মৃত মানুষের দিনলিপি

গোলাপ কুঁড়ি,
কেমন আছ তুমি?
এই বিষাক্ত বাতাস ফুঁড়ে
প্রতি ভোরে আমার জানালায়
তোমার ফুরফুরে হাসি আর দেখিনা!

গোলাপ কুঁড়ি,
কোথায় আছ তুমি?
জন্মান্তরের তেপান্তর পার হয়ে,
এই নিষিদ্ধ বিষুবীয় প্রান্তে এসেও
তোমার টকটকে লাল আর খুঁজে পাইনা!

গোলাপ কুঁড়ি,
জানো? আমি একদম ভাল নেই!
ভেতরে ভেতরে বয়ে বেড়াই তাপ্পি মারা
অবাধ্য শিরা-ধমনীর দুর্বোধ্য জট।
প্রখর রৌদ্রেও শীতল শবদেহ নিয়ে,
হেঁটে বেড়াই একদল যন্ত্রমানবের ভীড়ে।
চেনামুখগুলো চিনিনা আজকাল! তবু,
দেখা হলে হাসি, কুশলও জানতে চাই!

অথচ এরকমটি হওয়ার কথা ছিলনা!
ইচ্ছে ছিল রোদ্দুরের গান মেখে গায়ে,
হেঁটে যাবো মেঘ বিছানো পথে!
প্রতিটা অমল ভোরের মুখে চুমু খেয়ে,
রাত্রির দরোজা থেকে নেব বিদায়!
একটা বিকেল পায়ে এসে পড়বে,
ঘাসফুলের রিমঝিম বৃষ্টি নিয়ে!

এসবের কিছুই হলোনা গোলাপ কুঁড়ি!
এখন আমার মৃত্যু আসে প্রতিদিন,
মুখোশের পেছনের ক্ষুধার্ত অন্ধকারে!

মোট পড়েছেনঃ ৭৯১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৪টি মন্তব্য

  1. খুব ভালো লাগলো লেখাটি।
    বেশি ভালো লাগলো এই দুই লাইন…
    “ইচ্ছে ছিল রোদ্দুরের গান মেখে গায়ে,
    হেঁটে যাবো মেঘ বিছানো পথে!” (y) 🙂

মন্তব্য করুন