অবরুদ্ধ স্বর্গ


বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীরের ৫৫% ভারতের, ৩০% পাকিস্তানের এবং ১৫% রয়েছে চীনের নিয়ন্ত্রণে। ভারতের দখলে কাশ্মীর উপত্যকা, জম্মু, লাদাখ ও সিয়াচেন হিমবাহ-লোকবসতি ৭০%। পাকিস্তানের অধীনে আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তান-৩০% জনঅধ্যুষিত। চীনের দখলে জনশূন্য শাক্সগাম উপত্যকা ও আক্সাই চীন।

তবে আমরা মূলত ভারত অংশের কাশ্মীরকেই স্বর্গ বলের থাকি। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে গিয়েছিলাম ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মীরে, আবার কোন এক ডিসেম্বর-জানুয়ারীর বরফে ঢাকা স্বর্গে ও এপ্রিলের স্বর্গ টিউলিপ দেখতে যাওয়ার ইচ্ছের বাইরেও লাদাখ যাওয়ার ইচ্ছেটা মনের মাঝে সুপ্তই ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কি থেকে কি হয়ে গেলো, কাশ্মীরের জনগন আজ অবরুদ্ধ ও আতঙ্ক নগরীর বাসিন্দা। ওটা নাকি এখন মৃত্যু-উপত্যকা। রাস্তায় রাস্তায় সেনা চৌকি আর কাঁটাতারের ব্যারিকেড। রাস্তায় যত না সাধারণ মানুষ, তার চেয়ে বহু গুণ বেশি সেনা আর আধা-সেনা। এ পরিস্থিতি থেকে কখন কিভাবে উত্তরণ হবে তারও কোন ঠিক ঠিকানা নাই। স্বর্গের মানুষগুলো আজ নরকে বসবাস করছে।

তবে আমার পোষ্ট আজকে মূলত কাশ্মীরের কিছু ছবি নিয়ে…………..


(২) পাইন বনের মাথার উপর বরফ ঢাকা পাহাড়, এমন দৃশ্য কাশ্মীরের প্রায় সর্বত্র।


(৩) ধান কাটার পর জমিতেই তা শুকিয়ে নিচ্ছে।


(৪/৫) বেতাব ভ্যালি থেকে তোলা ছবি।


(৬) জম্মু থেকে শ্রীনগর যাওয়ার পথে দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে একটা স্টপেজ, এর পর থেকেই শুরু মোগল রোড।


(৭) যাযাবরদের বাসস্থান।


(৮/৯) যাযাবরদের সম্পদ।


(১০) পেহেলগামের একজন ফেরিওয়ালা।


(১১) এই ন্যাড়া পাহাড়গুলো এক সময় সাদা হয়ে যায়।


(১২) ডাল লেকের বিখ্যাত শিকারা রাইড।


(১৩) নাগিন লেক থেকে শাপলা পাতা তুলছে দুই কাশ্মীরি নারী।


(১৪) কাশ্মীরি আপেলের স্বাদের কথাটা আলাদা করে না হয় নাই বললাম।


(১৫) অবরুদ্ধ স্বর্গের শিশুরা।


(১৬) পাথরের ফাঁকে এটা দুধের নহর না, পাইন বনের ওপারের সাদা টুপি পড়া পাহাড়গুলো থেকে ছুটে আসা আশির্বাদ।


(১৭) উঁচু পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে ছুটে চলা পাহাড়ি নদী, আর গাছপালার ফাঁকে ফাঁকে উকি মারছে কাশ্মীরিদের গ্রাম।


(১৮) মোঘল গার্ডেন নিশাত বাগ থেকে তোলা ছবি।


(১৯) কাশ্মীরের চানাচুরওয়ালা।


(২০) স্বর্গে একজন ক্ষণিকের অতিথী।

মোট পড়েছেনঃ ১,৩৫৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৫টি মন্তব্য

  1. ৫। ের ছবি জলাধারে ঘর, স্বর্গের এই বুঝি দ্বার।
    ১৮ । মোঘল গার্ডেনের নিশাত বাগ, মন বলে এইখানেই শুয়ে থাক।

    অসহায় দৃষ্টিতে স্বর্গের শিশুরা, চেয়ে রয় দূর সেদুর।
    খুব প্রকৃতির সব সুধা ঢেলেছে বুঝি কাশ্মিরে, আল্লাহর নেয়ামত এইখানে।
    আপনাকে অশেষ শুভেচ্ছা সুন্দর ছবি দেখানোর জন্য।

  2. বেষ্ট ছবি – ১২) ডাল লেকের বিখ্যাত শিকারা রাইড।

    আর চানাচুর ওয়ালাশ পিঁয়াজের ষ্ট্রাইল দেখে মুগ্ধ- ছবিটা চমৎকার।

    অনেক দেখালেন ভাইজান- এ শীতে যাওয়ার খুব ইচ্ছে। যদি আল্লাহ রহম করেন তো।

    মুগ্ধ হলাম।

  3. ছবিগুলো দেখে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, এতো সুন্দর যে জায়গার ছবি, সেই জায়গা বাস্তবে কত সুন্দর সেটাই ভাবি!!

    কাশ্মীরি জনগণের বর্তমান অবস্থা মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্ববাসী সবাই জানে। তাদের জান-মাল, ইতিহাস-ঐতিহ্য আজ সবই সংকটে। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি মনুষ্য সৃষ্ট জুলুম থেকে তারা যেন মুক্তি পায়।

    ঝালমুড়ির ছবিটা লোভনীয় হয়েছে। তবে এই জন্যে আপনাকে ঝালমুড়ি ওয়ালা ভাই বলে ডাকবো না। 😜

    শুভ কামনা 🌹🌹

    1. রাজনীতির জন্য সারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায়ই মানুষদের এমন নির্যাতিত হতে হচ্ছে, জানিনা এর শেষ কোথায়?

      ……………..শুভেচ্ছা জানবেন আপু

  4. ১৯৯১ ইং সালে ভারত গিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের ভেতরেই জলপাইগুড়ি বোনের বাড়িতে ছিলাম প্রায় দেড়বছর। আর্থিক সমস্যার কারণের জম্মু-কাশ্মীর যাওয়া হয়নি। মনের স্বাদ মনেই থেকে গেল। এখন আপনার পোস্টের ছবি দেখে আর লেখা পড়ে প্রাণ জুড়াই!

  5. ভু- স্বর্গ ভারত অংশের কাশ্মীরে যাওয়া হয়নি এখনো,
    যাবার ইচ্ছে আছে খুব, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যাবো বেঁচে থাকলে।
    ছবি গুলো দেখে যাবার ইচ্ছে আরো প্রবল হলো।

    ছবি ব্লগ ভালো লেগেছে।
    শুভ কামনা।

মন্তব্য করুন