শূন্যতা

প্রতিটি নক্ষত্রের মতো একা হয়ে যাওয়া দিঠি গুলো আজ কাউকে অন্তর্বেক্ষণ করেনা।
পৃথিবীর ব্যস ব্যাসার্ধের ধমনী জুড়ে কেবল শূন্যতার অশ্রুপাত।

ক্লান্ত হয়ে যাওয়া শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যখন সুখ খুঁজে তখন অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়।
নিজেকে আর সবল করে তোলা হয়না।
সমুদ্রের নোনাজল আর নদীর তীরে ফুটে ওঠা কাশফুল রোজ মেঘমালার সাথে জলকেলি করে।
উদার বক্ষে প্রকৃতি তখন প্রেম বিলায়।

ভরদুপুর পেরিয়ে পাড়ার গাঁয়ে বিকেল হলে সন্ধ্যা নামে।
পাখিরা তখন পাতাঝরা হিজলের ডালে আবাসন খুঁজে।
শূন্যতা কাটানোর জন্য ঘরফেরা পাখিদের দিকে খানিকক্ষণ চুপ করে বসে থাকি।
আর ভাবি পাখিদের মতো যদি আমার উড়ে বেড়ানোর সীমান্ত উন্মুক্ত হতো?
তাহলে পৃথিবীর উদার বক্ষে আমিও একদিন ভবঘুরে হতাম। আর দিক হতে দিগন্তে ছুটে বেড়াতাম।
কিন্তু আমি যে শূন্যতার কাছে বন্দি।

বিকেল হলে কখনো নদীর তীরে,কখনো দূর্বাদলের উপর আসন পেতে শরতের অর্গলিত বৃষ্টি বিলাসে হারিয়ে যাওয়া পাখির পালক খুঁজে বেড়ানোর বিলাসিতায় মত্ত হতাম।
সে সুবাদে রঙিন প্রজাপতির পেছনেও ছুটে চলতাম।
যদি মুহূর্তরা ফিরিয়ে দেয় পুরনো অতীত।
সে আশায় অনেক প্রহর কাটিয়েছি কিন্তু আজও ফিরে যেতে পারিনি পুরনো অতীতে।
বরং শূন্যতা আমায় গ্রাস করেছে।

সময়ের স্রোতে প্রতিটি শব্দ লিখতে গিয়ে আমার স্মৃতিশক্তি লোপ পাচ্ছে।
ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে যত্নে রাখা প্রতিটি বর্ণমালা।

.
ছবিঃ সংগৃহীত।

মোট পড়েছেনঃ ১,১২৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৬টি মন্তব্য

  1. “সময়ের স্রোতে প্রতিটি শব্দ লিখতে গিয়ে আমার স্মৃতিশক্তি লোপ পাচ্ছে।
    ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে যত্নে রাখা প্রতিটি বর্ণমালা। “
    অপরূপ রূপে সাজিয়েছেন প্রতিটি পন্থিমালা
    আপনার জন্য রেখে গেলাম শুভ কামনা।

  2. “আর ভাবি পাখিদের মতো যদি আমার উড়ে বেড়ানোর সীমান্ত উন্মুক্ত হতো?
    তাহলে পৃথিবীর উদার বক্ষে আমিও একদিন ভবঘুরে হতাম। আর দিক হতে দিগন্তে ছুটে বেড়াতাম।
    কিন্তু আমি যে শূন্যতার কাছে বন্দি।”

    পাখিদের মতো দিগন্তে ছুটে বেড়ানোর ইচ্ছে কমবেশি সকলের হয়। কিন্তু তাতো আর হয়েে উঠেনা। মানুষ আজ অব্দি শূন্যতাকে বেদ করে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তবুও জীবন চলে জীবনের নিয়মে ভবিষ্যতের পানে। তাই শুধুই জীবনদর্পন।
    সুন্দর কবিতা লিখেছেন।

