নদীর ধারে বসে আছে নীলিমা। আজ তার পাশে আসিফ নেই। অথচ আজকের আগে নীলিমা কখনো এখানে একা বসেনি। তবে একটু আগে একা ছিল না। আসিফ ছিল। আসিফ ই নীলিমাকে আসতে বলেছিল। সব সম্পর্ক শেষ করে দিতে আজকে আসা। অবশ্য একপ্রকার টেনে টেনে চলছিল ওদের সম্পর্ক।
আসিফ আর নীলিমা খুব ভাল বন্ধু ছিল। দশ বছরের বন্ধুত্ব একদিন অন্য মোড় নিল। কিন্তু তখন দুজনই বিবাহিত। কেন এমন হল তার কোন ব্যাখ্যা ওদের দুজনের কারো কাছে নেই। সম্পর্কটা ভালই যাচ্ছিল। সংসার আর সম্পর্ক দুটোই ভালই মেইনটেইন করছিল দুজনে। কিন্তু আসিফ কিছুদিন ধরে অন্যরকম আচরন করছিল। মোহিনী মানে আসিফের বউ নাকি সন্দেহ করছে। নীলিমা কিছুতেই বুঝতে পারছিলনা। এত সাবধানে থাকার পর ও মোহিনী কেন সন্দেহ করবে। আসিফ বাসায় থাকা কালিন নীলিমা কখনো ফোন, মেসেজ কিছুই করতোনা।এমনকি সে নিজে থেকে ফোন করা থেকেও বিরত থাকত। আসিফ সুযোগ সুবিধা মত ফোন, মেসেজ করত।খুব একটা দেখাও করোনা। মাসে এক অথবা দুবার। প্রথম প্রথম নীলিমার খুব কষ্ট হত। ওর খুব ইচ্ছা করত সকাল বিকাল ফোন করে কথা বলতে। মাঝে মধ্যে মিষ্টি মিষ্টি মেসেজ দিতে ইচ্ছে করত। কিন্তু আসিফের অসুবিধা হবে ভেবে ইচ্ছে গুলো দমিয়ে রাখত। খুব ইচ্ছে করত রিক্সা করে সারা শহর ঘুরে বেড়াতে, ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে, একসাথে ফুচকা খেতে, দুজনে মুখোমুখি বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাতে। কিছুই করতোনা।সবকিছুর বিনিময়ে চাইত আসিফ ওর পাশে থাকুক। প্রেমিক নয় ভালোবাসা হয়ে।
আজ সবকিছুর অবসান করে দিল আসিফ। আসিফ আর এই মানসিক প্রেসার নিতে পারছেনা তাই সম্পর্কের ইতি টানল আজ। নীলিমা কিছুই বলতে পারেনি। আসলে কিছু বলার ছিল না। আসিফের চলে যাওয়া নিঃশব্দে দেখেছে। গত এক ঘন্টা ধরে নদীর ধারে বসে আছে। চারপাশের এত কোলাহল ওকে স্পর্শ করছেনা।
মাঝির ডাকে নীলিমা সম্বিত ফিরে ফেল। “আম্মা নৌকায় চড়বেন?ব্রিজের নীচে থেকে ঘুরায় আনুম। দুইশ টেকা দিয়েন। ” নীলিমা সম্মোহিতের মত নৌকায় উঠে বসল। মাঝ নদীতে একটা নীল আঁচল ভাসছে।
প্রথমেই স্বাগত জানাই সোনেলায়। অনুগল্পটা হৃদয় ছুঁয়ে গেল। একটা জীবন শেষ হয়ে গেল একটানে, একনিমিষে। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভ কামনা রইলো প্রতিনিয়ত
ধন্যবাদ
সোনেলার উঠোনে স্বাগতম আপনাকে।
এমন ভাবে একটি সম্পর্কের সমাপ্তি হওয়া কস্টের খুব।
নীলিমা মারাই গেলো শেষ পর্যন্ত!
