তখন মিরপুর থেকে আজিমপুর এসে যেয়ে ক্লাস করি। থাকি মামা’র বাসায় পাঁচতলায়। একতলায় ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ুয়া এক ছেলে থাকে। চলনে নিতান্তই সাদামাটা, পোশাকে আদ্যিকালের। সে-ও থাকে তার মামা’র বাসায়। বলা যায়, আমরা দু’জনই আমাদের মামা’দের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা ! 🙂
বিকেলে নায়ক অহেতুক হাওয়া খেতে বের হয়। ঘাড় বাকা করে কারনে অকারনে উপরে তাকায়। আমি গা’য়ে অনাবশ্যক বৈকালিক হাওয়া লাগাতে বারান্দায় আসি। ঘাড় নুইয়ে কারনে অকারনে নিচে তাকাই। :p এরই মাঝে হলে সিট পেয়ে যাই। পড়াশুনার চাপে নায়ক সমাচার ভুলে যাই। পড়ার চাপেও ঠিক নয়… চোখের আড়াল হলে মনের আড়াল হওয়া টাইপের ব্যাপার হবে হয়তো ! মাঝে ২/১ দিন জরুরী তলব দরকার হলে মামী নায়ককে দিয়ে খবর পাঠায়। ভার্সিটি’তে আসা-যাওয়ার পথে ইডেন হয়ে খবরটা দিয়ে যান তিনি অচেনা মানুষের মতন নীরবে। পাঁচদিন হলে, আর ছুটির দুইদিন মামা খালা’র বাসায় বেড়ানো__ সময়গুলো চমৎকার কাটে।
একদিন “সন্ধানী” আসে ইডেনে। সবার দেখাদেখি আমিও স্বেচ্ছায় রক্তদান করি। পরের দু’দিন বন্ধ,বিধায় সেদিনই রওয়ানা দেই মামার বাসার উদ্দেশ্যে। বাড়ির একতলার সিঁড়ি পর্যন্ত গিয়েই জ্ঞান হারাই। নায়কের মামী আমার মামী’কে খবর পাঠায়। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসে মামী। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি নায়কের মামার বাসায় ! অনেকগুলো উৎসুক মুখ আমার দিকে চেয়ে। আহা ! সেই সময়টাতে শিয়রে নায়কের দেখা মিলতো যদি, তবে এমন বারংবার রক্ত দিতে, জ্ঞান হারাতে আপত্তি ছিল না ! :p
অদ্ভুত নিষ্ঠুর নিয়তি…
দুর্দান্ত রঙবেরঙের দিন…
রঙবেরঙের স্বপ্ন___ ক্যামন নিঃশব্দে হারায়, হায় !
দারুণ স্মৃতি! দারুণ লেখা! দারুণ আক্ষেপ!
“আমরা দু’জনই আমাদের মামা’দের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা !” – আমাকে নিয়ে গেল আমার ছোটবেলায়।
আমরা অনেকেই কিন্তু আমাদের মামা’দের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা হয়েছি কোন এক সময়। তাই নয় কি ?
আমিও হয়েছি অনেকের অনাকাঙ্খিত ঝামেলা। তাই মনে পড়ল।
দারুন স্মৃতি !! তা এখন সেই নায়কের খবার কী !!
নাকি মনের কষ্টে নায়ক এখন বনবাসে !!!
ভাল লাগলো পড়ে ——
সেই নায়ক তো কবেই হারিয়েছে কালের স্রোতে … হঠাৎ মনে পড়লো, তাই সবার সাথে শেয়ার করলাম সবার সাথে। 🙂 🙂
আপু কত সুন্দর করে লিখে ফেলেন আপনি।এমন নায়ক তো আমাদের প্রায় সবার থাকে,কিন্তু আপনার মত এমন কজনা লিখতে পারি?
