লাঞ্ছিত সত্তা

তুমি মা, তুমি মেয়ে, তুমি কারো বোন
তোমা দেহ পেতে চলে তোমারই ভজন –
কেউ বলে সতী নারী, কেউ দয়াবতী
রূপে গুণে তুমি কভু লক্ষ্মী-সরস্বতী |

দেহটি পাইলে পরে
হরষিত প্রফুল্ল মনে
ছিঁড়ে, ফুঁড়ে খায় কুরে, রাখে না মিনতি –
নাথবতীর অনাথবৎ হয় করুণ গতি |

দখলটি গেলে চলে ঘা লাগে পুরুষ মনে
বিক্রম ঝরে পড়ে পুরুষালি আচরণে –
শুরু হয় নারী পূজা চোখা চোখা বিশেষণে
লাঞ্ছনা,গঞ্জনা যত আছে জগতে
বর্ষিত তার প্রতি হয় খুব সহজে |

হায় দেব! পুরুষের একি অধোগতি
নারীকে লজ্জা দিতে নাই তার জুটি
প্রকৃতির লজ্জা করে প্রকৃতি প্রকাশ
ঐ দেখ, বহু দূরে মাথা নোয়ায় আকাশ
দিকচক্রবালে
উন্নত হবে না শির বুঝি কোনো কালে |

 

#* মা, বোন ও কন্যাসম মানবাত্মা যারা তাঁদের স্বামীদের দ্বারা প্রতিনিয়ত নির্যাতিতা তাঁদের উৎসর্গে :-

মোট পড়েছেনঃ ৮৬৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৮টি মন্তব্য

  1. এক বনলতা সেনের ভয়েই ত্রাহি অবস্থা ,
    আপনিও যোগ দিলেন দেখছি , ঘোর কলি কাল বুঝি একেই বলে ।
    বেঘোরে প্রাণটি খুইয়ে না বসি । হে ঈশ্বর ……

    উৎসর্গের জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ ।

    1. বনলতা সেনরা ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন | ওনাদের ভয় পাওয়ার কি আছে ? দু-দণ্ডের শান্তি তো ওখানেই পাওয়া যায় ভাই | মনে করার চেষ্টা করুন, সেই বিখ্যাত শব্দবন্ধ ;- “আমি ক্লান্ত প্রাণ এক চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন ….আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন” |
      সাধারণ মানুষের প্রাণ বেঘোরেই যায় … ও নিয়ে চিন্তিত হয়ে ঈশ্বরবাবুকে ডেকে কালক্ষেপ করার কোনো মানে হয় না | উনি বধির | :p

      অকৃত্তিম মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ |

  2. আমি তো আপনার লেখারই অপেক্ষা করছিলাম ।
    লিখছেন দেখে আনন্দিত ।

    মাইরের উপ্রে ঔষধ নাই ।
    হেভি টাইটের উপ্রে রাখতে হয় ও হবে ।
    নট নরন-চরন এবং হাস-ফাস ।
    চাদুদের ঠান্ডা রাখার মোক্ষম উপায় ।

    বাদর প্রজাতিতে বিশ্বাস নেই এবং লাই দিয়ে মাথায় তোলাও যাবে না ।
    তবে উকুন তোলার কাজ ওদের দিয়ে ই করাতে হবে ।

    হি……হি ।

    আপনি কিন্তু খুব কম লেখেন ।

    1. মারামারিটা কোনো পন্থাই নয় | চাঁদুদের ঠাণ্ডা রাখার সর্বোত্তম উপায় নিয়ে একটা সেমিনার করব ভেবে ছিলাম, কিন্তু ভয়ে পিছিয়ে গেলাম | আমি নিজেই যে একটা চাঁদু :p , ঠাণ্ডা কিনা জানিনা তবে guranteed ভীতু | 😀
      বাঁদরকে বাঁদর বললে কোনো অসুবিধে নেই …. তবে, সাবধান তার প্রজাতিকে কখনই বাঁদর বলবেন না … তারা কিন্তু মানুষের ভাষা বোঝে | উকুন তোলার কাজ তাদের দিয়ে করালে মাথায় উঠবেই … উকুন তো মাথায় থাকে, তাই না ? :D)

