উত্তর এবং প্রত্যুত্তর : তিরি এবং অহম……নবম ভাগ

 

বন্ধু মানেই এলিয়ে দেয়া নিরাপত্তার নিঃশ্বাস…


একত্রিশ – তিরির প্রতি

“মারকাট” বসটা আমাকে বড়ো জ্বালায় । দিল্লীর কাজ শেষ হতেই বললাম আমি বাংলাদেশে যেতে চাই , দেবে কয়েকদিনের ছুটি ? বললো দেখার মতো কি আছে ওখানে ? বললাম সারা পৃথিবীতে একমাত্র ম্যানগ্রোভ অঞ্চল সুন্দরবন , দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত আছে । আমি তো জানি তার প্রিয় কি ! ব্যাটা সমুদ্র-স্নান পছন্দ করে । বললো ঠিক আছে আমিও যাবো । ভালো কথা তুই যাবি , যা । আমায় বলে “অহাম তুমিও যাবে ।” কি যে করি ! অবশেষে বুদ্ধি এমন অসুস্থতার ভাণ ধরলাম ঢাকায় এসেই । তোর জন্যে এতো মিথ্যে বলতে হলো আমাকে । প্রিয়কে বললাম তোর জন্মদিনের ভোরে আমাকে নিতে আসতে । তুই বদলাসনি । রিনীর বাসায় সেদিন বেশ মজা হয়েছিলো , তাই না ? আমি দেশে , এই খবর শুনে উচ্ছ্বাস ফোনও দিয়েছিলো , তোকে বলিনি । ওই যে বেশ জমজমাট আড্ডা ঘরোয়া রেষ্টুরেন্টে , একটা ফোন এলো । আমি উঠে বাইরে গেলাম । উচ্ছ্বাস এসে দেখা করলো । আমায় বললো ওর বাসায় যেতে । যদিও ভালো করেই জানে কোনোদিনও যাবোনা । তারপর জিজ্ঞাসা করলো তুই সুখী তো ? বললাম ভাগ্য ভালো প্রিয়’র সাথে তিরির বিয়ে হয়েছিলো । তা নইলে আজ ওর হাসি খুঁজতে যেতে হতো অতীতের ভেতরে । চলে গেলো । মন খারাপ করিয়ে দিলাম বুঝি তোর ? প্রথম প্রেম বলে কথা !

তোর অহম

বত্রিশ – অহমের প্রতি

শোন তুই না বললেও আমি তোকে বুঝি । এতোদিনেও আমাকে চিনলিনা ? ধুর মন খারাপ হবে তাও ওই কুকুরটার জন্যে ? কাল জানিস প্রিয় কি করলো ? একটা ফোন এলো , কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো কথা নেই । ফাজিলটা এসে বললো কার ফোন ? আমি বললাম কেউ কথা তো বলছেনা । দেখো তো ! বলে কোনো নতূন প্রেমিক নাকি ? এরপর তো হা-হুতাশ বাংলা সিনেমার নায়িকার মতো । “আমার কি হবে গো ? ও বৌ তুমি আমায় ছেড়ে চলে যেওনা । আমি বিধব হয়ে যাবো”, কথা বলে বলে একেবারে আমার কোলে উঠে বসে । উফ ! মেজাজ চরমে উঠলো । ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দোতলায় গিয়ে দেখি বেডরুম থেকে ইন্টারকমে ফোন দিয়ে রেখেছিলো । চিন্তা কর কি শয়তান ! অহম সত্যি বলছি রে খুব কম মেয়ে এতো সুন্দর জীবন পায় । প্রিয় আর তুই আমার জীবনটাকে শূণ্য হতে দিসনি । অনেক ভালোবাসি তোদের ।

তোর তিরি

তেত্রিশ – তিরির প্রতি

হাসতে হাসতে পেটে তো খিল ধরিয়ে দিলি । “মারকাট” আমার হাসি শুনে দৌঁড়ে এলো । সে তো অবাক আমি কি পাগল হয়ে গেলাম ? জানতে চাইলো কি ঘটনা । লোকটাকে আমি হাসতে খুব কমই দেখেছি । সাক্ষাৎ “রামগরুড়ের ছানা” ব্যাটা । বললাম ওটাকে , শুনে এমন হাসলো । অফিসের সকলেই ছুটে এলো । সঙ্গে সঙ্গে হাসি গায়েব । আর সকলেই যার যার ডেস্কে । প্রিয়কে বলিস “মারকাটে”র কথা । ও দেখেছে , জানেও তাকে । এমন আরোও কিছু ঘটনা যেনো ঘটায় , যাতে “রামগরুড়ের ছানা” হাসতে পারে ।

তোর অহম

চৌত্রিশ – অহমের প্রতি

আকাশের কলসী ভেঙ্গে ঝড়ছে জল
নাম যে তার বৃষ্টি
রোদ্দুর আজ মেঘের বুকে
ক্লান্তির ঘুম ভিঁজছে কেবল মাটি ।
অহম তোকে একটা খবর দেবো । কিন্তু কি করে যে বলি ! বহু বছর পরে লিখলাম এই চারটি লাইন । বুঝে নিস ।

তোর তিরি

ক্রমশ প্রকাশ্য
হ্যামিল্টন , কানাডা
৯ আগষ্ট , ২০১৩ ইং ।

মোট পড়েছেনঃ ৬৬০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২০টি মন্তব্য

    1. সবই প্রকাশ্য হবে । তবে কিছু মতামত চাই , এই সম্পর্কটাকে কোথায় , কিভাবে এবং কেমন দেখতে চায় মন ? জানতে পারলে ভালো লাগতো আমার… 🙂

    1. সুন্দর করে উপস্থাপন কোথায়…আসলে যে চোখ এই লেখাটি পড়ছে , আর যে সুন্দর মন লেখাটিকে আপন করে নিয়েছে , তার কারণেই তো সবকিছুকে সুন্দর লাগছে… -{@ 🙂

    1. হায় হায় হিংসে ! তাও এমন লেখাকে !! ডাকলেই চলে আসবো…আমি কাউকে আমার অভাব পেতে দেইনা যে…এই যে চলে এলাম অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও… 🙂

  1. নীলাদি , আপনার প্রতিটি লেখাই অফ লাইনে পড়েছি । বন্ধুত্বের বন্ধন এবং সুন্দর সম্পর্ককে দেখিয়ে দিচ্ছেন দুজনের চিঠির মাঝে । (y) (y) অহন তিরি ভালো থাকুক ।

    1. চিঠিটা থেমে গেলো । নাহ থামিয়ে দিতে চাইনি । লেখার পুরো ফাইলটা মুঁছে গেছে ল্যাপটপ থেকে । জানিনা কিভাবে লিখবো , আর লেখা আসবে কিনা । যাক অশেষ ধন্যবাদ ।

মন্তব্য করুন