দেয়াল ০১

(১)      
ইটের নিবিড়তম দেয়ালে চাপা পড়ি প্রতিদিন,
রক্তাক্ত খোলার মতো, বৃদ্ধ পরিব্রাজকের মতো
অনন্ত আকাঙ্ক্ষা আর সীমাহীন পথ
থেমে যায়! 
বিস্ময়বোধক চিহ্নের সাথে হতবাক অনুভূতি
ওলন্দাজ আমলের বেতবনে লুকানো আলোর
মতো আমাকে নিভিয়ে ফেলে,
আটকে দেয় মরা মগডালে,
জ্বলার অপেক্ষায় হিসহিস করে দেশালাইয়ের
সালফার;
প্রেম দিলে বদলেছে কবে আগুনের প্রকৃতি?
রাণীর খোঁপায় ভালোবাসা ফুল নয়,
স্রেফ বিষধর কাঁটা হয়ে জনান্তিকে শোকগাঁথা
গায়,
আমার চারিদিকে ক্রমবর্ধমান দেয়ালের গর্জন
প্রাচীন বেতারের মতো টংকার দিয়ে যায়!
আমি শোকগ্রস্ত বিড়াল! আমি বিষণ্ণ বেতাল,
সারারাত কেঁদে চলা বিষাদগ্রস্ত সারমেয়,
স্প্যানিয়ার্ড চাঁদ যাকে রেখেছে ওয়াইনের বোতলে
ভরে কয়েক শতাব্দী কাল,
চারিদিকে লকলকে জিহ্বায় পরিস্ফুট জীবন্ত দেয়াল!

(২)
মৌর্য গুপ্ত কনিষ্কের আমলের পুরাতন ইট সুড়কির ভিড়,
অসমাপ্ত মোঘল দূর্গের পাটাতনের প্রসন্ন প্রস্তর,
খাঁচা ভাংগা বুনো পাখিদের ঝড় হয়ে
প্রতিটি আশাহত বিকেলে যায় কোণঠাসা করে দিয়ে,
আমি শেষ উপকূলে বিবদমান আহত শ্বাপদ!  
পাঁচটি দেয়াল পঞ্চমীর রাতে পঞ্চভূত থেকে আবির্ভূত! 
কতোগুলো কাঁটাতার রক্তাক্ত সীমান্তের মতো,
ক্রমাগত আটকে দিচ্ছে এখন! 
দশদিক থেকে গুণে গুণে দশটি ধাবমান অন্ধকার,
আসক্ত নারীর মতো পেঁচিয়ে রাখে পুরোটা শরীর,
লতায় আঙ্গুরের মতো ঝুলে থাকা বিষ,
ধীরে ধীরে ঢলে পড়ে চামড়ার মৃত কোষে,
তীব্র যন্ত্রণার চিৎকার ঢেলে দেই পৃথিবীর কানে! 
আমিতো দেয়ালে বন্দী পতঙ্গ,
মানুষেরা বুঝবেনা এই শব্দের কোন মানে,
অক্সিমিটারে নেমে যাচ্ছে অক্সিজেনের অমূল্য ঘনত্ব! 
হাঁসফাঁস করে ক্ষুধার্ত ফুসফুস! হৃদপিণ্ডটা আরবীয়
ঘোড়ার অবাধ্য ক্ষুরের মতো দোর্দন্ড প্রতাপে
লাফাতে লাফাতে… মনে হয় থামবে না আর!  
মৃন্ময়ী অরূণা দূরের গলিতে,
আমিতো ঘুড়ি হতে গিয়ে ভুলেছি আকাশের ঠিকানা,
তবুও প্রাণপণে দেয়াল সরাই,
পবিত্র পানীয়ের এতো কাছে এসে একবার গেলাসটা
ঠোঁটে ছোঁয়াবো না?
তবুও যাচ্ছে সরে শেষ ভোজনের মাঠ
অদৃশ্য আংগুরলতা,  
ক্রমশ অপসৃয়মান ছায়াটির নাম কাংখিত দয়িতা!
মোট পড়েছেনঃ ৭৫৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২১টি মন্তব্য

  1. “প্রেম দিলে বদলেছে কবে আগুনের প্রকৃতি?
    রাণীর খোঁপায় ভালোবাসা ফুল নয়,
    স্রেফ বিষধর কাঁটা হয়ে জনান্তিকে শোকগাঁথা
    গায়,”

    উলু বনে মুক্তোো ছড়িয়ে লাভ নেই।
    মুখের চেয়ে মুখোশে ঢাকা আজকের সভ্যতা।
    প্রাসঙ্গিক লেখা।
    খুব ভালো লাগলো।
    দ্বিতীয় লেখাটি ভালো ধরতে পারিনি।
    বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ রইলো কবির কাছে।

    1. অনেক ধন্যবাদ। আসলে কবিতা মানে করা খুব কঠিন বিষয়। কবিতা আসে অবচেতন থেকে। এটা অনেকটা নিজের মনকে নিজে ব্যাখ্যা করার অপচেষ্টা হবে। আমার কবিতায় সম্ভবত অস্তিত্বসংকট খুব বেশি আসে।

  2. শব্দ শব্দ আহা শব্দ! পরাবস্তবতার নিরিখে রাখা শব্দের জাদুকরি লেখনী। দুর্দান্ত। সব আহুন নেভেনা প্রেমের প্রতিদানে।
    স্পানিয়ার্ড চাঁদ ওয়াইনের বোতলে বন্দী! ওয়াও…..👏👏👏

  3. দেয়ালে শত শত বছরের ঘটনা, কান্না, মানুষের আর্ত্ননাদ চাপা পড়ে থাকে। সবাই নিজের সত্যিটা লুকিয়ে রাখে, নিজেকে বন্দী করে ফেলেছে পাপের সাম্রাজ্যে। চমৎকার শব্দের মায়াজালে জড়ানো কবিতাটি। খুব ভালো লাগলো। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন শুভকামনা রইলো

  4. দশদিক থেকে গুণে গুণে দশটি ধাবমান অন্ধকার,
    আসক্ত নারীর মতো পেঁচিয়ে রাখে পুরোটা শরীর,
    লতায় আঙ্গুরের মতো ঝুলে থাকা বিষ,
    ধীরে ধীরে ঢলে পড়ে চামড়ার মৃত কোষে,
    তীব্র যন্ত্রণার চিৎকার ঢেলে দেই পৃথিবীর কানে।******
    জরাগ্রস্ত পৃথিবী মুক্তি লাভের পথ নেই।।। তারপরও আকুতি চালানো ছাড়া আর কিছু নেই॥।।
    শুভ কামনা॥

  5. আমিতো ঘুড়ি হতে গিয়ে ভুলেছি আকাশের ঠিকানা,
    তবুও প্রাণপণে দেয়াল সরাই, 👏👏👏

    চমৎকার শব্দের গাঁথুনিতে দুর্দান্ত উপস্থাপন।

  6. সাম্রাজ্য অতল গহীনে চাপা পরে আছে কতো কাহিনী। প্রতিটা ইট তার সাক্ষী। আঙ্গুরলতা সমাজে অছুত হলেও, তাকেও কাজে লাগায় রাতের লাল, নীল বাতি। প্রেয়সী জন্য তবুও নীল আকাশে ঘুড়ি উড়াতে উড়াতে ভুলে যাই, অব্যক্ত কথা বলতে। তবুও অপেক্ষা।

মন্তব্য করুন