ইদানিংকালে আলোচিত সমালোচিত কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে জনরোষ খুব স্তুপ হয়েছে। তার মধ্যে ধর্ষণ একটি।
আমাদের দেশে যে ঘটনা যখন ঘটে তখন একই ঘটনা অনেক দিন ধরে চলতে থাকে। একটা ঘটনা ঘটে আর একটা চাপা পড়ে।
সড়ক দুর্ঘটনা, ইভটিজিং, হত্যা, খুন, পরকীয়া এসব খই মুড়ির মতো সহজ হয়ে গেছে। দুধের শিশু থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত অনাচারের শিকার হচ্ছে প্রতিদিন। হয়তো এই পরিস্থিতির কথাই রাসুল স. বলেছেন চৌদ্দশত বছর আগে। কেয়ামতের পূর্বক্ষণে মানুষ হত্যা করবে মানুষকে, যে হত্যা করবে সে জানবে না কেন সে হত্যা করছে আর যে খুন হবে সেও জানবে না কেন খুন হচ্ছে। আমরা এই সময়টার মধ্যে দিয়েই যাচ্ছি।
অন্দর মহল থেকে অশ্রাব্য সুরে গানের আওয়াজ আসবে রাস্তায়, এটা নবিজীর কথা। পাশের বাসায় বৃদ্ধ বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে আর কলোনীর মাঠে হয়তো কারো জন্ম দিন কিংবা বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ব্যান্ড, প্যাকেজ ইত্যাদি হতে বিকট শব্দে ভেসে আসে “ আমার মাটির গাছে লাউ ধরেছে লাউযে বড় সোহাগী, পোলাতো নয় যেন আগুণেরই গোলা রে, আখ ক্ষেতে ছাগল বন্দি জলে বন্দি মাছ-নারীর প্রেমে পুরুষ বন্দি থাকে বার মাস,” ইত্যাদি । এটা রোজকার কথা। এসব বাক্যের না আছে কোন অর্থ না আছে কোন মাধুর্যতা। তবুও এক শ্রেণীর নারী-পুরুষ লজ্জা-শরম বিসর্জন দিয়ে এই বাক্যগুলোই আওরায় হামেশা।
রাজনীতির ছত্রছায়ায় থেকে ধর্ষণ রাজনীতির মহৎ উদ্দেশ্যকে বিলিন করে দেয়। বেপরোয়া চালচলন, ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনীতিতে বখাটের উপস্থিতি রাজনীতিকে কলুষিত করেছে এবং করছে। রাজনীতির ছত্রছায়ায় থেকে খুন, ধর্ষণ এবং জানা না জানা অনেক অপকর্ম হয়ে থাকে। সবগুলো মিডিয়ায় আসে না, কিছু কিছু আসে। সবগুলো বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ায় না এবং শেষ পরিণতিও পায়না। রাজনীতির অশুভ হস্তক্ষেপে অংকুরের বিনষ্ট হয় কোন কোন বিচার পক্রিয়া। এগুলোর অবসান হওয়ার দরকার।
এবার একটি ভিন্ন কথায় আসি। আদালতের কর্মচারী হিসাবে অনেক পরিচিত অপিরিচিত মানুষ আসে পরামর্শ নেবার জন্য। একদিন এক সুন্দরী আসলেন। তার সাথে মামলার সুবাদে আগে থেকেই পরিচিত ছিলাম। তিনি পার্লার করেন। জমিদারের সাথে ভাড়া বা কোন বিষয়ে ঝামেলা চলছে। তাই জমিদারকে জব্দ করা দরকার। ফন্দি আটলেন জমিদারের বিরুদ্ধে শ্লীতাহানীর অভিযোগে মামলা দায়ের করবে। আমি যেহেতু কোর্টে আছি তাকে যেন সাহায্য করি। আমি তাকে বুঝালাম এটা অন্যায়-অপরাধ। এটা করা আইনের দৃষ্টিতেও ঠিক নয় এবং ইসলামের দৃষ্টিতেও অপরাধ। তিনি যা বুঝার বুঝলেন এবং চলে গেলেন। ফেজবুকে তাকে প্রায় সবসময় দেখা যায়। আগে বিভিন্ন পোষ্টে কমেন্ট করতেন, ফোন করে ভাল মন্দ খবর নিতেন। এখন সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন। গত তিন দিন আগে দেখলাম তিনি ধর্ষকের বিচার দাবী করে ফেসবুকে এস্ট্রাটাস দিয়েছেন।
অনেককেই চিনি যারা নারী দেখলে তাকিয়ে তাকিয়ে নারীর ম্যাপ অংকন করে। তারাও এখন ফেজবুকে ধর্ষকের বিচারের দাবীতে অনঢ়। বেশ ! শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে সকলের। চোরের মায়ের বড় গলা না হলেই হয়।
আমিই বাংলাদেশ!
