যা যা আছে আমার

কি কি আছে আমার...
কি কি আছে আমার…

তুমি জানতে চাইছো আমার কাছে কি কি আছে, যা তোমার কাছে নেই!
শোনো,
মনের খুব গহীনে একটি গোপন জলপ্রপাত আছে আমার
রাত্রির অন্ধকারে জেগে ওঠে, আর;
চৈত্রের রোদে পুড়ে, শীতের শুষ্কতাতেও ঝরে যেতে চায়,
কিন্তু বোকা বোঝেনা, এ কি সম্ভব!

আমার এই চোখের ভেতর একটি গভীর কূয়ো আছে,
বৃষ্টিতে ভিঁজে, বিদ্যুতের চমকে কোনো অবস্থাতেই উছলে পড়েনা
তাই অন্য কোনো চোখ দেখতে পায়না কিছুতেই।

তোলপাড় করা নীল সমুদ্রের বুকে আমার একটি আধ নিমগ্ন দ্বীপ আছে,
ভাটার টানে ভেসে যায়, জোয়ারে স্থির!

উপুড় হয়ে থাকা একটা খুব ছোট্ট, একান্ত নিজের আকাশ আছে আমার;
সেখানে বিভিন্ন রঙের মেঘেদের বাস,
বাতাসের তোড়ে কখনো উড়ে যায় দূরে বহুদূরে—

এছাড়া আমার কাছে পোড়া মাটির একটা পুতুল আছে,
যেমন ইচ্ছে তেমন করেই খেলা করা যায়, কিচ্ছুটি বলেনা।

ওই জলপ্রপাত, কূয়ো, দ্বীপ, আকাশ, পুতুলের মালিকানা সব আমারই নামে
অথচ আমি-ই কেবল আমার নই!
হাসছো?
হাসবেই তো!!
একান্ত আপন করে রাখা হাসিগুলো তোমাকে যে দিয়ে ফেলেছি সব!

হ্যামিল্টন, কানাডা
৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং।

মোট পড়েছেনঃ ৬৬০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২২টি মন্তব্য

  1. এত্ত কিছু আছে তা কিন্তু আমারা জানতেই পারিনি,
    অবশ্য জেনেই বা কি হবে!!
    সবই তো উজার করে দিয়ে ফেলেছেন!

    মনে রং ধরানো কবিতা মনে হয় অনেক দিন পরে পড়লাম,
    বাহ্‌ বেশ বেশ, বসন্ত এসেই পড়েছে দেখছি,
    অকালে!!

    1. হাসির ব্যাপারে আমি কিপ্টুস না। দাঁত কেলিয়ে না রাখলেও হাসিখানা থোবড়ার সাথে একেবারে পাকাপাকিভাবে বসে গেছে।
      সমস্যা হলো মেজাজ গরম হলেও কেউ পাত্তা দেয়না। আর মন খারাপ বলে কিছু যে আছে, সেটা কেউ মানতেই চায়না। ;(
      কুবিরাজ ভাই এই সমস্যার সমাধান আছে আপনার কাছে? 🙁

      বসন্ত কারে কয়! এখন তো ভালুবাসার দিবস মানে ভুলু ডে পালন করা হয়। 😀

    1. আমার নানা আছে না, ছিনতাইকারীর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য?
      কিসের আর চিন্তা!
      আমি নাকে সরিষার তেল দিয়া ঘুমাই। কেমন? :p 😀

      ভালো থাকো আমার ভালুবাসার মানুষ। -{@

  2. তোমার অনেক কিছু আঁছে কিন্তু অহংকার নেই।
    আমার কিছু নেই ,শুধু অহংকার আছে । অহংকারের এই হারজিৎ খেলায়
    দুজন দুজনকে হারিয়ে ফেলেছি।
    এ আমিও তো কবিতা লিখে ফেললাম নীলা আপু \|/
    ভাললাগা রইলো কবিতায়।

    1. ওয়াওওওওওওওওওও!!!
      মিষ্টি আপু সত্যি বলছি দারুণ লিখেছো। ইস তোমার এই তিনটি লাইন কেন আমার মনে আসলোনা? 🙁

      অনেক অনেক ভালো থেকো।
      আর নতূন লেখা দাও।

  3. সব দিয়ে ফেললে সারাক্ষন হি হি করে হাসো কী করে? তখন বুঝি তার কাছ থেকেই ধার করে নাও?
    তুমিই তোমার নও ঠিক আছে, হাসি দাও সেও ঠিক আছে তবু নিজেকে দিওনা কাউকে, যদিও ব্যক্তির কোন মালিকানা হয়না। ভাল্লাগছে ম্যালা, লুমান্টিক কবিতা ভালো পাই যে 🙂

    1. হাসি আমার এতো বেশী পরিমাণে আছে, শেষ হবার নয়।
      আমারে আর কে নিবে? যা ঝঞ্ঝাট একটা আমি, তরুণ বেচারার জন্য মাঝে-মধ্যে বড়ো কষ্ট হয়।
      বিয়ের পরে বলেছিলাম শোনো আমার উপর রাগ করোনা কখনো, তাহলে কিন্তু আমি আরো বেশী জ্বালাবো।
      আমি বড়োই লুমান্টিক। কি শরমের কথা, তাই না? ইস শরমের ইমু নাই ক্যান? এইটা একটা হইলো কিছু? ^:^

      ও তিলোত্তমা একটা লেখা দাওনা গো প্লিজ। -{@ (3

  4. ওই জলপ্রপাত, কূয়ো, দ্বীপ, আকাশ, পুতুলের মালিকানা সব আমারই নামে
    অথচ আমি-ই কেবল আমার নই!
    হাসছো?
    হাসবেই তো!!
    একান্ত আপন করে রাখা হাসিগুলো তোমাকে যে দিয়ে ফেলেছি সব!
    কবিতার সব অর্থ এক সাথে শেষ লাইনগুলোতে খুব সুন্দর করেই উপস্থাপন করেছেন।এবার আপনাকে কবি আপু না বললে ভুল হবে। -{@

    1. মনির ভাই এভাবে বলবেন না। এমনিতেই সবাই ক্ষেপায় আমাকে। এখন যদি আপনিও আমায় অমন করে বলেন, তাহলে কোথায় যাবো? এখানে লজ্জ্বার ইমোও তো নেই যে মুখ লুকাবো! 🙂

      ভালো থাকুন।
      ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্যে। -{@

মন্তব্য করুন