স্বত্বা

আদতে আত্মহত্যার মধ্যে তেমন কিছুই নেই।
যা আছে তা হল কৃচ্ছসাধন, জীবনের উপর কৃচ্ছসাধন মাত্র!
এর চাইতে ঢের ভাল কোরবানি দেওয়া; ভালবেসে।

মূলত ভালবাসাতেও কিছু নেই।
মূল যা তা হল ভালবাসার নামে শরীরের বিকিকিনি, মন সেখানে আধার মাত্র!
এর চাইতে ঢের উপযোগী হচ্ছে লিখে যাওয়া; মানুষকে নিয়ে।

সর্বোপরি লেখকেরও কোন কৃচ্ছতা নেই।
মোটে দু’টি চোখ; দু’টি কান আর দু”টি হাত দিয়ে উপলব্দি করা!
এ হচ্ছে এক মনে বহুমনগামী স্বত্বার পরিচয়, কিছুতেই তৃপ্ত হয় না।

মোট পড়েছেনঃ ৮৬৮জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৫৮টি মন্তব্য

    1. কিন্তু এই স্বতাকেই ভুলভাবে নেয় অনেকেই। কেউ অধিকার ফলায় আবার কেউ অনধিকারের চর্চায়। কেউ সভ্যতায় তো কেউ আবার সুবিধায়…

      ধন্যবাদ হেলাল ভাইয়া। 😀 -{@

    1. শুনেছি কবিরা ভবিষ্যৎ প্রবক্তা হন। নিজেদের কবিতায় আগত, অনাগত সকল কথা বলে যান ছন্দে তালে। প্রায় সব কবিদের কবিতাতেই দর্শনের দর্শন মিলে। মাঝে মাঝে তাঁদের অনুসরণ করার চেষ্টা করে দেখি আর কি :p

      ধন্যবাদ জিসান ভাইয়া 😀

  1. লেখকদের নিয়ে একটা পোষ্ট করেছিলাম প্রথম দিকে। দূর্ভাগ্যবশত লেখাটা ব্লগে নাই, থাকলে পুরুটাই কমেন্টস করে দিতাম।

  2. আসলে কিসে যে কি আছে, আর কিসে কিছু নেই তাই তো জানিনা।অবুঝ মানুষ এসব না জেনেই একসময় মরে যায়।আর এসব ভেবে নীতেশ দার মত কিছু লেখক বলে যান।লেখা ভালো হয়েছে।

    1. মানুষের সীমাবদ্ধতা আছে কিন্তু কোথায় সেই সীমারেখা তা মানুষ নিজেই জানে না। এইজন্যই আমরা বোধহয় মানুষ!

      লেখক তো দূর, আপনার মতো রম্য লেখকের পাঠক হতে পারাটাই সৌভাগ্য যা ইদানীং ভাগ্যাকাশে মরুভূমি হয়ে দেখা দিয়েছে… আর কত অপেক্ষা করাবেন সজু বাইয়াআআআ :@

    1. এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে- :p শেষ প্যারাকে প্রথম প্যারা আর প্রথম প্যারাকে শেষ প্যারা ভেবে মাঝের প্যারা ঠিক রেখে পড়লেই উত্তর পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ শেষ থেকে শুরু!

      খুবই আনন্দিত হচ্ছি প্রশ্নটি করেছেন দেখে। আমি মাঝে মাঝে লিখতে গিয়ে দেখি যা ভেবেছি তা শেষ থেকে পড়লে দুই রকম মানে চলে আসে। অনেকের লেখাই এভাবে পড়ী মাঝে মধ্যে আমি। আর নিজেও সব সময় উল্টপথে ভাবি বলেই হয়তো :p

    1. এই ‘বহুমনগামী’ শব্দটি বের করতে আমার মাথার ভেতরে সাইক্লোন বয়ে গিয়েছে যাতে সেই চিরায়ত নেতিবাচক ‘বহুগামী’ শব্দের সাথে মিলে না যায় :p

      কৃন্তনিকাপু ‘বাহ্‌’ বলা মানেই অনেক কিছু… আপনার গল্প মিস করছি ভীষণ… 🙁

  3. নীতেশ দা, সামনে এখন আপনি থাকলে, চায়ের কাপ এবং সিগারেটে জমতো বেশ। বেশি মজা পেত কেউ পাশে থাকলে। কিন্তু ঐ যে এক যাওগায় গিয়ে থেমে যাই আমি যখন বুঝি অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা এবং সময়ে আমরা সবাই আলাদা; এবং আমরা আলাদাকরে দেখতেই পারি। এটাই স্বাভাবিক।
    ভাল থাকবেন নীতেশ দা। এতো ন্যাংটো করে না ভাবাই বোধহয় ভাল।

    1. আহা জমতো বেশ 😀

      সব কিছুতেই আমরা আলাদা কিন্তু মনের খোঁজে সবাই এক, শুধুমাত্র নিজের মতো করে দেখার চেষ্টা করি।

      ন্যাংটো করতে পারলাম আর কই! মানুষের মনের গতি আর মতি বুঝা বড় দায় গো অরন্য ভায়া -{@

  4. শব্দ ব্যবহারে আপনার পারঙ্গমতার আভাস পেলাম। কিছু দারুণ সুবিধা লেখকরা পান সেটাই আনন্দের।
    আপনি কবি। দেখবেন আমাকে বিপদে ফেলবেন না। একটু কম কম বুঝি।