আমি শত শত মানুষের সামনে কুপিয়ে মারা যাওয়া রিফাত ।
আমি আগুনে পুড়ে যাওয়া নুসরাত।
আমি নির্মমভাবে পশুর মতো হত্যা হওয়া সেই আবরার ফাহাদ ।
আমি বিশ্বজিৎ, আমি অভিজিৎ, আমি নাদিয়া
আমি তনু, আমি খাদিজা, আমিই রাজন!
আমি মিতু, আমি ব্যার্থ ছাত্র, আমি প্রশ্নপত্র না পাওয়া সেই হত দরিদ্র!
আমি অবিরাম বাংলার মুখ।
আমি লাল সবুজের কফিন , আমি পিলখানার অসহায় সেনা অফিসারের আধারের দাফন।
আমি স্বাধীন দেশের পরাধীন জনগণ।
আমি বাসে ধর্ষিতা মাজেদা ।
আমি ছেলের সামনে ধর্ষিতা মা
আমি ভাইয়ের সামনে ধর্ষিতা বোন!!
আমি এমপির গুলিতে গুলিবিদ্ধ সৌরভ।
আমি গুম হওয়া সন্তানের নিরব কান্না।
আমি রানা প্লাজার ধুলো পড়া লাশ।
আমি তাজরিনের অগ্নিকাণ্ডে অসহায় গরীব কর্মচারী। আমি ধসে পড়া ভবনের নিচে গলিত লাশের গন্ধ। আমি পদ্মা ও বুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে মরা মায়ের আলো আধারের বুক ফাটা কান্নার ছন্দ! আমি সাগর-রুনির মেঘ।
আমি ছিনতাই হওয়া অসহায় পথচারীর ব্যাগ।
আমি জন্মের আগেই গুলিবিদ্ধ নবজাতক শিশু। আমি সাত খুন শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়!
আমি দিনের আলোতে ধর্ষিতা হিরা মনি।
আমি করোনা ভাইরাসের ভুয়া রিপোর্টকারি।
আমি পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া মেজর রাশেদ সিনহা। আমি স্বামীর হাত থেকে ছিনতাই হওয়া সেই হতভাগী নারী।
আমি অন্ধ, আমার বিবেকের বিচারের দরজা বন্ধ..!!
