শেষ বিকেলের প্রণয়( অনিন্দ্য কে লেখা মোহনার চিঠি)

প্রিয় অনিন্দ্য,

জানি না তুমি কেমন আছো? তবে আমি যে ভালো নেই সে তুমি অবশ্যই জানো। কেমন আছি কেমন আছো তা নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই আমার। যা হোক যে কারণে তোমাকে লিখতে বসা, সেটা নিয়েই বরং শুরু করি কথা। আমি জানি এই মুহূর্তে তুমি আমাকে প্রচণ্ড ঘৃণা করো, ঘৃণা করার মতো যথেষ্ট কারণ আছে। তোমাকে প্রথম দেওয়া কথা রাখতে না পারার যন্ত্রণায়
ছটফট করেছি কতোদিন সে হিসাব এখন আর নাইবা করলাম। সে থাক না হয় তোমার অগোচরে চিরদিন, চরিত্রে তোমার দাগ লাগনো উদ্দেশ্য ছিলো না কোনোদিন। ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যে অন্যায় আমি করেছি তার ক্ষমার অযোগ্য। তাই ক্ষমা চাওয়ার অধিকার নেই আমার। কিন্তু যা করেছি তার কারণ তুমি জানো।

মমতাজের গানটা শুনেছো নিশ্চয়ই
(আমি কারো হলে তোমার,,,,,,)

“তুমি কারো হলে আমার কেনো জ্বলেরে বন্ধু, আমার কেনো জ্বলে”

প্রেমিক তুমি তাই  জানার কথা তোমার আমার কেনো জ্বলে? নিজের প্রেম অন্যের হতে দেখলে বা তুমি অন্য কারো হলে আমারই তো জ্বলবে! তাই ঈর্ষায় জ্বলে পুড়ে আমি পারিনি তোমাকে দেওয়া কথা রাখতে।

আজ সনু নিগমের সেই গানটা মনে পড়ছে খুব
“একটু সহজ হতে ছিলো না তো দোষ
কি এমন দোষ হতো করলে আপোষ “

ভালোবাসায় অভিমান জমতে দিতে নেই, টুকরো টুকরো অভিমান ক্রমে ক্রমে জমে জমে তা বিশাল পাহাড় হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়েছে। যে পাহাড় টপকানোর ক্ষমতা এখন আর আমার বা তোমার কারোই নেই।
সেদিন যদি আমরা হতে পারতাম একটু সহজ অথবা মিটিয়ে নিতে পারতাম আমাদের  সব অভিমান,
তবে আজ তুমি আমার আর আমি তোমারই থাকতাম।
আমরা দু’জনেই ছিলাম প্রচণ্ড জেদি আর অহংকারী,
না তুমি, না আমি কেউ কাউকে দিইনি একচুল ছাড়! তাই তো আজ ধোঁয়াশায় ঢাকা পড়েছে প্রেম, মরীচা ধরেছে ভালোবাসায়। তুমি অন্যের হলে আর আমার কাছে রয়ে গেলে অধরায়। সে যা হোক, যা হবার তা হয়ে গেছে। ললাটে যা ছিলো তা খণ্ডানোর সাধ্য নেই আমার। কিন্তু দ্বিতীয় বার যে কথা দিয়েছি, সে কথা আমৃত্যু আগলে রাখবো। তোমাকে ভুলে থাকার চেষ্টা করবো, না কেবলই ভুলে থাকা নয় একেবারেই ভুলে যাওয়া। দেখো তুমি এই কথাটার নড়চড় হবে না কোনদিন! ভালোবাসা ভরিয়ে দিয়ে করেছিলে আমায় ঋণী। সে ঋণ জানি শোধ হবে না কোনো দিন, তবুও চেষ্টা করবো তোমাকে দেওয়া কথা রেখে তোমার ঋণ শোধ করতে।

ইতি
তোমার সুনয়না

নাহ্ আমি সুনয়না নই। তোমার সুনয়না এখন অন্য কেউ

মোট পড়েছেনঃ ৯৩৮জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২১টি মন্তব্য

  1. সত্যি আপন কেউ পর হলে কষ্ট পাওয়াটা স্বাভাবিক।
    “তুমি কারো হলে আমার কেনো জ্বলেরে বন্ধু, আমার কেনো জ্বলে”
    চিঠি পড়ে ভালো লাগলো খুব।

  2. আবেগময় চিঠি। সুনয়নারা এভাবেই নিজের আবেগ ঢেলে দেয় ভালোবাসার মানুষের কাছে। আর আমরা তা পেয়েও ধরে রাখতে পারিনা অনেকেই।

    উপন্যাসটি উপভোগ্য হবে নিশ্চিত। শুভকামনা রইলো।

  3. ভালোবাসায় অভিমান জমতে দিতে নেই, টুকরো টুকরো অভিমান ক্রমে ক্রমে জমে জমে তা বিশাল পাহাড় হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়েছে। যে পাহাড় টপকানোর ক্ষমতা এখন আর আমার বা তোমার কারোই নেই।

    অভিমান জমতে নেই কথাটা আমরা অন্যকে বলি- নিজের বেলায় ভুলে যাই। যেন নিজের ক্ষেত্রে সঠিক।

    চমৎকার চিঠি আপু
    ঋণ শোধ হউক এই কামনা রইলো।

  4. দারুণ আপু চমৎকার লেখার কৌশল। কথার ফাকে গান কবিতা জুড়ে দিয়ে চিঠিটির আরো মান বাড়িয়ে দিলেন। চিঠি লেখা আপনার কাছ থেকেই শিখতে হবে।

  5. তুমি জানো আমি ভালো নেই, অথবা আমাদের অহংকার যদি কম হতো তাহলে আমি তোমার, তুমি আমারই থাকতে।,,, এই সরল স্বীকারোক্তিতে ভালোবাসা উপলব্ধ হয়ে গেছে। মুখে যতই বলি মনে রাখবো না, ভুলে যাবো। ততোবেশি সে প্রবিষ্ট হয়ে থাকে ভাবনার গভিরে।

    উপন্যাসটি অনবদ্য গতিতে এগিয়েছে। সব পর্বের কমেন্ট নিয়মিত দিতে পারিনি, এটা আমার ব্যার্থতা। তবে পড়িনি তাতো নয়!

    একরাশ শুভ কামনা তোমার জন্যে 🌹🌹

  6. ‘ তুমি কারো হলে আমার কেনো জ্বলেরে বন্ধু, আমার কেনো জ্বলে?”
    গভীর ভালোবাসা থাকলেই জ্বলবে আপু।

    অভিমান ভালোবাসার প্রধান শত্রু,
    কত জুটিকে যে এই কথা বুঝিয়েছি যার হিসেব নেই,
    অভিমান অনেক ভালোবাসাকে শেষ করে দেয়।

    চিঠিটি ভালো লেগেছে আপু,
    উপন্যাসের সাফল্য কামনা করছি।
    শুভ কামনা।

    1. আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন ভাইয়া
      কৃতজ্ঞতা অশেষ
      আপনি ঠিক বলেছেন।অভিমানের শেষ হয়ে গেছে অনিন্দ্য সুনয়না পাগল করা প্রেম।
      আশা করছি উপন্যাসটি সবার ভালো লাগবে।

  7. প্রিয় লেখিক,
    উপন্যাস প্রকাশিত হলে জানাবেন,
    পুরোটাই বই আকারে পড়তে আরো ভাল লাগবে।
    আপনার সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করছি।

মন্তব্য করুন