ভালোবাসার উল্টোপিঠ

আমাদের কলেজের ডিপার্টমেন্টে এক মামা ছিলেন। তিনি হল সুপার ম্যামের বাসার সাহায্যকারী মেয়ের সাথে ফিস ফাস করতেন। এই কাহিনী আবার ডিপার্টমেন্টের কিছু মেয়ে আগ্রহভরে শুনতো। আমার কোনকালেই এসব বিষয়ে আগ্রহ ছিলো না। তারপরও একদিন অনিচ্ছাস্বত্তেও শুনে ফেললাম তিনি বলছেন,

“আমি এই কাজ করতাম না। করছি শুধু আপনার মামী অসুস্থ বলে।”

(তার মানে,ওনি ম্যামের বাসার ঐ মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাবেন। নিজের অসুস্থ স্ত্রী, ছোট্ট সন্তানকে ফেলে রেখে যাবেন।) কলেজের মেয়েরাও যথারীতি হাহা হিহি করছে। কবে কি হবে তা জানতে চাইছে। তারা একটাবারও ভাবছে না, এই Tragedy একদিন তাদের জীবনেও আসতে পারে!

মেয়ের বাবা যখন একটা ছেলের হাতে নিজের মেয়েটাকে দিয়ে দেন, তখন সেই মেয়ের সকল সুখ দুখের দায়িত্ব যত্নসহকারে ছেলেটিকে দিয়ে দেন। তিনি যদি জানতেন, স্ত্রী অসুস্থ হলে জামাই বাবাটি তাঁর আদরের মেয়েটিকে ফেলে পালিয়ে যাবে, তাহলে কি দিতেন? অনেকেই প্রশ্ন তুলবেন, “একটা মেয়ে কিভাবে আরেকটা মেয়ের সংসার ভাঙলো”?
জ্বী, যত দোষ নন্দ (পড়বেন নারী) ঘোস! সেই শশুড়ের মেয়েটির দায়িত্ব পৃথিবীর সকল নারীর নয়, বরং জামাই বাবাজির! তাই, সাদাকে সাদা, কালোকে কালো ভাবাই আমাদের উচিত।

এবার আসি মেয়েগুলোর প্রসঙ্গে। এই যে তারা আগ্রহভরে মামার Adventure তথা পালিয়ে যাওয়ার গল্প শুনছে, কে বলতে পারে তাদের জীবনেও এমন ঘটনা আসবে না? তারা যতটা মুখ ফর্সাকারী ক্রীম, প্যাক, ময়দা মাখে, ততটা যদি মগজ ধৌতকারী কিছু মাখতে পারতো, তাহলে বোধহয় এদের উন্নতি হতো, আর ঐসব মামারাও প্রশ্রয় পেত না।

মোট পড়েছেনঃ ৬৩০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৫টি মন্তব্য

  1. ধন্যবাদ আপু। হালকাভাবে নিলে বিষয়টি মজাদার কিন্তু বিষয়টি আসলেই জটিল, মনস্তাত্ত্বিক। শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য

  2. এক জীবনে যতো ঝড় জাপটাই আসুক কেউ কাউকে না ছাড়াই উচিৎ। কারণ সুখে যে আমাকে সঙ্গ দিয়াছে তার অসুখে কেটে পরাটা কাপুরুষতা ছাড়া কিছুই নয়। অনেকে অনেক ছুতা আবিস্কার করতে পারবে কিন্তু আমি বলি এটা করাটা কোন ভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়।

    1. একদম ঠিক বলেছেন। এটুকু যারা বোঝে তাদের আর কিছু লাগে না। এ বিষয়টা কেন জানি অনেকেই বোঝেনা, গভীরে ভাবেও না।

      ধন্যবাদ।
      শুভ কামনা জানবেন।

  3. নিজের স্ত্রী অসুস্থ হলে, স্ত্রী সন্তান রেখে পালিয়ে যাবার চিন্তাধারা যাঁর মনেই থাকুক; সত্যিকারার্থে সেই ব্যক্তি শুধু কাপুরুষই নয়; বরং জানোয়ারের সমতুল্য মনে করি। কারণ, আমিও এক নারীর স্বামী এবং নিজেও এক মেয়ের বাবা। এটা কোনও মতেই গ্রহণযোগ্য নয়, বরং ঘৃণার।
    আপনার লেখা পড়ে ভাবতে লাগলাম!
    শুভকামনা থাকলো শ্রদ্ধেয় দিদি।

মন্তব্য করুন