এমন নায়ক একটি নয়, একাধিক আসে আর যায় জীবনে। কেউ হারায় ,কেউ মনের কোনে পদচিহ্ন রেখে যায়।
আপু কী দারুন ভাবে চেনা গল্পটাই অসাধারন করে বলেছেন…।
দৃষ্টি বিনিময় পর্যন্তই সেই নায়কের গল্পের পরিসমাপ্তি ঘটে । 🙂
কত মানুষ যে এমনি করে হারিয়ে যায় 🙁 কেমন করে লেখেন এমন লেখা? (y)
আরেকটি গল্প শুনাবো সময় সুযোগ মত। -{@
আপেনি লিখালিখি অব্যাহত রাখবেন আশা করি জনাবা রিমি রুম্মনি। কারনটা না বলে অদ্য প্রকাশিত “প্রথম আলো” পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখার বিষয় বলি।
সকালে প্রড়ছি, নাম মনে নেই। শুধু বিষয়টা হচ্ছে, সাবেক হয়ে-যাওয়া এক ছাত্রী তার এক পুরষ্কার-প্রাপ্তি অনুষ্ঠানে বলছেন, তিনি দেশের জন্য কাজ করে যাবেন। এটা শুধু কথার কথা নয় তাঁর, আক্ষরিক অর্থেই তিনি দেশের কাজ করে যাবেন। কারন এই দেশের প্রতি তিনি তাঁর একধরনের ঋণ আছে বলে মনে করেন এবং এই দেশকে তিনি ভালও বাসেন।
আপনার বীরাঙ্গনা দুই বোন সম্পর্কিত লিখা দেশে মনে হয়েছে, আপনিও সেরকম। আপনাদের লেখালেখি থেকে কমপক্ষে প্রেরণা পাবে মানুষ দেশপ্রেমের।
আপনার মন্তব্যে অনুপ্রানিত হলাম, উৎসাহিত হলাম। চেষ্টা করবো লিখে যেতে । ভাল থাকুন।
২/৩টি বানান ভুল হয়ে গেছে, আমি অনুতপ্ত।
টাইপিং এ টুকটাক ভুল আমাদের সবারই হয়।
আপু কত সহজ ভাবে বলে ফেললেন প্রায় সবার না বলা কথা। অনেক অনেক অনেক ভালো লেগেছে।
সবারই এমন ঘটনা ২/৪ টি আছে ফেলে আসা জীবনে। আসুন আমরা স্মৃতিচারন করি :p
হারায়নি তো, আপনি ঠিকই ধরে রেখেছেন। কত অজানা।
হঠাৎ মনের কোনে উঁকি দেয়া আর ধরে রাখা যদি এক হয়, তাহলে না হয় ধরেই রাখলাম :p
সুন্দর,কোমল লেখা ইহাকেই বলা হয়।
কত মুখ যে হারিয়ে যায়
তবে মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে মুখ গুলো, একেবারে হারায় না 🙂
এরা না হারালেই ভাল। মাঝে মধ্যে স্মৃতিচারন___ মন্দ নাহ্ !
আহা , ছেলেটা থেকে লোকটা হবার দিনগুলা মনে করায়ে দিলেন 🙂
কোথায় হারিয়ে গেলো সোনালী বিকেলগুলো সেই…
খুব অন্যায় করেছেন। এখন খোঁজ নিয়ে কথা বলুন।
এই শেষ কালে আর খোঁজ নিয়ে কি হপে গো !!
আহা সেই সব দিন। কিভাবে হারিয়ে যায় এরা?ভালো লিখেছেন আপু।
ভাল থাকুন। শুভকামনা।
দুর্দান্ত রঙবেরঙের দিন (y)
কারণে অকারণে কেউ ঘাড় বাঁকা করে আর কেউ ঘাড় নুইয়ে দেখাদেখির পর্বটা দারুন (y)
এমন ঘটনা সবারই আছে । নয় কি ? মাঝে মাঝে স্মৃতিচারণ __ মন্দ নয়।
এ তো আমারই কথা বলে দিলেন রিমি 🙂
আহা, এটি আপনার, আমার, আমাদের সকলের কথা 😀
🙂 🙂 🙂
🙂 🙂 🙂