একজন টোব্যাকো ট্যাক্স প্রদেয় যোদ্ধার প্রতিবাদলিপি-

গণমাধ্যমে খবর- “করোনা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে দেশে সিগারেট বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য সরকারের কাছে ধুমপান বিরোধী বিভিন্ন সংস্থার আবেদন।”

মাননীয় ধর্মাবতার, একজন ধূমপায়ী হিসেবে লজ্জাশরমের মাথা খেয়ে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যৌক্তিক কারণ হিসেবে নিম্নে আমার যুক্তি উপস্থাপন করলাম-

১. করোনায় যেহেতু সবাই ঘরবন্দী তাই সিগারেট দু’জন তিনজন মিলে ভাগবাটোয়ারা করে গলাধঃকরণ করার সুযোগ বর্তমানে নেই। ফলে ধূমপানের কারনে করোনা ছড়ানোর সুযোগ নেই বললেই চলে। দু’একজন ব্যতিক্রমী হাড় বজ্জাতের কারনেই আসলে বিরোধীদল এসব প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে যা দেশের আপামর ভদ্র ধূমপায়ী জনগোষ্ঠীকে বদনাম করার পায়তারা বলেই মনে করি।

২. “এক ধূমপায়ী এক শলাকা সিগারেট” এই নীতির ফলাফল স্বরুপ আমাদের একেকজনের কল্পনাতীত অর্থব্যয় হচ্ছে যা বেকার এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের পকেটমানির নুন আনতে পান্তা ফুড়ায় অবস্থার তৈরি করেছে।

৩. লকডাউন সময়ে সিগারেট বিক্রি বন্ধ হলে যারা পান সিগারেট বিক্রির মত ছোট ব্যবসার সাথে জড়িত তারা না খেয়ে থাকবে।

৪. সিগারেট বিক্রি না হলে দেশের তামাক চাষীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। তাই তাদের জন্য সরকারি প্রণোদনার ২ শতাংশ বরাদ্দ করার দাবী জানাচ্ছি।

৫. এদেশে তামাক বাবদ ৪৫ শতাংশ এবং ভ্যাট বাবদ ১৫ শতাংশ অর্থাৎ সিগারেট বাবদ মোট ৬০ শতাংশ কর দিতে হয়। তাহলে হিসেবমত ১০০ টাকার সিগারেট খেলে সরকারকে ৬০ টাকা কর দিচ্ছি আমরা। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ নিত্যদিন সিগারেট কিনে এই টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দিচ্ছে। হিসেব করলে দেখা যায় ২ বছরে প্রাপ্ত এই টাকা থেকে আরও একটা পদ্মা সেতু করা সম্ভব!

৬. সেই হিসেবে প্রত্যেক ধূমপায়ীই একেকজন নীরব দেশপ্রেমিক। অথচ এর বিনিময়ে ধূমপায়ীরা অবজ্ঞা ছাড়া আর কিছুই পায়না। সবাই খারাপ চোখে দ্যাখে, উফ! কি দুর্গন্ধ! যা দূরে যা! এসব কটুবাক্যে নিজেদের উপহাসের পাত্র হতে হচ্ছে সবার কাছে। যার ফলে একজন ধূমপায়ীর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে সর্বদাই।

ধর্মাবতার, তাই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আমি তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর এমন আবেদনের কঠোর বিরোধীতা করছি। সেই সাথে প্রতিটি ধূমপায়ীর বাড়িতে বাড়িতে একমাসের জন্য ত্রাণস্বরুপ এক কার্টুন সিগারেট দেবার বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।

নিবেদক-

দেশের আপামর ধূমপায়ীর পক্ষে,

একজন নগন্য টোব্যাকো ট্যাক্স প্রদেয় যোদ্ধা।

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধুমপান আপনার এবং প্রিয়জনের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। দয়াকরে ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।

মোট পড়েছেনঃ ১,০১৯জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৪৯টি মন্তব্য

  1. ৩. লকডাউন সময়ে সিগারেট বিক্রি বন্ধ হলে যারা পান সিগারেট বিক্রির মত ছোট ব্যবসার সাথে জড়িত তারা খেয়ে থাকবে।

    এই লাইন টা কিন্তু বুঝলাম না বিরোধী ভাইসাব 😜😜

    1. ” না ” টাকে যে পর্দা করায় রাখছিলাম। রোজা রমজান মাস। কিন্তুক আপনেরা পর্দার আড়ালে থাকতে দিলেননা। না কে তাই আবার বেপর্দা করেই দিলাম।

      পোস্টে দেখন, না চলে এসেছে ☺

  2. হুম নিজের স্বার্থ থাকলে কেমনে খারাপ জিনিস ও ভালো হয়ে যায়!! 🤭🤭🤭🙄🙄তামাক থেকে সরকারের প্রচুর রাজস্ব আদায় হয় , বলতে গেলে দ্বিতীয় পজিশন এ টোব্যাকো কোম্পানি করদাতা হিসেবে। মজায় মজা হা হা হা। নেশা জিনিস টা খুব খারাপ, ছাড়া কষ্ট। তবুও চেষ্টা করুন

