বিংশ শতাব্দীর প্রেম

আরজু মুক্তা ২৮ মে ২০১৯, মঙ্গলবার, ১০:৩৩:৫৪পূর্বাহ্ন গল্প ১৯ মন্তব্য

ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ নিয়ে মুখে দিতেই মনে হলো, কার যে ব্রাশ !! আব্বা একটা ঝামেলা করেন সবসময়।আমাদের চার ভাইবোনদের জন্য একই রকম ব্রাশ কিনেন।আমরা নামের প্রথম অক্ষর ব্রাশে লিখে রাখি।কিন্তু আজ দেখার সময় নাই! থিসিস পেপার কাল জমা দিতে হবে।।

মা, আসি ——!বলেই দৌড়।রিকশাও পেয়ে গেলাম লাইব্রেরি যাবো।।

আপা হুড তুলমু?

না,থাক!! বিকেলের সোনালি রোদ ভালো লাগছে।

রিকশা চলা শুরু করলো আর আমি বিড়বিড় করে গান ধরলাম।

হঠাৎ ধপ্ করে, কে যেনো আমার পাশে বসলো!

আপনি……..

আমি মৃদুল।।লাইব্রেরী যাচ্ছেন,তাইনা! আমি ও যাবো।।

কিন্তু আমার রিকশায়,এভাবে উঠে পরলেন যে?

আপনাকে সাহায্য করবো,মই দিয়ে উঠে বই নামিয়ে দিবো।একা একা পারবেন না!!

আসলে,আপনি এসব জানলেন কেমনে? আমি কই যাবো? কি করবো ?

মন লাগে মন!! নামেন লাইব্রেরি এসে গেছি!!

আমি ব্যাগ খুলতেই ও ভাড়া মিটায় দিলো।।

তারপর কোন বই নামাতে হবে,কোন লাইন কোথা থেকে লিখতে হবে।ফটাফট বলে যেতে লাগলো।

আমি মনোমুগ্ধ হয়ে কাজ করতে লাগলাম।বিস্ময়ও কাজ করছে।।কাজ শেষ করে উঠতে উঠতে মাগরিব হয়ে গেলো।

মৃদুল,বললো; আপনার সাথে কিছু কথা ছিলো,যদি একটু সময় দিতেন ।।

আমি বললাম দশমিনিট!! চলবে ?

অনেক বেশি।।

হাঁটতে হাঁটতে গাছতলায় আসলাম।।

“দোহাই তোদের এতটুকু চুপ কর,ভালোবাসিবারে দে আমায় অবসর !”

কবিতাটির রচয়িতা কে জানেন?

হুম !!জন ডান! !

আমারও এখন খুব করে ভালোবাসতে ইচ্ছে হচ্ছে।।

আপনার পরিচয়তো পেলামনা !!অথচ মনে হয় আপনি আমায় খুব চেনেন!!

ও গড়গড় করে পরিচয় বললো।আমি মুগ্ধ নয়নে শুনলাম।।বললাম,বাবা শুনলে রাগ করবে।

বাবাকে আমি ম্যানেজ করবো।।তুমি শুধু হ্যাঁ বলো।।

আমি প্রশ্ন করলাম,আপনি কি সত্যিই আমাকে পছন্দ করেন?

করিনা মানে? বলেই একপায়ে দাঁড়িয়ে দেখালো।।

আমি তো হেসেই মরি।।

প্রমিজ কতোটা গাঢ় !!

যতোটা তুমি চাও?

কেমন যেনো ঘোর লাগা মনে হলো।।স্বপ্নের মতো মনে হলো।।

অবাক করে আমিও হ্যাঁ বলে দিলাম।।

আর দিনগুলি আজও তেমনি কাটে……..ভালোলাগায় ,ভালোবাসায়।।কবিতার ছন্দে।।আজ তার জন্মদিন। ।

তার জন্মদিনে আমার এ গল্পটাও হোক উপহার।।

 

৮৮৩জন ৭৩৯জন

১৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

মাসের সেরা ব্লগার

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