সুন্দর একটি অনুগল্প নিয়ে এলেন প্রথমেই।
নিয়মিত লিখুন, অন্যদের লেখাও পড়ুন।
শুভ কামনা।
ধন্যবাদ
সোনেলার উঠোনে স্বাগতম আপনাকে, এই উঠোন আপনার মতো নবীনদের পদভারে মুখরিত থাকুক সবসময়, নিয়মিত চব্বিশ ঘন্টা পর পর লিখুন মনের মাধুরি মিশিয়ে সোনেলা ব্লগে এই কামনা।
এখন গল্পে আসি, কোনো অবৈধ সম্পর্কই আজীবন থাকেনা, বরঞ্চ কিছু কিছু ক্ষেত্রে গল্পের শেষাংশের মতোই পরিণতি লাভ করে।
চমৎকার গল্প, এ থেকে একটা ভালো বার্তাও আছে সমাজের জন্য।
দারুণ লিখলেন।
ধন্যবাদ
শুভেচ্ছা ও শুভকামনা
প্রেম তো বলে কয়ে আসেনা। যা হওয়ার তা হয় যায়। শেষটা ও তাই মর্মান্তিক।
হাঁ কথাটি সত্য, কথায় আছেনা “প্রেম তো আমি করিনি, সে আতিক্কা আমার উপর পড়েছে”।
অনবদ্য
তোমার জন্য অনেক দোয়া।
সোনেলায় প্রথম লেখায় বাজিমাত! আশা করি আরও সুন্দর সুন্দর লেখা আমাদের উপহার দিবেন। সোনালা ব্লগে আপনাকে সু-স্বাগত।
ধন্যবাদ । এমন উৎসাহ পেলে আরো লেখার চেষ্টা করব।
চমৎকার কথামালা প্রকাশ। সুস্থতা কামনা করি।
ধন্যবাদ
সোনেলায় শুভেচ্ছা এবং স্বাগত জানাচ্ছি। এধরণের গল্পগুলোর সমাপ্তি ট্রাজেডির মাধ্যমে শেষ হয়। এমন প্রেম খুব একটা পূর্ণতা পায়না। কেননা সংসারে তৃতীয় ব্যাক্তির আগমন কারো জন্যেই সুখকর নয়। তারপরেও মানুষ এমন সম্পর্কে জড়ায় এবং দুখেই শেষ হয় কাহিনী। নীলিমা সম্বিৎ ফিরে পেয়েছে , “মাঝির ডাকে নীলিমা সম্বিত ফিরে ফেল। “আম্মা নৌকায় চড়বেন?ব্রিজের নীচে থেকে ঘুরায় আনুম। দুইশ টেকা দিয়েন। ” নীলিমা সম্মোহিতের মত নৌকায় উঠে বসল। মাঝ নদীতে একটা নীল আঁচল ভাসছে” । এমন ভাসমান জীবন কারোই কাম্য নয়। শুভ কামনা রইলো।
কাম্য না হলেও এভাবেই সমাপ্তি হয়।
অল্প কথায় বুঝিয়ে দিলেন। ভালোবাসলে এমন করেই বাসো। অথবা মর।
কিন্তু এটা কি ঠিক?
ও যদি চলতে পারে, আমি কেনো পারবো না?
সোনেলায় স্বাগতম
সবাই প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে পারেনা
সোনেলায় স্বাগতম।
পরকীয়া প্রেমের মৃত্যু দিয়ে শেষ।
যা সচরাচর ঘটে।
শুভ কামনা।
প্রেমকে পরকীয়া বলতে নারাজ…. প্রেম শুধু প্রেম
বিয়োগান্তক পরিণতি দিয়ে অনুগল্প ভালোই হয়েছে।
লিখুন নিয়মিত এবং পড়ুন।
ধন্যবাদ। নিয়মিত লেখার চেষ্টা করব
বন্ধুত্বটা মোড় নিয়েই ভুল হলো। সুন্দর সম্পর্ক অসম্পূর্ণ হয়ে গেলো অবৈধ প্রেমে। প্রেমিক যদি আসিফ না হয়ে অন্যকেউ হতো, তাহলে নীলিমার প্রান দিতে হতো না। কষ্টের সময়ে বন্ধুত্বের অবলম্বন হয়ে নীলিমার পাশেই থাকতো সে। ভুল হয়ে যায় দুজনাতেই, কিন্তু মাসুল দিতে হয় যেকোনো একজনকে। সুন্দর গল্প।
সোনেলায় স্বাগতম আপনাকে।
ভালো থাকুন, শুভ কামনা নিরন্তর 🌹🌹
সবকিছু তো আর হিসেব কষে হয়না
সোনেলায় স্বাগতম আপু। চমৎকার একটি লেখা পড়লাম অল্প কথায় অনেক কিছু বুঝিয়েছেন। আসলে বন্ধুত্বের সম্পর্ক হতেই পারে তবে লক্ষ্য রাখা উচিত তা যেন দাম্পত্যজীবনকে বাধাগ্রস্ত না করে। কোন স্ত্রীই এটি মেনে নিতে পারেনা।
আবার কাউকে সন্দেহ করার আগে যথাযথ বিশ্লেষণ করা উচিত যে সম্পর্কগুলি আসলেই বিবাহবহির্ভূত কি না? বন্ধুত্ব্বের সম্পর্কগুলির বিয়োগাত্মক বেদনা কখনো কাম্য নয়।
ভালো থাকুন সবসময়।
আপনিও ভাল থাকবেন