মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি, স্বাধীনতাও দেখেছি
জন্ম আমার ১৯৬৩ইং জুনমাসে,
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ সারাদেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ
তা শেষ হয়েছিল নয়মাসে।

আমি তখন খুবই ছোট, ৮ বছরের অবুঝ শিশু
তবুও স্পষ্ট মনে আছে,
পাক-হানাদার বাহিনীর গনহত্যা, জ্বালাও পোড়াও ধর্ষণ
তা ইতিহাসেও লেখা রয়েছে।

তার প্রমাণ আমিও একজন, মুক্তিযুদ্ধ চলছিল যখন
গিয়েছিলাম বাবার সাথে বাজারে,
বেচাকেনা চলছিল তখন, আসলো একদল পাকবাহিনী
এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ছিল বারেবারে।

বাজারে লাগিয়ে দিল আগুন, শুরু হলো রাইফেলের বাড়ি
চলছিল অশ্লীল উর্দু ভাষা,
লাগলো জনতার দৌড়াদৌড়ি, করছিল পালানোর চেষ্টা
ছেড়ে দিয়ে জীবনের আশা।

আমি বাবাকে ধরে কাঁদছিলাম, বাবা দিলেন শান্তনা
তাতেও রক্ষা হলো না,
বাবাকে সহ ধরে ফেললো কয়েকজন, কলেমা বাতাও
বাবা কলেমা পারলো না!

যাঁরা পারলো তাঁদের কিছুই বললো না, ছেড়ে দিলো।
বাবাকে তাঁরা বেঁধে ফেললো,
ওঁরা বাবাকে বেধড়ক মারল, গুলি করার প্রস্তুতি নিলো
বাজারের একপাশে নিয়ে গেল।

আমি তাঁদের পায়ে ধরে বললাম, ছেড়ে দিন বাবাকে
নিদয়া পাকবাহিনীর দয়া হলো,
আমার কান্নায় বাবাকে গুলি করেনি, জোরে লাত্থি মারলো
তারপর বাবাকে ছেড়ে দিলো।

বাবা আর হাঁটতে পারছিল না, তবুও থামছিলাম না,
মা কাঁদছিল আমাদের দেরিতে,
আমাদের দেরি দেখে কেঁদেছিল বড়দি, শান্ত হলো সবাই
আমরা যখন আসলাম বাড়িতে।

মনে পড়ে মনে পড়ে খুব, মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ঘটনা
তা কীভাবে করি বর্ণনা?
প্রাণ বাঁচাতে কত মানুষ ছেড়েছিল বাড়ি, হয়েছে শরনার্থী
ভারত গিয়ে দিয়েছিল ধর্না।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর শুরুতে, পাকবাহিনী নিশ্চিত হলো
তাঁদের হবে না টিকে থাকা,
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর, চারদিকে বিজয়ের জয়ধ্বনী
উড়ল মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পতাকা।

মুক্তির জন্য মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ
ত্রিশ লক্ষ শহীদের জীবনদান,
দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা
সবই ছিল তাঁদেরই অবদান।

মোট পড়েছেনঃ ১,৫৬৮জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৪টি মন্তব্য

  1. মুক্তির জন্য মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ,ত্রিশ লক্ষ শহীদের জীবনদান, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা এ সবই ছিল তাঁদেরই অবদান।

    এরপরে আর কিছু বলার নেই দাদা। এটি অনুভবের বিষয়।

    বিজয়ের সোনালী শুভেচ্ছা।

  2. মুক্তির জন্য মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ
    ত্রিশ লক্ষ শহীদের জীবনদান,
    দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা
    সবই ছিল তাঁদেরই অবদান।
    .
    যাঁদের বিনিময়ে পেয়েছি আজ আমাদের স্বাধীনতা তাঁদের প্রতি রইলো অকৃত্রিম শ্রদ্ধা।

    বিজয়ের সোনালী শুভেচ্ছা দাদা।

  3. যদিও মুক্তিযুদ্ধ সরাসরি দেখিনি তবে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াল বর্বরতার ইতিহাস পড়লে এখনো চোখ জলে ভিজে আসে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের এই স্বাধীনতা, কভু যেন মলিন না হয়।

    1. শত সমস্যার মাঝেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে আশা করি। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি, শ্রদ্ধেয় দাদা।

    1. হ্যাঁ দাদা। সেদিন আমার এবং আমার বাবার ভগ্য খুবই অনুকূলে ছিল। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি, শ্রদ্ধেয় দাদা।

  4. সত্যিই কী নির্মম নির্যাতন সহ্য করে আজকের দেশ এবং মাতৃভাষা।
    আপনার লেখা পড়ে আমার গা কাঁটা দিয়ে উঠছে , কতটুকু নির্মম হলে কুত্তার দল আঘাত করে অসহায় মানুষকে।

    শ্রদ্ধা জানাই সেই বীর সন্তানদের যাদের মূল্যে আজকের মাতৃভাষা।

  5. মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, দেখিনি পাক বাহিনীর বর্বরতা‌। কিন্তু বইতে পড়েছি বারবার কেঁদেছি শিউরে উঠেছি তাদের এমন নিশংসতায়

    1. সেদিনের সেসব করুণ দৃশ্য নিজের চোখে দেখলে আরও কাঁদতেন। দেখেনি সে-ও এক ভালো হয়েছে। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

  6. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক যে কোনো লেখা ই আমার ভাল লাগে। এটি তেম।
    আপনি আমার চেয়ে ছয় বছরের ছোট! জিসান ভাইও জুনিয়র! হাহাহা।
    এই ব্লগে আমিই সবচে’ প্রবীণ তাই না?
    ভাল থাকবেন।

  7. কাব্যের বর্ননায় আপনিও একজন মুক্তিযোদ্ধা, আপনি আকুতির হাতিয়ার চলিয়ে আপনার বাবাকে বাঁচিয়েছেন।
    হৃদয়স্পর্শী উপাখ্যান।

    বিজয়ের মাসের উচ্ছাসিত শুভেচ্ছা রইলো।

  8. মুক্তির জন্য মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ,ত্রিশ লক্ষ শহীদের জীবনদান, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা এ সবই ছিল তাঁদেরই অবদান।

    যাদের বিনিময়ে পেয়েছি আমরা স্বাধীনতা, আমি তাদের জানাই সহস্র কোটি সালাম শ্রদ্ধা ভালোবাসা।

  9. আরাম আয়েসেয় জীবনে ঠিকই এসব বর্ননা শুনে শরীরে কাটার মতো বিধে। আহা! কতো কষ্টের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা। এসব লেখা আশাকরি আমাদের ভবিষ্যতের উউত্তরসূরীরা পড়েও অনুপ্রাণিত হবে। ধন্যবাদ দাদা।

  10. চোরের পড়া মন্তব্য হইনা।

    চুরি করে পড়েছিলাম দাদাভাই। কিন্তু উত্তর হইনি দেওয়া। তাদের এই ঋণ হবে শোধ এইজিবনে।
    তাদের আত্বা শান্তিতে থাক এই দোয়া রইল আল্লাহর দরবারে।

  11. সে সময়ের যে কোন ঘটনা মনকে নাড়া দিয়ে যায়।
    আপনার প্রতি শ্রব্ধা বেড়ে গেল।

    ওদের আত্মত্যাগের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবে না।

মন্তব্য করুন