আজ আমার জন্মদিন

সেই আমি আর এই আমি
সেই আমি আর এই আমি

জন্মদিন নিয়ে হইচই কোনকালেই ছিলো না আমাদের বাসায়। মনে পড়ে না ছেলেবেলায় কখনো জন্মদিনের কেক কেটে পার্টি করেছি বলে। অনেক বছর এমন হয়েছে, দিনটি মনেই থাকতো না, হয়তো ৫/৬ তারিখ হয়ে গেলে মনে হতো, হায় হায় জন্মদিন চলে গেলো। খুব বেশি হলে আম্মা বলতেন বিকেলে খেলা শেষে বন্ধুদের বাসায় ডেকে নিয়ে আসতে, তখন হয়তো তাদের মিষ্ট, চানাচুর, পিঠা, কলা এসব খাইয়ে আমার জন্মদিন পালন হতো অথবা বাসায় একবেলা ভালো ভালো খাবার রান্না হতো জন্মদিন উপলক্ষে।

বড় হবার পর আমার প্রথম জন্মদিনের কেক আসে মাত্র কয়েকবছর আগে। আমার ছোট ভাই সেদিন বাইরে থেকে ফেরার পথে নিয়ে এসেছিলো। আমরা ভাইবোন মিলে সন্ধ্যাতেই কেক কেটে খেয়ে ফেললাম J তারপর আরেক ফ্যাসাদ ফেসবুক। না চাইলেও সবাইকে মনে করিয়ে দেয় যে আজ আমার জন্মদিন। চাকরিতে যোগ দেয়ার পর ফেসবুক দেখে কখনো কখনো সহকর্মিরা নিজ হাতে কেক বানিয়ে আনে। ফেসবুকের দেয়াল ভেসে যায় শুভেচ্ছায় শুভেচ্ছায়। এসব দেখে চাহিদা বাড়তে থাকে। প্রিয় মানুষেরা কে কার আগে উইশ করবে। কেউ কি ভুলে গেলো? কেউ ভুলে গেলে সে কি ঝগড়া। তবে বেশিরভাগ সময়ই যাদের উইশ এর মুল্য চড়া তারা উইশ করতে ভুলেই যান। শত উইশের ভীড়ে সেসব উইশ খুঁজে বেড়ায় চোখ। কখনো কখনো কেউ বলে, ‘উইশের কি দরকার? জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভালো”। (তখন যে তারে কি করতে মনে চায় কি বলবো  :@ )

এখন আর জন্মদিন আনন্দের মনে হয় না। উইশ আসতে থাকে একের পর এক। আর আমি ভাবি জীবন থেকে আরও একটি বছর হারিয়ে গেলো। বুড়ো হবার সকল উপসর্গ দেখা দিতে থাকে একের পর এক। আর প্রতিবছর আমার জন্মদিন আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কাউন্ট ডাউন শুরু হয়েছে। কবে শেষ আমি তার কিছুই জানি না।

মোট পড়েছেনঃ ২,৪৯০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৩টি মন্তব্য

  1. জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
    আসলে সময়ের তোড়ে অনেক কিছুই ভেসে গেলেও বিশেষ দিনটি আমরা ভুলি না,
    আপনি বুড়ি হলেন কবে থেকে!!

    1. শুভেচ্ছার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। বিশেষ দিনগুলোতে এখন মন খারাপ হয়। বয়স বেড়ে যাচ্ছে। বুড়ি থুত্থুড়ি হয়ে গেলাম তবুও দেখছেন না? চোখের ডাক্তার দেখান শিগগির।

  2. জন্মদিন আসলে মনে করিয়ে দেয় একদা আমি জন্মেছিলাম।
    ছোট বেলার ছবি আর বড় বেলার ছবির মুখ প্রায় একই, পিচ্চি জান্নাতকে দেখে মজাই পেলাম।

    ফেইসবুকের জন্মদিনের শুভেচ্ছা আমার কাছে কোন শুভেচ্ছাই না,
    নোটিশ দেখে জন্মদিনের শুভেচ্ছা,
    তবে শুভেচ্ছা পেতে ভালই লাগে, ওয়ালে শুভেচ্ছার বন্যা। এর ৯৫% শুভেচ্ছাকারীকে চিনিই না, সেও আমাকে চেনে না।

    শুভ জন্মদিন -{@
    ভাল থাকুন সমস্ত বছর।

  3. নিহারীকা আপু ইস দেরী হয়ে গেলো শুভেচ্ছা জানাতে। 🙁
    আমি যে কি না! শুভ জন্মদিন আপু।
    আচ্ছা বুড়ী হলে ছোটবেলার আর এইবেলার মুখটা একইরকম কেন? একটু তো বদলানোর কথা!

    আমি জন্মদিনে অনেক মজা করি। নতূন আরেকটা বছর। আরোও কিছু অভিজ্ঞতা।
    আনন্দ করুন কারণ আজকের দিনই আমাদের থাকে। -{@

    1. মন্তব্য পড়ে অনেক হাসলাম। কিন্ত এ বছর আমার জন্মদিনের আগে আগেই খুব কাছের একজন আত্নীয়ের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে কেমন যেন অসহায় বোধ করছিলাম। সেদিনই তাঁর বাড়িতে কয়েকদিন কাটানোর পর আমাদের বাসায় ফিরে আসি সন্ধ্যায়। কোন আনন্দ ছিলো না মনে। তবুও এ দিনটি ভুলতে চাইনি তাই এই পোস্ট।
      সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ আপা। -{@

      1. নিহারীকা আপা আসলে অনেক কঠিন মেনে নেয়া নিজের জন্মদিনের দিন কাছের কারো মৃত্যু।
        তবুও মেনে নিতে হয়। ভালো থাকুন অনেক। -{@

  4. জন্মদিনের শুভেচ্ছা দেরিতে দেওয়ারও একটা মজা আছে😝 যেমন মুই দিলাম😝।
    স্যরিইইই।
    শুভেচ্ছা পেতে সত্যিই খুব ভাল লাগে।
    ভাল থাকুন আপু।

  5. আপু জন্মদিনটায় যখন সবাই উইশ করে খুব ভালো লাগে,
    মনে হয় এই একটি দিন শুধুই আমার…
    অনেক ভালো থাকুন..শুভেচ্ছা রইল!!!

মন্তব্য করুন