জিরাফ

তর্কালংকারের তর্কের ঝড়
সাপের মতো প্যাঁচে শিশুতোষ পা দুটি নিয়েছিল বেঁধে!
ধারাপাতে নামতার সিঁড়ি দিয়েছিল দুহাতে ধরিয়ে,
কয়েক হাজার লাইনের শর্তাবলী!  
গ্যালারির দর্শক কেবল তখন হাততালি দিয়ে বলেছিল,
এইবার শিশু তুমি কচি পাতাদের মতো উঠো বেড়ে!                   

আমিতো উঠেছি বেড়ে ঠেলে আকন্ঠ জঞ্জাল আপ্রাণ,
তবে আমি ঠিক গাছেদের মতো হতে পারিনি!
শুনি গাছেরা বলাবলি করে আমার পাতায় নাকি চোখ,
কান্ডের ভিতর ভীষণ বিষাদ! খুবই অবৃক্ষসুলভ ব্যাপার!
তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে অবলীলায়
বারংবার!

শুনি মানুষেরা বলে আমি নাকি হয়েছি বেশ অদ্ভুত,
ঠিক তাদের মতো নই!
যদিও চার হাত পা চতুর্দিকে বেশরম ঝুলে থাকে,
তবুও কোথাও কি যেন নেই মস্তিষ্কের ভিতর!
তারা বলে আমি নাকি অসময়ে জন্মানো বিলুপ্ত পাখি,  
চুপিচুপি দুই একজন দেয় মন্ত্রণা,
গৃহত্যাগী হয়ে যেন ফসিলের যাদুঘরে বসে থাকি
চুপচাপ!  
অথচ আমিও তো পড়েছি তাদের সাথে শিশুশিক্ষা
ও ধারাপাত!

আজকাল মনে হয় আমি একটা ক্রমবর্ধমান জিরাফ,
লম্বা গলা ছোপ ছোপ কালো ধোঁয়া মেখে,
অপসৃয়মাণ আলোর মতো উঠে যাচ্ছে অনেক উঁচুতে!  
হাত পা গুলো মিহি বালুর মতো ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে,
পড়ে যাব যাব করেও দাঁড়িয়ে আছি!
বাকী সবাই পাগলা ট্যাক্সির মতো দিগন্তে ছুটছে,
মানুষেরা ভেবেছিল আমি পোষা বিড়ালের কেউ হই,
রেখেছিল ছোট্ট আয়েশী খাঁচায়!
অথচ এখন আমি কর্কট রোগের মতো উদ্ভট পাহাড়,
শুধু বাড়েনি পরিধি দমবন্ধ খাঁচার!     

মোট পড়েছেনঃ ১,০৫৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১০টি মন্তব্য

  1. মনমানসিকতা আমাদের পরিবর্তন হয় , আমরা বেড়ে উঠি লকলকিয়ে কিন্তু পরিধিটা সেইরকম খাঁচা বন্দী ই থেকে যায়। আমাদের ভাবনার সাথে অন্যের ভাবনার মিল কখনোই হবে না। কিন্তু তাই বলে আমাদের নিজস্বতা, স্বকীয়তা হারালে চলবে না। খুব ভালো লাগলো কবিতা। চমৎকার অনুভূতির কথা বলেছো। ভালো থেকো সুস্থ থেকো শুভ কামনা নিরন্তর

মন্তব্য করুন