সহযাত্রী
অনেক দিন পর আমার শরীরের রক্তকনা গুলো হিম শীতল হয়ে জমাট বাধলো । মানুষের জীবনে বাস্তবতা যে কি গুরুত্ববহন করে তা আজ জানাতে পারলাম । সময়ের সাথে স্বপ্নগুলো চোখের পলকে কিভাবে মিশে যায় । আমি যেন তার রাজসাক্ষী ।
**
মনটা অনেক খারাপ । কিন্তু সব সময়ের মত না । অল্প সময়ে একজনের মানুষের সাথে পরিচয় হয় । যে মানুষটার সাথে ৫ দিন পাশাপাশি বেড এ কাটিয়েছি । সে মিষ্টি মানুষটা প্রচন্ড মিস করছি ।
*
*
এই তো কয়েক মাস আগে আমি সুস্থ একজন মানুষের তালিকায় ছিলাম । হঠাৎ করে নিজেকে ধীরে ধীরে অসুস্থ অনুভব করতে থাকি ।অসুস্থ হওয়ার পর মানষিক দিক থেকে ভেঙ্গে পরে ছিলাম । অনেক ডাক্তার দেখালাম কিন্তু কেউ রোগটা ধরতে পারেনি । অবশেষে এপোলো হসপিটালে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষা করার পর ডাক্তার আমার বাবাকে বলল ব্রেইন ক্যানসার । ভালো হওয়ার চান্স ৫০% । খবরটা ফেসবুকে ছড়িয়ে পরতেই অনেকের অনেক কথা , মন্তব্য ও কেউ কেউ বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল । প্রথম প্রথম সবাই খোজ খবর নিত । কিন্তু আস্তে আস্তে সবাই ভুলে গেছে ।
**
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাই । মাউন্ট এলিজাবেথ এ এডমিট করা হয় । আমার বেড এর পাশে একজনকে আবিষ্কার করলাম । ছেলে সব সময় চুপচাপ থাকতো । মাঝে মাঝে দু একজন এসে তার সাথে দেখা করে যেত । একদিন না যেতেই তার সাথে বন্ধুত্ব করে ফেললাম । প্রতিদিন সারারাত জেগে কথা বলতাম জিসান ভাইয়ের সাথে । ছেলেটার নাম জিসান । একবছর হলো এম.বি .এ করে চাকুরী নামক সোনার হরিনের পেছনে ছুট ছিলেন । অবশেষে বাইংহাউজের খুব ভালো বেতনের একটা চাকুরী পেয়েছিলেন । কিন্তু ডাক্টার এর একটি রিপোটের্র জিসান ভাই জীবনের সব কিছু পাল্টে যায় ।
*
*
পর দিন ডাক্টার এর দেয়া টেষ্টগুলো করিয়ে যখন বেডে ফিরছিলাম । বেডে ঢুকতেই দেখলা পরীর মত একটা সুন্দরী মেয়ে জিসান ভাই এর হাত ধরে কান্না করছে । আমিতো অবাক !
আমি বেডে ঢুকতেই মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল । আমি নির্বাক হয়ে জিসান ভাই এর দিকে তাকিয়ে ছিলাম ।
লোকটার চোখে যেন ভালোবাসা এক জ্বলন্ত প্রদিপ দেখতে পেয়েছিলাম ।
**
দুই দিনের মাথা আমাদের সর্ম্পক আরো এগিয়ে যায় । তার সর্ম্পকে কিছু জানতে চেষ্ঠা করি । কিন্তু পারি না।
*
*
একদিন রাতে জিসান ভাই বলল আবির চল একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি । আমি বললাম কিভাবে সম্ভব । আপনার তো শরীর প্রচন্ড খারাপ । জিসান ভাই বলল যাবি কিনা বল ?
আমি কোন কথা না বলে জিসান ভাইয়ের পথ অনুসরন করতে লাগলাম । জিসান ভাই রিসিপসনে কি যেন বলল তাতেই কাজ হল । নিচে নেমে একটা দোকানে বসে কফি খেলাম । কফি খেতে খেতে জিসান ভাই বলল জানিস আবির মেয়েটা না আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে । আজ প্রায় ৬ বছর ধরে আমাদের রিলেশন । বন্ধুদের দেখছি গালফেন্ড এর সাথে কথা কাটাকাটি , ব্রেকআপ হয় । কিন্তু আমাদের মাঝে তা আজ পযর্ন্ত হয়নি । ভেবে ছিলাম কিছু দিনের মধ্যে ছোট্ট একটা বাসা নিবো তারপর মেয়েটাকে বিয়ে করবো । আমাদের ছোট একটা পরিবার হবে । মনে হয় আমার স্বপ্নগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে ।
**
জিসান ভাইয়ের কথাগুলো শুনে খুব কান্না পাচ্ছিল । মনে মনে বলছিলাম আল্লাহ তুমি আমাকে নিয়ে যাও কিন্তু জিসান ভাইকে সুস্থ করে দাও । তারপর হসপিটালে ফিরে যাই । বাকি দু দিন জিসান ভাই সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারেছিলাম । আমাকেও ডাক্তার বললেন কেমোথেরাপি দিলে ভালো হয়ে যাবো । তাই ফিরে আসতে হয়েছিল । আসার আগে জিসান ভাই আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল । জিসান ভাইকে কথা দিয়েছিলাম । আবার আসলে তার সাথে দেখা করবো ।
**
ঈদের আগে ব্যবসার কাজে সিঙ্গাপুর গিয়ে ছিলাম । জিসান ভাই এর কথা মনে হতেই তার সাথে দেখা করতে ছুটে গিয়ে ছিলাম । কিন্তু মানুষটাকে আর খুজে পাইনি । হসপিটালে খোজ করে জানতে পারি জিসান ভাই হারিয়ে গেছে না ফেরার দেশে । মানুষটার স্বপ্ন ভরা চোখ দুটো এখনো আমার দু চোখের ভাসে । যেন মনে হয় এই তো সেদিন একই পথের সহযাত্রী ছিলাম . . . .
(উৎসর্গঃ জিসান ভাইকে )
লিখাঃ ছন্নছাড়া বেনজামিন আবির
এটি কি সত্য ঘটনা? এরকম কঠিন সত্য মন খারাপ করে দেয়, কিন্তু কিছুই করবার নেই।
আপনাকে স্বাগতম জানাচ্ছি সোনেলায়। লেখার হাত ভালো আপনার প্রথম লেখাতেই বুঝতে পারছি। হাসি, আনন্দ, কস্ট সবকিছু শেয়ার করুন।
বিভাগ নির্বাচনের সময় এটিকে একান্ত অনুভূতি বিভাগে রাখতে হবে।
শুভকামনা।
hmmmm sotti
বাস্তবতা টা গল্পকাহিনীর চাইতেও নির্মম হয়। মন খারাপ হয়ে গেল।
ata bastobota
কিছু মানুষ স্বপ্নগুলো সাথে নিয়েই হারিয়ে যায়–আপনার সহযাত্রী অন্য জগতে ভালো থাকুক এই দোয়ায় করি…
hmmmmm
সোনেলায় স্বাগতম -{@
মন খারাপ হয়ে গেল জিসান ভাইয়ের কথা পড়ে
কিছু মানুষ এমনি হয়েই জন্মায়,যাদের স্বপ্ন পুরন হয়না কোনদিন।
ভালো লিখেছেন
নিয়মিত লেখুন।
sotti manushta odvut siloo
কষ্টের লেখা।মন খারাপ হয়ে গেল।
amar o jisan vi ar kotha mone porle mon kharap hoy