সংগ্রহ করা
প্রথম মন্তব্যে আপনাকে সহস্র ধন্যবাদ। বাংলাদেশের ক্ষতবিক্ষত চেহারা আপনার লেখনিতে ফুটে উঠেছে। আমরা এর পরিবর্তন চাই। বেশী কিছু হয়তো করতে পারবো না তবে শপথ নিতে পরি, ধর্ষক হবো না, ধর্ষণকে সমর্থন করবো না বরং ঘৃণা করবো।
এক চেয়ে আর কিইবা এদেশে আশা করার মত আছে। সবাই নিজ নিজ অবস্থানে সৎ থাকি সুদিন আসবে ইনশাআল্লাহ ।
শুভ কামনা।
যার যার অবস্থান হতে সোচ্চার হই আসুন। সুদিন আসবে- আপনার প্রত্যাশা পূর্ণতা পাক সেই কামনা।
চোরের মায়ের বড় গলা ই হচ্ছে। সবাই সাধু সেজে ভঙ ধরতে চায় অথচ কমবেশী সবাই অন্যায়ের সাথে যুক্ত আছে , সাপোর্ট করে। সমসাময়িক নিয়ে দারুণ লেখা। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভ বুদ্ধির উদয় হোক সবার
কম বেশী সবাই অন্যায় করে- ইচ্ছা থাকলেও বিভিন্ন কারণে পূর্ণাঙ্গ ভাল হওয়া সম্ভব নয়। বিশেষত আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা যেখানে সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় না কখনো কখনো। কিন্তু ভাল থাকার চেষ্টা অন্তর থেকেতো করা যায়। চেষ্টা করলেই ভাল হওয়া যায়।
চোরের মায়ে গলা বড়ই হয়। তাইতো তার বড় গলাই সবার কাছে প্রমানিত সে চোরের মা।
হুম।
দ্বিচারি আচরণ কাম্য নয়। সবার বিবেক জাগ্রত হোক এটাই চাই।
ভালো থাকুন ভাই।
দ্বিচারি আচরণ কাম্য নয়- একমত ভাই।
সময়পোযোগী চমৎকার লিখেছেন। পরিবেশ টাই এমন হয়েছে, চুরি করেও সাধু সেজে থাকেন।বিবেকবোধ কোনো কাজ করেনা। দ্বিচারি কাম্য না হলেও সমাজে এর প্রচুর প্রচলনের ফলে সমাজ অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্যের জন্য মোবারকবাদ।
ধর্ষকামী মনোভাবই ধর্ষণের প্রধান কারন।
গান, নারীদের চালচলন ইত্যাদী ধর্ষনের কোন কারন নয়।
কিছু মিথ্যে মামলা ধর্ষণের প্রখরতাকে হালকা করে দেয়।
এমন কিছু মামলার কথা আমিও জানি।
নারীকে কামনার দৃষ্টিতে দেখার অনেক পুরুষই ফেসবুকে ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার।
সমসাময়িক বিষয়ের উপর আপনার লেখাগুলো অনেক ভালো হয়।
নিয়মিত লিখুন।
শুভ কামনা।
শুভ ব্লগিং।
আপনার মন্তব্যে আমি অনেক অনুপ্রাণিত হলাম। আমি সমসাময়িক বিষয় ছাড়া লিখতেই পারি না। বলতে পারেন কবিতা, গান, গল্প ইত্যাদি আমার কলমে আসে না। আমার নজর সবসময় সমসাময়িকিতে নিবন্ধিত থাকে। লেখার অভ্যাস আমার ক্লাশ এইট থেকে। সেটা মনে করেন আরো প্রায় 22 বছরেরও আগে থেকে। খুব প্রচলিত ও জনপ্রিয় একটি ব্লগে আমি নিয়মিত লিখতাম। সেখানেও সমসাময়িক বিষয়েই লিখতাম। আমার লেখা অনেককেই বিদ্ধ করতো। খুব সম্প্রতী একটি লেখাকে কেন্দ্র করে মডারেটর টিম পক্ষপাতিত্ব ও অনৈতিকভাবে আমার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে এবং আমার প্রায় 5 বছরের ব্লগকে ব্যান করে দেয় এবং সমসাময়িক 2টি পোষ্ট ডিলেট করে দেয়। আমি সেখানে পুনঃবিবেচনার জন্য আবেদন করিনি এবং করার ইচ্ছাও নাই। আমি লিখি নিজের দায়বদ্ধতা হতে-আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। তাই সমসাময়িক বিষয় ছাড়া আর কিছুতে তেমন আগ্রহ পাইনি।
এই ব্লগটি ভাল লাগে। কারণ এখানে সবাই পজেটিভ। তবে জানিনা এখানে কতোদিন চলতে পারবো। যা হোক, অনেক বলে ফেললাম, কিছু মনে করবেন না। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন।