জাগো কাফেলা

রোকসানা খন্দকার রুকু ৩১ মার্চ ২০২৩, শুক্রবার, ০২:২০:৫১পূর্বাহ্ন সমসাময়িক ২ মন্তব্য

রমজানের রুটিনটা একটু আলাদা হয়। সারাবিকেল রান্না করা, সন্ধ্যায় ইফতার। নামাজ,  খাওয়া আবার তারাবীসহ নামাজ শেষ করতে রাত ১১ টা বাজে। ঘুমুতে যেতে ১১.৩০। এরপর রাত ৩ টার দিকে উঠে বাকি রান্না ও ফজর শেষ করে শোয়া হয়। ৮ টার দিকেই আবার উঠতে হয়।

রাত ১.৩০. কাফেলা দলের উচ্চ চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেল। আপনারা জাগুন,  আপনার পাড়া প্রতিবশীকেও জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করুন। একটা চলে গেল আর একটা এলো। এভাবে কয়েকটার তুমুল চিৎকার।

গত বছর কাফেলার এক ছেলে চাঁদা নিতে এলে তাকে বলেছিলাম, ভাই আমার মা বয়স্ক মানুষ, আমার হার্টের সমস্যা, আমাদের বাড়ির সামনে এলে মাইক বাজানোর দরকার নাই। আর আমি এমনিতেই জেগে যাই। তাছাড়া এলার্ম ঘড়ি আছে। আমি মনে করি আপনাদের এতো চিৎকার করার দরকার নাই।

ছেলেটি বললো, আপনার ইমানে সমস্যা আছে।
– ভাই, সমস্যা না কঠিন সমস্যা আছে । দয়া করে ঘুমাতে দেন। ঘুমও ইবাদত।

পরদিন থেকে সে আর রাস্তা দিয়ে শুধু যায় না। মাইক ঘুরিয়ে কয়েকমিনিট দাঁড়িয়ে সে আমাদের বাড়ির সামনেই চিৎকার করে। রোজার বাকি দিন আর ঘুমোতে দেয়নি।

বাজার করতে গেছি। দেখি কাফেলার সেই ছেলে আরাম করে পা তুলে চা, পরোটা, বুট, বুন্দিয়া খাচ্ছে। অধিকাংশই এলাকার জোয়ান ছেলেদের উদ্যোগে এই কাফেলার দল। তারা রাতভর দাপাদাপি করে মাইকে চিৎকার করে নামাজী ও রোজাদারদের ঘুম নষ্ট করছে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুমিয়ে গোসল সেরে জম্পেশ খানাপিনা সারছে। তারা রোজা রাখে না, নামাজও পড়ে না। অথচ রমজান মাসের চিৎকারের বদৌলতে বিরাট অংকের চাঁদা উঠায়।

এখন ঘরে ঘরে রাইস কুকার, কারী কুকার, গ্যাসের চুলা, ওভেন। এছাড়া মোবাইল ফোনের এলার্ম। অনায়াসে একজন মানুষ উঠে শেষ রাতের সেহরী সারতে পারে। তাহলে দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে ধর্মের নামে এই অধর্ম ব্যবসা কেন??এসব ডাকাডাকি বন্ধ হোক! জনগন অনেক সচেতন তারা নিজের মতো উঠে নিজেকে গুছিয়ে নিতে ভালোই জানে।

ছবি- নেট থেকে। 

৩৪১জন ২৯৬জন
0 Shares

২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