    1. সত্যি আমাদের কিছু স্বপ্ন,কিছু ইচ্ছে যা অপূরণীয়।
      যেমন মুক্ত আকাশে পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে বেড়ানোর স্বপ্নটা পাখিদের কিন্তু আমরা তা চাইলে পারিনা।
      আমরা প্রত্যেকেই শূন্যতার কাছে বন্দি।
      .
      সাধুবাদ আপনার যথার্থ মতামতের জন্য।

  3. ভরদুপুর পেরিয়ে পাড়ার গাঁয়ে বিকেল হলে সন্ধ্যা নামে।
    পাখিরা তখন পাতাঝরা হিজলের ডালে আবাসন খুঁজে।
    আর এটাই হচ্ছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। বিধাতা এমন করেই প্রকৃতির অলংকারদের চলাফেরা ও জীবন-ধারনের জ্ঞান দিয়েছেন। যার চুল পরিমান বিচ্যুতি ঘটে না। গোধুলী লগনে ফিরে নীড়ে।
    কবিতাটি
    খুব সুন্দর লাগলো দাদাভাই।

    1. একদম।
      প্রকৃতি ছাড়া আমরা অসহায়।
      প্রকৃতির সৌন্দর্যকে অনুধাবন করতে হলে প্রকৃতি প্রেমী হতে হয়।
      আপনার মতামত বরাবর আমার বেশ ভালোলাগা।
      সাধুবাদ জানাই, দাদা।

  4. পাখিদের মতো উড়ে বেড়াতে উন্মুক্ত সীমান্ত পেলে মন্দ হতো না। দুই ডানা মেলে সব ছেড়ে-ছুড়ে পাড়ি দিতাম গন্তব্যহীন পথে। চমৎকার লেখা।

    “প্রতিটি নক্ষত্রের মতো একা হয়ে যাওয়া দিঠি গুলো আজ কাউকে অন্তর্বেক্ষণ করেনা”,,,, দিঠি মানে কি?

    1. পাখিদের মতো উড়ে বেড়ানোর উন্মুক্ত সীমান্ত পেলে মন্দ হতো না। দুই ডানা মেলে সব ছেড়ে-ছুড়ে পাড়ি দিতাম গন্তব্যহীন পথে।
      সত্যিই দিদি এমন যদি হতো!

      দিঠি মানে দৃষ্টি বা চোখ।
      আপনার মতামত আমার ভালোলাগা।
      সাধুবাদ জানাই।

  5. খুব সুন্দর হয়েছে দাদা। কবিতায় এতো সুন্দর করে প্রকৃতির সাথে জীবনদর্শন মেলান যে শুধুই ভালোলাগা জেগে উঠে। শূণ্যতাকে ভেদ করা আমাদের কারোর পক্ষেই সম্ভব নয় এটাই হয়তো বিধাতার লীলা। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন শুভকামনা রইলো

    1. আপনার ভালোলাগা আমার প্রাপ্তি।
      সত্যি কিছু শূন্যতাকে আমরা ভেদ করতে পারিনা।
      সাধুবাদ জানাই, দিদি।
      আপনিও ভালো থাকবেন।

  6. লেখায় প্রকৃতিপ্রেম প্রবলভাবে ফুটে উঠেছে। মনের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে প্রকৃতি প্রেমের মাঝেই যা আপনার আছে।

    শুভকামনা রইলো দাদা।

  7. এখন আমরা মেকানিকাল। তাই শব্দরা বিদ্রূপ করে। মহাকালের গর্ভে হারায় সুন্দর শৈশব। আর সময় হয়ে গেছে বৃদ্ধ যাযাবর। পংক্তিমালায় তাই অপার শূন্যতা।
    আপনার তুলা বানানটা তোলা হবে মনে হয়।
    শুভকামনা।

    1. সময় হয়ে গেছে বৃদ্ধ যাযাবর। আর এসবকিছুতে শূন্যতা ভর করেছে।
      বেশ ভালো বলেছেন, দিদি।
      সাধুবাদ জানাই আপনাকে।

মন্তব্য করুন