প্রিয় নবীণা

প্রিয় নবীণা,

আকাশে ভেসে বেড়ায় মেঘ,  খরতায় বুক পুড়ে  মাঠ, ঘাট,  প্রান্তরের ।  শির শির দখিনা বাতাসে উড়ে যায় স্বপ্নের পালক ।  ক্লান্তি আর অবসন্নতায় আজ বিষণ্ণ পৃথিবী ।

দেহের দূরত্ব থেকে মনের দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে  করোনা নামের মহামারী । অকালেই ঝরে গেছে লাখ লাখ বুকের স্বপ্ন ।  অঙুরেই নিভে গেছে হাজার সম্ভাবনার আলো ।

কাঠাল গাছের ছায়া,  আম্লবনের ঘ্রাণ,  শান্ত দীঘির জল,  হরেক পাখির কুজন, নিরবতা,  নিস্তব্দতার প্রকৃতিকে স্পর্শ করি আমি প্রতিনিয়ত ।

আর আমাকে স্পর্শ করে যায় এক ঝাঁক বিষণ্ণতা আর বিরহ  ।

ভেবে ছিলাম অল্পতেই কেটে যাবে এই মহামারীর রেশ?  না,  তা আর হয়নি,  অষ্টে পৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে মহামারীর ছায়া ।

কত যুগ তোমায় দেখি না,

মহামারী শেষে দুজনে,  এক প্রহরে, হাতে হাত ধরে ঘুরবো,  অচেনা শহরে ,  এমন প্রত্যয়ের ব্যাত্যয় ( বানানটা নিশ্চিত না) ঘটে যাওয়া দিবস গুলো ধূসর,  বিবর্ণতায় আচ্ছন্ন করে রেখেছে ।

হয়তো দেখা হবে আবার,  নয়তো হবে না দেখা আর, এই অনিশ্চিত অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।

সময়ের স্রোতে প্রহর গুনে ক্লান্ত আর বিভিষিকাময় নৈসর্গের  রচনা করে যাচ্ছি। জানি না, এর শেষ কোথায় আর ফলাফল কি ???

শূণ্যতাকে সারা জীবনই ভাল বেসেছি,   তাই শূণ্যতা আমায় দিবে না ফাঁকি ।  তুমিহীন শূণ্য এই বুকে মরুর চাষ করে রেখেছি,  অনেক যত্নে,  সোহাগে, সেই শূণতা আমাকে কিভাবে করবে প্রতারণা ???

তুমি না থাকো,  স্বপ্ন গুলো থেকে যাক,  বুকের গহীনে,  শূণ্যতার আসরে,  একান্তীয় বাসরে ।

তুমি ভাল থেকো,  নিরাপদে থেকো,  সুস্থ থেকো ।

 

আজ নয় আর ।

বিনয়ে

তোমার সেকুল

 

রচনা কাল ঃ ১৭/০৫/২০২০

মোট পড়েছেনঃ ৮৯৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২০টি মন্তব্য

  1. আবেগ , আকুলতায় ছুঁয়ে গেল মনটি। ভালো থাকুক আপনার নবীনা ও আপনি। ব্যত্যয় , আষ্টেপৃষ্ঠে, অঙ্কুর, বিভীষিকাময় এগুলো এমন হবে। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা

  2. দেহের দূরত্ব থেকে মনের দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে  করোনা নামের মহামারী । অকালেই ঝরে গেছে লাখ লাখ বুকের স্বপ্ন ।  অঙুরেই নিভে গেছে হাজার সম্ভাবনার আলো। *****

    চিঠির প্রতিটি লাইনে ঝরে পড়েছে আকুল দীর্ঘশ্বাস। মহামারী হয়তো এক সময় শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু এই অপেক্ষার প্রহর গুলো সাক্ষী হয়ে থাকবে চিরকাল।

    চিঠিটা পড়ে ভালো লেগেছে কামরুল ভাই।
    শুভ কামনা রইলো 🌹🌹

  3. হয়তো দেখা হবে আবার, নয়তো হবে না দেখা আর, এই অনিশ্চিত অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।

    সময়ের স্রোতে প্রহর গুনে ক্লান্ত আর বিভিষিকাময় নৈসর্গের রচনা করে যাচ্ছি। জানি না, এর শেষ কোথায় আর ফলাফল কি ???

    মন ছুঁয়ে গেলো লেখাটি।

মন্তব্য করুন