভালোলাগার জন্ম দেয়। শুভকামনা সবসময়।

  3. জীবন পথে নানান ঘটনায় কত জানা, অজানা লোক হৃদয়ে গেঁথে থাকে কোনো না কোনো ভাবে। ভালোলাগা গুলো এভাবেই জীবনে হুটহাট করে চলে আসে আবার হয়তো সময়ের স্রোতে চাপা পড়ে যায়‌। ভালো লাগলো অনুগল্প। একরাশ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো

মন্তব্য করুন