বিংশ শতাব্দীর প্রেম

ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ নিয়ে মুখে দিতেই মনে হলো, কার যে ব্রাশ !! আব্বা একটা ঝামেলা করেন সবসময়।আমাদের চার ভাইবোনদের জন্য একই রকম ব্রাশ কিনেন।আমরা নামের প্রথম অক্ষর ব্রাশে লিখে রাখি।কিন্তু আজ দেখার সময় নাই! থিসিস পেপার কাল জমা দিতে হবে।।

মা, আসি ——!বলেই দৌড়।রিকশাও পেয়ে গেলাম লাইব্রেরি যাবো।।

আপা হুড তুলমু?

না,থাক!! বিকেলের সোনালি রোদ ভালো লাগছে।

রিকশা চলা শুরু করলো আর আমি বিড়বিড় করে গান ধরলাম।

হঠাৎ ধপ্ করে, কে যেনো আমার পাশে বসলো!

আপনি……..

আমি মৃদুল।।লাইব্রেরী যাচ্ছেন,তাইনা! আমি ও যাবো।।

কিন্তু আমার রিকশায়,এভাবে উঠে পরলেন যে?

আপনাকে সাহায্য করবো,মই দিয়ে উঠে বই নামিয়ে দিবো।একা একা পারবেন না!!

আসলে,আপনি এসব জানলেন কেমনে? আমি কই যাবো? কি করবো ?

মন লাগে মন!! নামেন লাইব্রেরি এসে গেছি!!

আমি ব্যাগ খুলতেই ও ভাড়া মিটায় দিলো।।

তারপর কোন বই নামাতে হবে,কোন লাইন কোথা থেকে লিখতে হবে।ফটাফট বলে যেতে লাগলো।

আমি মনোমুগ্ধ হয়ে কাজ করতে লাগলাম।বিস্ময়ও কাজ করছে।।কাজ শেষ করে উঠতে উঠতে মাগরিব হয়ে গেলো।

মৃদুল,বললো; আপনার সাথে কিছু কথা ছিলো,যদি একটু সময় দিতেন ।।

আমি বললাম দশমিনিট!! চলবে ?

অনেক বেশি।।

হাঁটতে হাঁটতে গাছতলায় আসলাম।।

“দোহাই তোদের এতটুকু চুপ কর,ভালোবাসিবারে দে আমায় অবসর !”

কবিতাটির রচয়িতা কে জানেন?

হুম !!জন ডান! !

আমারও এখন খুব করে ভালোবাসতে ইচ্ছে হচ্ছে।।

আপনার পরিচয়তো পেলামনা !!অথচ মনে হয় আপনি আমায় খুব চেনেন!!

ও গড়গড় করে পরিচয় বললো।আমি মুগ্ধ নয়নে শুনলাম।।বললাম,বাবা শুনলে রাগ করবে।

বাবাকে আমি ম্যানেজ করবো।।তুমি শুধু হ্যাঁ বলো।।

আমি প্রশ্ন করলাম,আপনি কি সত্যিই আমাকে পছন্দ করেন?

করিনা মানে? বলেই একপায়ে দাঁড়িয়ে দেখালো।।

আমি তো হেসেই মরি।।

প্রমিজ কতোটা গাঢ় !!

যতোটা তুমি চাও?

কেমন যেনো ঘোর লাগা মনে হলো।।স্বপ্নের মতো মনে হলো।।

অবাক করে আমিও হ্যাঁ বলে দিলাম।।

আর দিনগুলি আজও তেমনি কাটে……..ভালোলাগায় ,ভালোবাসায়।।কবিতার ছন্দে।।আজ তার জন্মদিন। ।

তার জন্মদিনে আমার এ গল্পটাও হোক উপহার।।

 

মোট পড়েছেনঃ ৯১৯জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৯টি মন্তব্য

  1. অনুভূতির প্রকাশটা চমৎকার হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। যা বলতে চেয়েছেন, সেটা সফলভাবেই বলে ফেলেছেন।

    তবে লেখার ধরণে সমালোচনার সুযোগ থেকে গেছে। আমি নিজে দুর্বল লেখক আর তাছাড়া সোনেলাতে সমালোচনা চর্চার সংস্কৃতিটা সেভাবে নেই, তাই কিছু বলার সাহস পাচ্ছি না।

    ভালবাসা চিরজীবী হোক।

    1. আমার তো সমালোচনা ভালো লাগে।কারণ নিজের লিখার ফাঁকফোকর বেরিয়ে আসে।আমি অপেক্ষায় থাকলাম।
      গল্পটা ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো।

    2. আমরা গল্প বানানো পছন্দ করি, বানাই-ও।
      আপনার সমস্যা কী!! এই বানানো গল্প সত্য ভাবব।
      পাঠক-কে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।
      কী করে বুঝবো, জন্মদিন সত্য!!

  2. গল্পটি একবারেই পড়ে ফেললাম, কোন হোঁচট খাওয়া ছাড়াই।
    এমন গল্প আরো চাই।

    যার জন্মদিন তাঁকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা,
    ভালোবাসার মাঝে রাখুক সে প্রিয়জনকে।

  3. বাহ বা! কি দারুন ভাবে মনের ভাব প্রকাশ করে ফেললেন। ভাইয়ার দেখা পাই, আসল ঘটনা তখন বের করবো।

    সুন্দর অনুভুতি আপু। এমন গল্প আরো চাই। ভালো থাকুক প্রিয়জন।

মন্তব্য করুন