বাতাসে আজও বুলেটের গন্ধ

ফিরে আসেনি তোমাতে আমাতে যে লুকোচুরি ছিলো একদিন। যে অপেক্ষা ছিলো দুপুরের, চোখ পালিয়ে সবার, তোমার চোখ বেঁধে দেয়া হাতে, বলতো আমি কে? ফিরে আসেনি সেই সে অপেক্ষা আর কোনদিন। ফেলে গেলে একদিন, যেদিন আমার হাতে ছিলো কলা পাতায় মুড়নো একটি বুলেট। সুমন, আমি গন্ধ পাচ্ছি বাতাসে, হারানোর গন্ধ। তুমি কেমন ভিরু হয়ে কিছুক্ষণ লেপ্টে থাকলে গায়ে। আমি যুদ্ধে যেতে চাইনা মিরু, যাবোনা আমি। দুজনই চুপচাপ ফিরে এসেছি, পেছন ফিরে দেখেছি কি দেখিনি আজ তো মনে পরেনা।
সুমন কে আর দেখা হয়নি। পারেনি সে, যা কেউ পারেনি। তাজা বারুদের গন্ধ সেঁটে গায়ে কেউ পায়নি বাতাসে ধুপের গন্ধ।
আমি মিরু, আজো বাঁচিয়ে রেখেছি সুমন কে। যে যা হারিয়েছে সেদিন পাথরের স্মৃতিসৌধে খোঁজেনা তারা ফেলে যাওয়া কান্না। রক্ত আর কান্নায় মিশে যাওয়া বুকে সুমনরা হারিয়ে যাবে কেমন করে? প্রতিরাত কেঁটেছে যে সম্ভ্রমহীনতার আতংকে, বুলেট আতংকে, তোমাকে ফিরে পাবার আকাংখা সেখানে নিতান্তই তুচ্ছ ছিলো। শুধু তারপর–আজও  নিশ্চিন্ত ঘুমে  সেই ঘুম পাড়িয়ে দেয়া তুমি আছো ঘুমপাড়ানি সৌধ হয়ে।

মোট পড়েছেনঃ ৮১৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৪টি মন্তব্য

  1. আজও মিরু আছে, সুমনরা তাই বেঁচে আছে। যেদিন মিরুরা থাকবেনা সেদিন সুমনরা শুধুই থাকবে পাথরের সৌধ হয়ে। আমাদের জন্য নিশ্চিন্ত ঘুম এনে দেয়া সব সুমন, মিরুদের স্যালুট। সেই সময়ের প্রতিটা মানুষই যুদ্ধ করেছে।

  2. টাচি লেখা, ভালো লেগেছে। সাথে মনে হচ্ছে সেই বীরদের আত্মত্যাগের কথা, সময় বহমান তবে সেই মহানদের ভুলতে পারবে না কেউ যারা বিন্দুমাত্র হলেও দেশকে ভালবাসে। লেখাটিকে এ-বুকে নেয়ার জন্য সম্পাদকের নিকট আবেদন জানাচ্ছি।

    লেখা ভালো লেগেছে অনেক, শুভকামনা মিথুন আপনার জন্য।

    1. ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া। ই-বুকের জন্য সাজেস্ট করছেন, এজন্য আরো ধন্যবাদ। সম্পাদক কে, তাইতো জানিনা। লেখা যাক বা না যাক, ই-বুকের সাফল্য কামনা করছি———-

      1. মিষ্টি খাওয়ানোর ভয়ে লুকানোর চেষ্টা করছেন কিছু বুঝতে পারছি! সম্পাদক সাহেব কে জানি না তবে উনি জলজ্যান্ত আপনার নাম তুলে দিয়েছেন তা কিন্তু দেখতে পাচ্ছি। এইবার মিষ্টি খাওয়ান।

  3. মিরু সুমনরা বেঁচে থাকবে অনন্ত কাল।মিরুরা বলে যাবে সুমনদের কথা আমাদের,আমরা বলে যাবো পরবর্তি প্রজন্মের কাছে। ভালো লিখেছেন আপু।

  4. আপনার লেখা ! না না ,আপনার হতেই পারে না।
    নিয়মিত লিখতে শুরু করুণ। আর লিখে রেখে ভাগলে হবে না।
    লুতুপুতু থেকে বেরিয়ে এসে এক লেখাতেই কিস্তি মাত অবস্থা।
    দারুণ লিখেছেন আপনি।

    1. ভেগে গেলেও ফিরে আসবো, নিশ্চয়তা দিচ্ছি। লুতুপুতু লেখা থেকে বেরিয়ে এসে, হুম বুঝে গেছি; যাক তবু এ লেখাটি ভালো লেগেছে 🙂
      ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া —————–

  5. আপু সত্যি বলতে লেখালেখির অভ্যাস আমার নেই, এই সোনেলাতেই যা লিখি, তাই হজবরল র বেশি কিছু হয়ে ওঠে না। লেখাটি ভালো লেগেছে বলে খুশি হলাম, ধন্যবাদ জানবেন———-

    1. আপনি বুঝি বিশ্বভ্রমনে বের হয়েছিলেন? এতদিন পর!! সুমন, মিরুরা হারাবেনা কোনদিন, বেঁচে থাকবেই তারা আমাদের মাঝে। আপনিও যে অনেক কিছু লিখতে পারেন তা বের হচ্ছে ধিরে ধিরে। ধন্যবাদ আপনাকে স্যার। (3

মন্তব্য করুন