    1. শব্দের ব্যবহার নিয়ে জীর্নদশায় আছি বুনোপু! সীমিত শব্দ জানি বলেই অনেক কথাই বলা হয় না, পারি না। টুকটাক কিছু শব্দ খুঁজতে আমাকে ডীকশনারি, গুগল এইসবের দ্বারস্থ হতে হয় নিয়মিত 🙁

      লেখকের যা সুবিধে তাই সবচাইতে বড়ো দূর্নাম গো আপু, বড্ড দুর্নাম 🙁

      আমি কবি না, কিছুতেই না।

      তবে হ্যাঁ, শব্দে আমি যে কাউকেই বিপদে ফেলতে পারি যদি সে আমার সীমানায় চলে আসে, আর তা কোন সম্বোধনেই হোক না কেন :p 😀

  5. আসলে কি নীতেশ দা যে লেখাকে যে ভালাবাসে সে না লিখে থাকতেই পারেনা | লেখা থেমে গেলে প্রাণ থেমে যায় | ভাল নাইবা বাসতে পারলাম তারচে ভাল লিখে লিখেই মরি 🙂

    1. আসলে যে লিখে সে ভালবেসে লিখে, যে ভালবেসে লিখে সে সাদা মনের ভালবাসাতেই লিখে, তা নাহলে অন্য মনে ভালবেসে লিখলে তাকেই থেমে যেতে হয় অচিরেই।

      অতএব, আসুন সাদা মনে আপনার মতো লিখেই মরি \|/

      প্রত্যাবর্তন চিরস্থায়ী হোক। -{@ (অন্তর্জাল ফুল) :p

  6. মন কি? অনুভব করে কি পাওয়া যায়? কোথায় থাকে মন? সত্ত্বা মানেই কি মন?
    একেবারে থমকে গেলাম
    “এর চাইতে ঢের উপযোগী লিখে যাওয়া।” ঠিক খুব সত্যি। তবে লেখার আধার যা-ই হোক না কেন সত্ত্বায় থেকেই যায় ভালোবাসা। ভালোবাসা ছাড়া লেখা যায়না।
    শেষ লাইনটা “বহুমনগামী স্বত্বার পরিচয়, কিছুতেই তৃপ্ত হয় না।” এর মধ্যে এই গানটাই বারবার আসছে। “যেভাবেই তুমি সকাল দেখো, সূর্য কিন্তু একটাই। যতো ভাগে ভাগ করোনা প্রেম, হৃদয় কিন্তু একটাই…” -{@

    https://www.youtube.com/watch?v=RYAFQH99C4I

    1. মানুষের মন এতোই বিশাল যে মনের জন্মলগ্ন থেকেই সে সবাইকে ঠাইঁ দেয়, ভালবাসে। একেকজনের জন্য একেক রকম করে। একজন মানুষ অনেকবার প্রেমে পড়ে, অনেককেই ভালবাসে। -{@

  7. কিছুতেই কিছু থাকেনা, তার মানে কি শূণ্য সব? আমরা যা পাই মনে করি পেয়েছি, আসলে সেসব তাহলে পাওয়া নয়? কবি/লেখকই জানেন তার উত্তর। এখন বুঝতে পারছি কিছুটা কবি-সত্ত্বার আবেগ। ভাগ্যিস পাঠক হয়ে আছি! 🙂

    1. ব্যাপারটি আসলেই গোলেমেলে। এক মানুষের এক মনে বহু প্রাণের অস্তিত্ব থাকে। কিন্তু সবাই বলে এক মন, এক প্রেম, এক ভালবাসা। অথচ নানান নামে, পরিচয়ে, কায়াতে, ছায়াতে মানুষ ভালবাসে। আর লেখক মাত্রই মানুষের মন থেকে মনে ঘুরেন তাঁর লেখায়… সেও এক রকমের ভালবাসা… উপরে লেখাটিকে শেষ থেকে শুরু করলে নিচের মতোই দেখায়ঃ

      সর্বোপরি লেখকেরও কোন কৃচ্ছতা নেই।
      মোটে দু’টি চোখ; দু’টি কান আর দু”টি হাত দিয়ে উপলব্দি করা!
      এ হচ্ছে এক মনে বহুমনগামী স্বত্বার পরিচয়, কিছুতেই তৃপ্ত হয় না।

      আদতে আত্মহত্যার মধ্যে তেমন কিছুই নেই।
      যা আছে তা হল কৃচ্ছসাধন, জীবনের উপর কৃচ্ছসাধন মাত্র!
      এর চাইতে ঢের ভাল কোরবানি দেওয়া; ভালবেসে।

      মূলত ভালবাসাতেও কিছু নেই।
      মূল যা তা হল ভালবাসার নামে শরীরের বিকিকিনি, মন সেখানে আধার মাত্র!
      এর চাইতে ঢের উপযোগী হচ্ছে লিখে যাওয়া; মানুষকে নিয়ে।

      পাঠক হয়ে আছি বলেই এখনো ভাবতে পারি… 😀

  8. এক মনে বহুমনগামী স্বত্বা— আদোতে তৃপ্তি বলেই কিছু নেই, ঐ মাটির কলসের জলটুকু ছাড়া।
    এতো ভাবিস নাকি রে? লেখা পাল্লাতে তুলেছি, বাটখাড়া কম পড়ছে দাদাভাই। অসাধারন লিখেছিস।
    লেখক তার ভালোবাসাতেই আত্ম্রহত্যা করে তৃপ্তি পায়, মে বি। জানিনা, লেখক রা জানে।

মন্তব্য করুন