সমাধান কোথায় ???

সমাধান কোথায় ???

কিছু দিন আগে মিরপুরের বিহারী পল্লীতে দশ জন কে পুড়িয়ে মারা হয়েছে , এর মাঝে শিশু ও আছে ।

ফেবু সহ বিভিন্ন সামাজিক ওয়েব সাইটে দেখা যাচ্ছে কেউ মানবতার পক্ষে বলছেন ওদের উপর নির্যাতন করা ঠিক হয়নি । যদিও এই বিহারী রা একাত্তরের যুদ্ধে র সময় ব্যাপক ভাবে বাঙ্গালিদের উপর অত্যাচার চালায় ।

তারপরও কি সেই যুদ্ধকালীন সময় সময় বিবেচনায় ওদের উপর অত্যাচার করা বৈধ হবে ? একটা নিরাপরাধ শিশু জাতীয়তাবোধের কি বোঝে?

তাকে পুড়িয়ে মারা কতটুকু সমর্থন যোগ্য??

অনেকে হয়ত বলবেন যুদ্ধের সময় তো ওরা আমাদের শিশু বুড়ো কাউকে বাদ দেয়নি তাহলে আমরা কেন ছাড় দেব??

কথায় কিছুটা যুক্তি আছে । আবার এটাও বুঝতে হবে তখন ছিল যুদ্ধ কালীন সময় তখন কার আইন আর এখন কার আইন সমান নয় ।

শিশু নির্যাতন তারাও কম করেনি তাই তাদের শিশুদেরও নির্যাতন ভোগ করতে হবে । একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যদি উত্তরাধীকার সুত্রে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করে তাহলে একজন যুদ্ধ অপরাধী র সন্তান কেন শাস্তি ভোগ করবে না ।

সেই যুক্তিতে বিহারী শিশু পুড়িয়ে মারা দোষের কিছু নয় ।

এভাবে যুক্তি পাল্টা যুক্তি দিয়ে অনেক কিছুই বোঝা বা বোঝানো সম্ভব ।

কিন্তু বাস্তবিক অর্থে একবার ভাবুন তো জাতীয়তাবোধের আড়ালে আমাদের মনুষ্যত্ববোধ ঢাকা পড়ে যাচ্ছে না তো !!!

ধর্ম আর জাতীয়তার প্রেমে আমরা মনুষ্যজাতী বিভক্ত হয়ে পড়ছি

সৃষ্টির সেরা জীব হয়ে একে অপর কে হত্যা করে আনন্দ লাভ করছি ।

এই সংঘাতময় অবস্থার শেষ কোথায় ?

মোট পড়েছেনঃ ৭৪৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১২টি মন্তব্য

  1. মানুস হিসেবে তাদের বাচার অধিকার আছে তারা যখন এদেশের নাগরিক হয়েগেছে,
    মানবতা বধ দিয়ে তাদের সাহায্য দরকার।

    কিন্তু যখন বিগত ত্বত্বাব্ধায়ক সরকার নাগরিক দিল তখনই ঘটকা লেগেছে কি করল? এর মাশুল দিবে আওয়ামিলীগ আর সুবিধা নেবে বিএনপি।

    ভাল লিখেছেন ।

  2. ধর্ম আর জাতীয়তার প্রেম প্রোয়জন আছে তবে আমরা মানুষ জাতি হিসেবে মনুষত্বের প্রাধান্য দেওয়া উচিত। মনুষত্ব না থাকলে ধর্ম আর জাতীয়তার সঠিক ব্যবহার কিভাবে করবো?

  3. এর কোন উত্তর নেই তবে ওরা এখনও বাংলাদেশী হতে পারেনি।ওদের চাল চলননে কিংবা মিশলে কথায় বুঝা যায় ওরা এখনও পাকি তবে যে কোন হত্যাই নিন্দনীয় বিশেষ করে শিশুদের জন্য মায়া হয়।

  4. যখন এদেরকে রেখে দেয়া হয়েছিল এদেশে, কোন যুক্তিতে? শুধু এরা কেনো, এদেশে বসে এখনো অন্য দেশের জন্য কান্না করার লোক অনেক আছে, সব গুলোর বিচার হোক। তবে এভাবে পুড়িয়ে নয়।

  5. আপনার বক্তব্যের সাথে আমি সম্পুর্ন একমত। অন্য ভাষাভাষী মানুষের উপর অশ্রদ্ধা বোধ কেন জানি আমাদের আছে। এটা উচিত নয়। সমাজে মারামারি-হানাহানি না হওয়ার স্বার্থেই প্রতিটি ভাষার মানুষকে সহনশীল হতে হয়।
    ধন্যবাদ আপনাকে ভাল এই পোস্টটি প্রদানের জন্য।

মন্তব্য করুন