পাত্রী চাই

একজন বিবাহ ইচ্ছুক পাত্রের জন্য প্রতিষ্ঠিত পাত্রী চাই। চাকুরীজীবি পাত্রী অগ্রাধিকার পাবে। পাত্রীর উচ্চতা পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চির  নীচে কাম্য নয়। তবে সরকারী চাকরিজিবিদের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যেতে পারে।

পাত্র দেখতে সুন্দর। উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। টান টান মেদহীন শরীর।হরিণের মত মায়াময় চোখ।কমলার কোয়ার মত ঠোঁট। ক্যাট ওয়াকে সে অত্যন্ত হ্যান্ডসাম।দাঁত মুক্তোর মত ঝক্‌ঝকে। পাত্র পছন্দের সময়ে সে দাঁত দেখাতে প্রস্তুত।হেটে দেখাবে কত স্মার্টলি সে হাটতে পারে।আসল ঘন চুল, টান দিয়ে দেখা যাবে পরচুলা কিনা।

পাত্র গৃহ কর্মে পারদর্শি। সম্পূর্ণ বেকার। সাংসারিক সমস্ত কাজ সম্পাদনে তার তুলনা নেই।রান্না বান্না,অথিতি আপ্যায়ন, বাসা সুনিপুণ ভাবে গুছিয়ে রাখা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে করতে সক্ষম।বেবি কেয়ারেও স্ত্রীর চিন্তা করতে হবেনা।রাত জেগে বেবীর ওয়া ওয়া সামলানো, ফিডার খাওয়ানো,ন্যাপকিন পাল্টানো অন্য কারো তুলনায় সে ভালোই পারবে।

স্ত্রী অসুস্থ হলে সারাক্ষণ সে পাশে বসে থাকবে।মাথা ব্যাথা করলে মাথা টিপে দিবে, হাত পা কামড়ালে হাত পা টিপে দিবে। স্ত্রী অফিসে যাবার পূর্বে তার ড্রেস বের করে দিবে। তার পূর্বে সকালের নাস্তা রেডি করে রাখবে। দু- একদিন চা ভালো না হলে ঝাড়ি খেতেও রাজী সে। রান্নায় লবন কম/বেশি হলে স্ত্রীর বকা খাবে হাসি মুখে।

বাসার সমস্ত বাজার সে করবে। বেবিদের স্কুলের ড্রেস পরিয়ে স্কুলে দিয়ে আসবে। স্ত্রী মাস শেষে সংসার খরচের জন্য যে টাকা দিবে,তা দিয়েই সুচারু রূপে সংসার পরিচালনা করবে।

স্ত্রী তার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলে তাতে সে আপত্তি করবেনা। আড্ডার জন্য চা নাস্তা আনন্দের সাথে তৈরী করে দিবে। স্ত্রীর ফেইসবুক আইডির দিকে সে ভুলেও তাকাবে না। ফেবু বন্ধুদের সাথে স্ত্রী যতক্ষণ ইচ্ছে চ্যাট করবে। অধিক রাত পর্যন্ত সে বেডে স্ত্রী ভক্ত স্বামী হিসেবে অপেক্ষা করবে।হয়ত অপেক্ষা করতে করতে সে ঘুমিয়ে পড়বে, কিন্তু স্ত্রী আসা মাত্র সে জেগে উঠবে এবং স্ত্রী চাহিবা মাত্র সে ঘুমে অচেতন থাকলেও স্ত্রীর হক আদায় করবে।

এমন আদর্শ একজন পাত্রকে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে? পাত্র যে বুড়ো হয়ে যাচ্ছে।পাত্রের  বাবা মা ইদানিং প্রায়ই  আক্ষেপ করেন,পাত্র বুড়ো হয়ে যাচ্ছে,এখনো তার কোন গতি হলোনা।পুত্র দায় গ্রস্থ পিতা মাতার কষ্টে পাত্র এখন সব সময় মন খারাপ করে বসে থাকে।অপেক্ষা করে কবে আসবে তার স্বপ্নের রাজকুমারী 🙁

আমি বলতে চাইনা পাত্র সোনেলা ব্লগে ব্লগার সজীব নামে ব্লগিং করে।

 

মনে হতে পারে এটি ফান পোষ্ট।উল্টোটা ভাবুন।এভাবেই তো ভাবি আমরা।এভাবেই তো একজন স্ত্রী চাই। পুরুষের ক্ষেত্রে যদি এটি ফান মনে হয়, নারীদের ক্ষেত্রে কেন ফান হবে না?

উৎসর্গ – সকল নির্যাতিতা নারীদেরকে, যারা যুগ যুগ ধরে নির্যাতিতা হতে হতে এমন অন্যায়কে স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছেন।

 

মোট পড়েছেনঃ ১,০৮৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৬৩টি মন্তব্য

  1. আর অপেক্ষা করতে হবে না সজীব ভাই এই বার হগ্গল পাত্রী আইসা লাইন ধরবো, আপনে কইলে বিজ্ঞাপনটা বড় কইরা বিলবোর্ডে লাগাই দেই। তবে এই পাত্রের কপালে বিয়া আছে কিনা আগে কোনো জোতিষীরে হাত দেখান। অনেকে বলে মাথায় নাকি বিয়ে দেখা যায় আপ্নেও দেইখা লন।

  2. খুব মজা পাচ্ছিলাম পড়ে।পাত্রী খুঁজে পান এই কামনা করি।সজীব ভাইয়ার জীবনে এসে পড়ুক তার রাজকুমারী -{@

    উৎসর্গের পূর্বের দুই লাইনে এসে চাবুকের আঘাত পেলাম।

  3. চ্যাংগোর ব্লগার সজীবের কাছ থেকে এমন কঠিন সত্যি তুলে দেয়ার পোস্ট দেখে খুশি হলাম (চ্যাংগোর কিন্তু আমি বলিনাই, আরেকজন বলছে)।
    কে কবে ঠিক করে দিয়েছে দুজনের এমন কাজ ভাগাভাগি জানা নেই। আমাদের মাথার মধ্যে সেই আদি ধ্যান ধারণা যেন গেঁথে আছে। পরিবর্তন হয়নি তা নয়, মেয়েদের বিয়ের আগে এভাবে যাচাই খুব কমই হয় তবে সংসারে ছেলেদের হেল্প করা সেই আগের মতোই। বেবিদের কেয়ারে যদি পুরুষরা আসে, তবে পরিবারের অন্য নারী দের মধ্যেই ফুসুর ফাসুর শুরু হয়ে যায়। মনমানসিকতায় কতো পিছিয়ে আছি তা বাইরের এসমস্ত দেশে আসলে বোঝা যায়।
    পড়তে পড়তে এমনি মনে হচ্ছিল যে পাত্রী কি আসবে না বিদায় হবে।
    শ্রদ্ধা ব্লগার সজীবকে এমন পোস্টের জন্যে। খোলসের আড়াল থেকে যেন বের হয়ে আসছেন। ভালো থাকুন।

    1. ব্লগার সজীবকে কেন চ্যাংগোর বলেছি, এবার আশাকরি বুঝেছেন শুন্য শুন্যালয়।
      আর এক চ্যাংগোর হচ্ছেন ছোট বেলার সাঈদ মিলটন 🙂

    2. চ্যাংগোর মানে কি আপু? খারাপ কিছু নয়তো? 🙁
      কখন থেকে যে স্বামী স্ত্রীদের কাজের এমন ভাগা ভাগি হলো জানিনা।এই ভাগাভাগি আমরা আমাদের দেশে কঠিন ভাবে মানি।’ বেবিদের কেয়ারে যদি পুরুষরা আসে, তবে পরিবারের অন্য নারী দের মধ্যেই ফুসুর ফাসুর শুরু হয়ে যায়।’ আপনি সত্যি বলেছেন,এই অভিজ্ঞতা আমারো আছে।বিদেশে স্বামী স্ত্রী একে অপরকে সহায়তা করেন।আমরা বিদেশ থেকে ভালো কিছু নিয়ে আসি না, খারাপটাকেই নিয়ে আসি।
      প্রশংসা কি একটু বেশী হয়ে গেলো না আপু? ধন্যবাদ আপনাকে।

      1. আহা জিসান ভাই আপনি আবার যেচে কেনো বলতে এলেন আপনি বলেছেন? মনের মধ্যে একটু উসখুস থাকতো তার, কে বলছে তাকে চ্যাংগোর? কই লাড়কি তো নেহি? 😛
        আমিও তো এর মানে জানিনা। বলেন জিসান ভাই এর মানে কি।

  4. পাত্রী চাই এর এরচেয়ে ভালো বিজ্ঞাপন কিন্তু হয়না। এবার দেখবেন লাইন লেগে যাবে মেয়েদের। এবছরই দোকা হতে যাচ্ছেন ইনশাল্লাহ। শুভ কামনা। ভাবির আইডি আগে থেকেই ঠিক করে ফেলুন।

  5. পাত্র উপযুক্ততা প্রমাণের পুল-সুরত পেরোতে সমর্থ হয়েছে। পাত্র ব্লগার শুনে যারপর নাই
    আনন্দিত, ভাগ্য ভাল সে নাসায় চাকুরী নেয় নাই। তার সাফল্যের মনবাঞ্ছা পূরণের মনস্তুষ্টি দেখার অপেক্ষা করছি।

  6. শিষ্য এই পোষ্ট টাকে আমি ফান পোষ্টই মনে করলাম আর খুব হাসলাম। একটা চরম বিজ্ঞপ্তি সাথে কিছু চরম কন্ডিশন।

    আসবে আসবে তোমার রাজকুমারী আসবে। (y)

  7. অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়ে আসছে সজীব ভাই এই বার পাত্রীরা সব লাইন ধরবো সিউর ।যেভাবে বিজ্ঞাপনটা দিছেন আশা করি পাত্রীরা আপনেরে নিরাশ করবো না ।

  8. এই বিজ্ঞাপনে অবিবাহিতাদের চেয়ে বিবাহিতারাই (বাচ্চাওয়ালি, ডিভোর্সড, প্ল্যানিং ফর সেপারেশন) বেশি সাড়া দেবে বলে মনে হচ্ছে। আগে ঠিক করুন আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কারা? অবিবাহিতারা হলে একটু ভেবে কিছু পরিবর্তন আনা দরকার বিজ্ঞাপনটিতে। 🙂

      1. ভাই সজীব, গণ টার্গেট ভাল হয় না সাধারনত। এ সবেও সেগমেন্টকে আলাদা করতে পারলে ভাল। আমি যতটুকু মেয়েদের বুঝি মেয়েরা বিয়ের পরে বিড়াল চায় ঠিকই, কিন্তু যাকে বিয়ে করবে তার ঠিক সিংহ হওয়া চাই বিয়ের আগে। বিড়ালপিয়াসীদের জন্য বেশি শব্দ বরাদ্দ করেছেন, তাই আমার ও মন্তব্য। এখন মনে হচ্ছে ইচ্ছে করেই তা হয়তো করেছেন আপনি, যার নমুনা রেখেছেন লেখাটি উৎসর্গ করতে গিয়ে।

  9. চ্যাংগোর !!!!!! শব্দটি চমৎকার লেগেছে । পাত্রর রূপ লাবণ্য তো ভালোই আছে । আপনি কোন কোম্পানির প্রসাধনী ব্যবহার করেন ?

  10. এত গুন ব্লগার সজীবের?
    পাত্রী খুঁজতে থাকা দরকার এখন বুঝতে পারছি।
    পাত্র দায়গ্রস্থ মাতা পিতার চিন্তা দূর করতেই হয় এবার।

    মজাটা শেষে এসে ধাক্কা খেলো (y)

  11. হাহাহা। :D)
    সজীব ভাই আপনার পোস্ট পড়ে হাসতে হাসতে শেষ!!
    পুত্রদায়গ্রস্ত পিতা-মাতার উপর আসলেই আপনি এক বিরাট “বোঝা’ তা বোঝা গেল!! :p

    তবে আপনার মত করে সত্যিই যদি সবাই ভাবতো!!আসলেই তো ছেলেমেয়ের কাজ ভাগ কে করে দিয়েছে?
    “উৎসর্গঃ সকল নির্যাতিতা নারীদেরকে, যারা যুগ যুগ ধরে নির্যাতিতা হতে হতে এমন অন্যায়কে স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছেন।”- এমন করে সত্যিই খুব বেশি পুরুষ ভাবে বলে মনে হয় না।
    এমন অসাধারন ভাবনার জন্য আপনাকে স্যালুট। (y)
    আর বিয়ে করলে দাওয়াত দিতে ভুইলেন না যেন… 🙂

    1. জি আপু আমি এক বোঝা, দোয়া করবেন 🙂 আপনাকেও ধন্যবাদ আপু,ফানের মাঝের মূল বক্তব্যটি ধরতে পেরেছেন বলে। দাওয়াত তো দেয়া হবেই,নিশ্চিন্ত থাকুন :p

  12. চমৎকার লেগেছে, শেষের কথাটা খুবই ভালো বলেছেন। আসলেই তো, একজন পুরুষের জন্য যদি বিষয়গুলো হাস্যকর হতে পারে, তাহলে নারীদের বেলায় কেন সেই একই বিষয়গুলো গুরুত্ববহ হবে !! নারী পুরুষের ভেদাভেদ মুক্ত হোক সমাজ, দিনশেষে আমরা সবাই যেন মানুষ হয়ে উঠি।

  13. সকল মন্তব্য এবং পুনঃমন্তব্য বিবেচনা করিয়া এই সিদ্ধান্তে উপনিত হইলাম যে, চ্যাংগোর যতই সিরিয়াস টাইপের লেখুক সবাই তাকে চ্যাংগোর হিসাবেই নেবে কিংবা নিতে পছন্দ করে। সো স্যাড :p
    সারাশব্দ দুইজনরে একসাথে চাইলে হপে না, একজনরে চান।

    1. এবার চ্যাঙ্গোর শব্দের অর্থ মনে হয় বুঝতে পেরেছি।অতএব সিরিয়াস টাইপের লেখা বাদ 🙂
      একজনকে বলতে চাই আপু,তবে হিম্মত পাচ্ছিনা :p

  14. সজীব ভাইয়া আপনি তো আদর্শ পাত্র, এমন পাত্র এই বিশ্বে আর আছে কিনা সন্দেহ আছে? এই পোষ্ট টা দুই মাস আগে দিলেও পারতেন ভাইয়া। এমন স্ত্রী অন্ত প্রান স্বামী মিস করলাম :p

        1. ওহ যাক বাবা!
          আমি ভাবলাম,আমাদের উৎসব কন্যার বিয়ের উৎসবে সোনেলা মাতবে না,তা কি করে সম্ভব!!
          আপু খবরটা দিবেন কিন্তু সোনেলায় সাতদিন ব্যাপী সানাই বাজবে। 😀

    1. আগে বলবেন না? এখন তো পোষ্ট পড়া শেষ সবার।প্রথমে যৌথ পোষ্ট দিলে সবাই জানতো।চিন্তা করবেননা ভাই।আবার দেবো আপডেট 😀

  15. হ্যা আমি শো পিস নই। হেটে হেসে কেদে নেচে দেখাতে হবে। কোনভাবেই এ নিয়ম কে
    স্বাভাবিক মেনে নেইনি :@
    আপনাকে ধন্যবাদ এ জায়গায় নিজেকে রেখে চিন্তা করায় :c

    1. আমার ব্লগে স্বাগতম আপনাকে আপু।সোনেলায় আজকে প্রথম দেখলাম আপনাকে।কোনভাবেই শো পিস হওয়া চলবেনা। এটি একটি অমানবিক নিয়ম,প্রথা।ধন্যবাদ আপু।

মন্তব্য করুন