    1. নেশা জিনিসটা বড্ড খারাপ। শুধুমাত্র প্রচুর ট্যাক্স এবং ভ্যাট পায় বলে সরকার সিগারেটের উপর বিধিনিষেধ বাধ্য করাতে পারছেনা জনগনকে।

      ভালো থাকবেন দিদিভাই।

  3. কেন জানি আমি সিগারেট টানি না
    তাই ট্যোবাকো ট্যাক্স প্রদেয়-
    সকল যোদ্ধার দাবি আমরা মানি না।

    (বি.দ্র. চকচকে দাঁত এবং ঠোঁট নষ্ট করার দায়ে ভবিষ্যত প্রশংসা বঞ্চিত হতে চাই না, তাই টানি না।) 😀😀

  4. ভাইয়া পোষ্টটা ভালো লেগেছে আপনাকে হারাতে চাই না তাই আমাদের স্বার্থে বলছি নিচের লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়েন।

    সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধুমপান আপনার এবং প্রিয়জনের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। দয়াকরে ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।

    শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।

      1. ভাইয়া ছোট মানুষ একটু জ্ঞান দিতে চাই 🙏

        সিগারেট পান করা ইসলামে শরিয়ত সম্মত না, এটা হারাম।
        আমরা জেনে শুনে কেন হারাম খাব বলেন.?

        কোন অভ্যাস একদিনে গড়ে ওঠে না তাই অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে আস্তে আস্তে।
        মনে সদইচ্ছা থাকলে অসম্ভব বলে কিছুই নেই।

        হাতে খাতা কলম নিয়ে বসে যান।
        লিখুন সারাদিনে কত পেকেট,বা সিগারেট খাওয়ার সংখ্যা কত।

        এবার বাদ দেন গত কাল থেকে ১,পরদিন ২ টা বাদ দেন,, এভাবে সিটারেট খাওয়ার পরিমান কমিয়ে দেন। দেখবেন ইনশাল্লাহ্ ১ মাস পর আর সিগারেট খাওয়ার নেশ থাকবে না।

        আজকেই কাজে লেগে পড়ুন কারন রজমান মাস উওম মাস, রোজা রেখে দিনের বেলা সিগারেট খাবেন না প্রমিস করুন।
        বাকিটা আল্লাহ্ ভরসা।

        ভালো থাকুন, সীমিত আকার থেকে সিগারেট মুক্ত হওন।
        জয়হোক প্রতিজ্ঞার, নিপাত যাক সিগারেট ☺

    1. ইয়েস ইয়েস। যারা নিষেধ করে তাদের সমস্যা কি! তাদের কিছুতেতো আমরা বাঁধা দেইনি।

      মাথা থান্ডা না থাকলে বাড়িতে বাজার আসবেনা ভুলে যায় তারা। 😃😃😃

      ভাই ভাই জিন্দাবাদ।

      1. ভালোই তো জোট বাঁধলেন দু’জন। যারা ধূমপান করেনা তাদের মাথা ঠান্ডা থাকে কেমনে! আমি তো দেখি তারাই ঠান্ডা মাথার অধিকারী

  5. পান সিগারেট খাইনা।
    ছেলে হিসেবে এদিক দিয়ে ভালো।

    ..
    যেহেতু,
    সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধুমপান আপনার এবং প্রিয়জনের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। দয়াকরে ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।
    অতএব বিরত থাকুন।
    শুভকামনা দাদা।

  6. কঠিন যুক্তি আছে লেখায়,
    ” প্রতিটি ধূমপায়ীর বাড়িতে বাড়িতে একমাসের জন্য ত্রাণস্বরুপ এক কার্টুন সিগারেট দেবার বিনীত আবেদন জানাচ্ছি। ” 🙂
    মজারু হয়েছে লেখা।
    শুভ কামনা।

  7. ধর্মাবতার, তাই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আমি তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর এমন আবেদনের কঠোর বিরোধীতা করছি। সেই সাথে প্রতিটি ধূমপায়ীর বাড়িতে বাড়িতে একমাসের জন্য ত্রাণস্বরুপ এক কার্টুন সিগারেট দেবার বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।

    আপনার সাথে আমিও একমত পোষণ করছি। কারণ আমি প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে চার প্যাকেট সিগারেট ফুঁকি, তাই। এই সিগারেট ফুঁকে আমি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আর্থিকভাবে। কিন্তু শারীরিকভাবে সুস্থই আছি। সিগারেটের কারণে এখনও আমার শারীরিক কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি।
    সময়োপযোগী পোস্টের জন্য অংসখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মন্তব্য করুন