আমার বড্ড ভয়

আমার ও মেয়ে আছে!
বয়স মাত্র দুই।
আমার বড্ড ভয়, মেয়ে বড় হচ্ছে!

আমি খেয়াল করে দেখি,
কত গুলো চোখ তাকিয়ে থাকে
মেয়েদের দিকে নির্লজ্জ ভাবে।
রাস্তায় চলার সময়
বাসে বসার সময়,
রিক্সায় যাবার সময়,
আমার চোখের সামনেই ঘটে চোখে চোখে ধর্ষণ।
তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই।
আমি ভীতু! আমার কিছু বলার নেই!

রাস্তায় ওড়না ছাড়া মেয়েটির বুকের দিকে চেয়ে গিলে গিলে খেলো এক দল শকুন।
আমি তাকিয়েই দেখে গেলাম!
আমার কিছু করার নেই!
এই শহরে আমাকেও থাকতে হবে, বাঁচতে হবে।
আমার কিছু বলার নেই।

এই শহরে নয় মাসের শিশু হয় ধর্ষিত!
এই দেশে শতবর্ষী বৃদ্ধার ও সম্ভ্রমহানী ঘটে!
মসজিদের ইমাম ধর্ষণ করে,
পরম পূজ্যতম শিক্ষক করে ভোগ!

এই শহরেরই এক দালানে আমার মেয়ে বড় হচ্ছে!
তাকেও তো একদিন বাইরে বের হতে হবে,
স্কুলে যেতে হবে,
কলেজে যেতে হবে,
শিক্ষকের কাছে পড়তে যাবে
মক্তবে আরবী শিখবে,
বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মাতাবে।

আমার বড্ড ভয়! আমার মেয়ে বড় হচ্ছে!
কে বাঁচাবে আমার মেয়েকে,
ঐ শকুনের জাত থেকে?
তাঁর বেলায় ও কি এমন হবে?

এই দেশ ও একদিন স্বাধীন হয়েছিলো।
এই শহরেই আমার মায়ের বাস!
আমার বোনের বাস, আমার স্ত্রী থাকে!
এই দেশের এই শহরেই আমার মেয়ে বড় হয়!
কতগুলো চোখ ও বড় হচ্ছে!
আমার বড্ড ভয়!

মোট পড়েছেনঃ ৮৩১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৫টি মন্তব্য

  1. মসজিদের ইমাম ধর্ষণ করে,
    পরম পূজ্যতম শিক্ষক করে ভোগ!

    কতটা নীচ আমাদের পুরুষজাত।তাও দুটো শিক্ষাঙ্গন!
    খুব ভাল হয়েছে।যে যেভাবে সম্ভব হোক প্রতিবাদ।

  2. আমাদের কাউকে না কাউকে প্রতিবাদ করার জন্য আসতে হবে। নইলে হায়ানার দল ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে আমাদের নারী সমাজকে। একজন প্রতিবাদী হলেই দেখবেন সবাই প্রতিবাদ করছে। রুখে দিবে এই ধর্ষনকারীদের। সময়পোযোগী লেখা।

  3. মসজিদের ঈমাম, স্কুলের শিক্ষক, বাস ড্রাইভার, সবার দিকেই সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকাতে হয়, তাই ভয় হয়। ৪ বছরের মেয়েকে শিখাচ্ছি কাউকে গায়ে হাত দিতে দিবে না ভাবতেই লজ্জা লাগে।

  4. সাম্প্রতিক ঘটনায় এমন ভয়ে আতঙ্কে কুঁকড়ে থাকি,
    এই স্বাধীন দেশ, যে দেশ একটি যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছিল,
    যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়ায় থাকবে আলো, নিঃশ্বাস নেয়ার মত বিশুদ্ধ বাতাস,
    বিপরিতে এসেছে অন্ধকার, অসীম অন্ধকারে ছুটে চলছে দেশ।

    কিছু ভালো লাগছে না কবি।

    1. আমরা আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে চলে এসেছি। এখন আমাদের প্রত্যেকের নিজ অবস্থান থেকে প্রথমে ঘৃনা, এবং পরবর্তীতে শয়তান গুলো মারার জন্যে নিজ নিজ হাতেই অস্ত্র ধারন করতে হবে।

      1. সিকদার ভাই, রাজনীতিবিদরা যখন সততায় ভরে যাবে তখন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা জপ্নতার হাতে মার খেলেই ঠিক হবে। আজ রাজনৌতিক ক্ষমতায় ক্কখমতাবান নিতির ক্ষমতায় নহে।

  5. মেয়ে বড় হচ্ছে
    বড় হচ্ছে নির্লজ্জ অগুনতি চোখ,
    এই শহরের এক দালানে বাস করা আমি
    দালানটিকেও নিরাপদ ভাবতে পারিনা।
    ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে চারদিক,
    বাড়ন্ত আজ হায়েনার থাবা…
    আমি ভয় পাই সমাজকে আগলে নিতে,
    ভয় পাই দুষিত এই সমাজ আকড়ে ধরে বাঁচতে..

মন্তব্য করুন