      ভালো থাকবেন |

    1. ধন্যবাদ জানবেন |
      সমাজ পাল্টাবেন কি করে ? এ তো হয়ে যুগযুগান্তর ধরে চলে আসছে | এই নিয়েই তো আমাদের গর্ব | বর-রা সেই প্রাচীন কাল থেকেই বর্বর | রামায়ণ, মহাভারতের কথা একবার ভাবুন …. দেখবেন, সেই tradition সমানেই চলছে কোথাও তার পরিবর্ত্তন ঘটে নি |

  3. আর একটু দয়াবতী মায়াবতী না হলে মরুর বুকেও কান্না দেখা দেবে ।
    ভয় হচ্ছে জগৎটা আবার নারিস্থান হয়ে না যায় ।

    হে ঈশ্বর , আপনি বাঁচুন , আর সাথে আমদের ও একটুখানি বাঁচান ।

    1. জগৎটা ‘নারীস্থান’ হওয়াই উচিত ছিল …. দুঃখের বিষয় অনুচিতের ঔদ্ধত্যে উচিত মুহ্যমান |

      আমরা সবাই পণ করেছি মরার পথেই চলব … সেইভাবেই আমরা অবক্ষয়ের পথে ছুটে চলেছি … পরিত্রাণের কোনো উপায় নেই | “অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান “ |

  4. চরম একটা কবিতা লিখেছেন। আমাদের সমাজের অধিকাংশ পুরুষ নারীদের নিজের ভোগ্য পণ্য বানিয়ে রাখে, তাদের ইচ্ছামতো নির্যাতন চালায়। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে সমাজকে, আমাদের নারীদের হতে হবে প্রতিবাদি।

    1. নারীবাদী হবেন না, হোন মানব-বাদী | “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই” – এই চরম সত্য যে দিন প্রতিষ্ঠা পাবে সেদিনই প্রকৃত মানব মুক্তি ঘটবে | আমি নিজে পুরুষ | আমার ক্ষমতা সীমিত | তাই আমি ভবিষ্যত বংশধরকে সুশিক্ষিত করে সমাজ সংস্কারের ভার “মা-কে” নিতে অনুরোধ করছি | মা-ই সন্তানের প্রথম শিক্ষাগুরু |

      প্রতিবাদের ভাষা হোক সুশিক্ষা বিস্তার … হাতিয়ার হোক আন্তরিকতা, অপরাজেয় মনোভাব ও একাগ্রতা |

      শভেচ্ছা সহ আগাম অভিনন্দন |

  5. শেষ কথাটায় একটু আপত্তি আছে। শুধু কি স্বামী কর্তৃক নির্যাতিত।নারী তো তার চারপাশের পুরুষ দের দ্বারাও নির্যাতিত। তারা তো তাদের ধর্ম শিক্ষা আচার দ্বারাও নির্যাতিত।

    1. আপনি নারী নির্যাতনে জড়িত বিভিন্ন agents –দের কথা বলেছেন | আপনার সঙ্গে আমি সহমত পোষণ করি | স্বামীদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ ও তা নিয়ে আলোচনা এই ক্ষুদ্র পরিসরে সম্ভব নয় | পরে কোনো সময় প্রবন্ধ আকারে আলোচনা করার ইচ্ছে রইল |

      মতামত জানানোর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জানবেন |

    1. ভাষাহীন হলে তো চলবে না ভাই …. বাঙময় হতে হবে … নিজের মুক্তির জন্য কাণ্ডারীদের কানে কিছু কথা পৌঁছে দিতেই হবে |

      ধন্যবাদ |

মন্তব্য করুন